চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ , ২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ফেনী নদীতে বারুনী স্নানোৎসব নিষিদ্ধ করলো প্রশাসন

প্রকাশ: ১৯ মার্চ, ২০২০ ৪:৩৯ : অপরাহ্ণ

 

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

আগামী ২২ মার্চ রামগড়-সাব্রুম সীমান্ত নদী ফেনী নদীতে দুই বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বারুনী স্নানোৎসব দিনক্ষণ নির্ধারিত হলেও বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস চড়াচড়িতে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনসাধারণের নিরাপত্তায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সকল পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

পাশাপাশি স্থানিয় পর্যায়ে সব ধরণের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয় তারই অংশ হেসেবে ফেনী নদীতে ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা নিষিদ্ধ করেছে রামগড় উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এ স্নানোৎসব নিষিদ্ধ করে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গণমাধ্যমে জানান।

জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই চৈত্রের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতি বছরই ফেনী নদীতে বারুণী স্নানে মিলিত হন দুই দেশের লক্ষাধিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও সাধারণ দর্শনার্থী মানুষ। তারা পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য পূজা অর্চনা করেন এখানে। সকাল থেকেই নদীর দুই তীরে পূজা আর্চনায় বসেন দুই দেশের পুরোহিতরা। পূর্ব পুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা ছাড়াও নিজের পূণ্যলাভ, পাপ ও পংকিলতা থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ফেনী নদীর বারুণী স্নানে ছুটে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই নয়, এদিন সাবেক মহকুমা শহর রামগড় পরিণত হয় মুসলিম, ত্রিপুরা, মারমা, চাকমাসহ সকল সম্প্রদায়ের লাখো মানুষের মিলনমেলায়। দু’দেশে অবস্থানকারী আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এখানে ছুটে আসতে দেখা যায়।

রামগড় শ্রী শ্রী দক্ষিনেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দির কমিটির সভাপতি শ্যামল রুদ্র বলেন, বৃহত্তর মানব জাতির কল্যাণে বারুনী স্নানোৎসবে জনসমাগম এড়াতে এটি প্রশাসনের ভালো উদ্যাগ। তিনি আরো বলেন, এখন সবার উচিৎ করোনা মহামারি রোধে নিজে সচেতন হওয়া সরকারকে সহযোগীতা করা।

রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম বদোরুদ্দোজা জানান, সবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বারুনী মেলাসহ সব ধরণের গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

Print Friendly and PDF

———