চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০ , ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সেই এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার, হচ্ছে বিভাগীয় মামলা

প্রকাশ: ২৮ মার্চ, ২০২০ ১১:৫৮ : পূর্বাহ্ণ

যশোরের মণিরামপুরের চিনাটোলা বাজারে মাস্ক না পড়ায় প্রবীণ ব্যক্তিদের কান ধরিয়ে সাজা দেওয়া সেই সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

শনিবার সকালে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রবীণদের কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে ইউসুফ হারুন বলেন, ‘তিনি এ কাজ করতে পারেন না। ঘটনাটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

সাইয়েমা হাসানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ। তিনি জানান, ‘সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের এভাবে সাজা দেওয়া মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই এখতিয়ার আমাদের নেই। তার (এসিল্যান্ড) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে যশোরের মণিরামপুরের চিনাটোলা বাজারে অভিযান চালান উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এসিল্যান্ড সাইয়েমা হাসান। তার সঙ্গে পুলিশ সদস্যসহ স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনও ছিলেন। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে সাইকেল চালিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধকে আটকান ভ্রাম্যমাণ আদালত। আরেক বৃদ্ধ তরকারি বিক্রি করছিলেন। মাস্ক না থাকায় পুলিশ সদস্যরা ওই দুই বৃদ্ধকে ধরে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করলে তিনি তাদের কান ধরিয়ে রাখেন। এসময় তাদের সাজার বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগত মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে একইভাবে আরেকজন প্রবীণ ভ্যানচালককে সাজা দেন। সেটিও মুঠোফোনে ধারণ করেন। এছাড়া পরবর্তীতে অপর এক ভ্যানচলককে অনুরূপভাবে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন।

ওই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এমন কাজের নিন্দা করেন। ক্ষুব্ধ হন স্থানীয়রাও। একটি হ্যাকার দল মণিরামপুর উপজেলার ওয়েবসাইটি হ্যাক করে কভারে মণিরামপুরের বিভিন্ন ঐতিহ্যের ছবি বাদ দিয়ে প্রবীণ ব্যক্তিদের কানধরানোর একটি ছবি জুড়ে দেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তারা সাইটটি হ্যাক করেছে বলেও দাবি করেন।

একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডে বিস্ময় প্রকাশ করে অনেকে তার শাস্তি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সাইয়েমা হাসানের মুঠোফোন নম্বরে শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সকালে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি মুঠোফোনটি বন্ধ করে রেখেছেন।

Print Friendly and PDF

———