চট্টগ্রাম, রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০ , ১৫ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক কারাগারে, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

এম মাঈন উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৭:৫৩ : অপরাহ্ণ

ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় আজিজুল হক ওরফে মানিক নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদ এই আদেশ দেন।

আজিজুল হক মানিক ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আজিজুল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। মানিক চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ায় খুশিতে ঘোপালে মিষ্টি বিতরণ করেছে এলাকাবাসী।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, নগরের হালিশহর থানার ইয়াবা উদ্ধারের একটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা নাকচ করে দেন। পরে আসামি আজিজুল হককে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর নাম রেহেনা আক্তার সুমি। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক মামলায় আজিজুল হককেও আসামি করা হয়।

ইয়াবা আটকের ঘটনায় হালিশহর থানার এএস আই আবুল হোসেন বাদি হয়ে ফেনী জেলা সদরের ধর্মপুরের রামপুর এলাকার মোঃ মোস্তফার মেয়ে রেহানা আক্তার সুমিকে (৩৫) এক নম্বর আসামী করে ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আমিন শরীফের পুত্র ঘোপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিুল হক মানিক (৪৫) ও ইকবাল হোসেনকে (৩৮) আসামী করে তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছর পূর্বে ইয়াবাসহ আটককৃত রেহানা আক্তারের স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয়ে যায়। এরপর ঘোপাল ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকের মাধ্যমে তা সীমাংসা হয়ে কিস্তিতে রেহানার ধার্য্যকৃত মোহরানার টাকা পরিষদের সীদ্ধান্ত হয়। ধার্য্যকৃত টাকা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেহানা বুঝে নেবে। টাকার জন্য বেশ কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদে যাওয়া আসার পর মানিক চেয়ারম্যানের সাথে রেহানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাকে বিয়ের করার আশ্বাসও দেন চেয়ারম্যান। কয়েকদিন পূর্বে ফেনী গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ময়মনসিংহের হালুওয়াঘাট উপজেলায় গত ৮ ডিসেম্বর ছাগলনাইয়া সমিতি বাজারে গুলিতে নিহত সিরাজ হত্যা মামলার আসামীদের ধরতে গেলে সেখানে আসামীদের সাথে রেহানাকে পাওয়া যায়। তখন থেকে মানিক চেয়ারম্যানের সাথে রেহানার প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হয়। এরপর থেকে রেহানা বিয়ের জন্য চেয়ারম্যানকে চাপ দিচ্ছিলো। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাকে বিয়ে করার কথা বলে চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যায়। এরপর রেহানা ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিশহর থানার উপপরিদর্শক (এস আই) শহীদ উল্লাহ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ওই নারী জানিয়েছেন ইয়াবাগুলো আজিজুল হকের। এ জন্য তাঁকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু ধরা যায়নি। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির দিনে পুলিশের প থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।

Print Friendly and PDF

———