চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০ , ১৭ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির ফোঁটা থেকে যেভাবে বিদ্যুৎ হবে

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৩৩ : অপরাহ্ণ

“কাগজ আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ প্রেমের কবিতা লিখে রেখেছে আকাশে। সেই ভালোবাসার কবিতা এই বৃষ্টি, এই ভরা বর্ষা”- লাইনগুলো কবি মহাদেব সাহা লিখেছেন।বৃষ্টি নিয়ে কত কাব্যই না হয়েছে এভাবে!

এখন সেই বৃষ্টির ফোঁটা নবায়নযোগ্য শক্তির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা। তাঁরা বলছেন, বিশেষায়িত একটি জেনারেটরের মাধ্যমে বৃষ্টির ফোঁটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব!

এই বৃষ্টি একধরনের তরল। যা আকাশ থেকে মাধ্যাকর্ষণের টানে ভূপৃষ্ঠের দিকে পড়ে। প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের ধারণাগত বর্ণনা অনুযায়ী, পৃথিবী পৃষ্ঠের জলাধার থেকে সূর্যতাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উপরে ওঠে যায় এবং তা হাল্কা হওয়ার কারনে বাতাসের মাধ্যমে ভেসে বেড়ায়।

এই ভেসে বেড়ানোর সময় কোন এলাকার বাতাসের তাপমাত্রা কমে গেলে সেই বাষ্পীভূত পানি যা মেঘের আকারে ভেসে বেড়াতো তা ঘনীভূত হয়ে পুনরায় পানিতে রূপান্তরিত হয়ে বৃষ্টির আকারে পৃথিবীতে নেমে এসে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

বিচিত্র জৈবব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি সচল রাখতে ও কৃষি সেচব্যবস্থা সচল রাখতে বৃষ্টির প্রয়োজন হয়। এখন হয়তো নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে এই বৃষ্টি।

নতুন সব শক্তির উৎস খুঁজতে মানুষ যখন হন্যে হয়ে ঘুরছে, ঠিক তখনই পৃথিবীর নানা প্রান্তে আবিষ্কৃত হচ্ছে নতুন সব শক্তি তৈরির উপায়। কখনও প্রকৃতি, কখনও নিজস্ব চিন্তা- মানুষ নিত্যনতুন উপায়ে শক্তির খোঁজ চালিয়েছে বছরের পর বছর। আর সফলও হয়েছে।

তেমন একটি সফলতার নাম হয়তো বৃষ্টির ফোঁটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন!এসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, তাঁদের উদ্ভাবিত নতুন এই জেনারেটর বৃষ্টির কণা থেকে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি থেকেই ১৪০ ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ বিদ্যুৎ দিয়ে ১৪০টি এলইডি বাল্ব জ্বালানো সম্ভব।
এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন হংকংয়ের সিটি ইউনিভার্সিটির যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক অয়ানকাই। তিনি বলেন, ‘আমরা গবেষণায় পেয়েছি—১০০ মাইক্রোলিটারের এক ফোঁটা বৃষ্টির পানি ১৫ ইঞ্চি ওপর থেকে পড়লে ১৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।’

গবেষকরা গত দুই বছর ধরে ওই জেনারেটর তৈরি করেন। এ জেনারেটরের কাঠামো অনেকটা ফিল্ড-ইফেক্ট ট্রানজিস্টরের মতো। বৃষ্টির পানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলেও নিরবচ্ছিন্নভাবে তা কাজে লাগানো যাবে কি না—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ড্রপলেট-ভিত্তিক এই জেনারেটর তৈরির গবেষণায় অধ্যাপক অয়ানকাই ছাড়াও যুক্ত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিংকনের অধ্যাপক শিয়াও চেং, চীনা বিজ্ঞান একাডেমির অধ্যাপক ওয়াং ঝং লিন।

প্রয়াত কন্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী গেয়েছিলেন, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি..।’ বৃষ্টির ফোঁটা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া দেখে হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কোন কন্ঠে ধ্বনিত হবে ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে জ্বলতে শিখেছি…।’

লেখক- ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), ভাইস চ্যান্সেলর অফিস, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। সিটিজি টাইমস ডটকম-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই সময়ের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখার জন্য সিটিজি টাইমস ডটকম কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Print Friendly and PDF

———