চট্টগ্রাম, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ , ২৩শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আপনার পাশে আরো আছে কে? ভিনগ্রহের প্রাণী!

ফজলুর রহমান প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:০৩ : অপরাহ্ণ

লেখক- ফজলুর রহমান

১৮৪৮ সালের দিকে স্কটল্যান্ডের চার্চের একজন আচার্য ছিলেন থমাস ডিক তিনি একই সাথে বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তিনি সৌরজগতে কত ভিনগ্রহের প্রাণী আছে তার একটি শুমারি করার উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে তখন প্রতি স্কয়ার মাইলে ২৮০ জন বসবাস করতো ইংল্যান্ডের জনবসতির ঘনত্বের সাথে তুলনা করে তিনি হিসেব দিয়েছিলেন যে তাহলে মহাশূন্যে ২২ হাজার কোটি অধিবাসী রয়েছে

এই অধিবাসী বা এলিয়েন-এর খোঁজ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে করে যাচ্ছে বিশ্ব কেউ বলেছেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না কোথাও এলিয়েন বলে নিশ্চয়ই কিছু আছে, আবার কেউ বলেছেন, এই দাবি একেবারেই অবাস্তব

এরকম কল্পকাহিনী নিয়ে অনেক সাহিত্য চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। কিন্তু ভিনগ্রহ থেকে আসা এরকম কোন প্রাণীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নি আজ পর্যন্তকিন্তু অনেকেই আছেন, যারা বিশ্বাস করেন এলিয়েনের অস্তিত্বের কথা শুধু তাই নয়, তারা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এরকম কিছু এলিয়েন কোন এক সময় নেমে এসেছিল এবং সরকার তাদেরকে নেভাডার এরিয়া ৫১ নামের প্রত্যন্ত একটি এলাকায় লুকিয়ে রেখেছে !

এতোক্ষণ তো গেল অনুমান বা কল্পগাঁথা। অবশেষে গবেষণাও বলতে শুরু করেছে পৃথিবীতেও রয়েছে ভিনগ্রহের প্রাণীদের বসবাস! এমনও হতে পারে আমাদের মাঝেই, আশেপাশেই ভিনগ্রহের প্রাণীরা রয়েছে। অথচ আমরা তাদের দেখতে পাই না। সম্প্রতি দাবি ব্রিটেনের প্রথম মহাকাশচারী হেলেন শারমানের। 

পৃথিবী ছাড়াও নাকি মহাবিশ্বে আরও বুদ্ধিমান প্রাণী রয়েছে। অথবা ভিনগ্রহের প্রাণীদের মহাকাশ যান দেখেছেন বলেও অনেকে দাবি করেন। তবে এবার এসব কিছু ছাড়িয়ে ব্রিটেনের মহাকাশচারী হেলেন শারমান দাবি করলেনপৃথিবীতেই আমাদের মাঝে হয়তো রয়েছে ভিনগ্রহের প্রাণী

হেলেন ১৯৯১ সালে সোভিয়েত মির স্পেস স্টেশনে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, মহাবিশ্বে কোটি কোটি গ্রহতারা রয়েছে। সেখানে কোথাও অন্য কোনোরূপে প্রাণ থাকতে পারে। হতে পারে সেই প্রাণীরা আমারআপনার মতো কার্বন, নাইট্রোজেন দিয়েই তৈরি, আবার অন্য কোনোরকমও হতে পারে

তবে এরপর হেলেন যা বললেন তা চমকে দেয়ার মতো। হেলেন বলেন, এমনও হতে পারে আমাদের মাঝেই ভিনগ্রহের প্রাণীরা রয়েছে। অথচ আমরা তাদের দেখতে পাই না। 

১৯৯১ সালে রসায়নবিদ হেলেন মাত্র ২৭ বছর বয়সে স্পেস মিশনে গিয়েছিলেন। কম বয়সে মহাকাশে যাওয়াদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বিমান থেকে অজ্ঞাত মহাকাশ যান দেখা গেছে বলে একাধিকবার দাবি উঠেছে। তাদের সপক্ষে নানা ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেই ভিডিও নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যমে কাটাছেঁড়াও হয়েছে

এক সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তা একটি তদন্তমূলক গবেষণার নেতৃত্ব দেন। ২০১৭ সালে সেই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিলআনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট (ইউএফও) বা ভিনগ্রহের প্রাণীদের মহাকাশ যানের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা খুঁজে দেখা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস এমনও প্রমাণ রয়েছে, যা থেকে বলা যায় পৃথিবীতে ভিনগ্রহের প্রাণীরা আসতে পারে

ভিনগ্রহের প্রাণী অর্থাৎ এলিয়েনদের নিয়ে বছর কয়েক আগে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব গবেষক স্টিফেন হকিং  মন্তব্য করেছেন, ‘মহাবিশ্বে আন্তঃমহাজাগতিক প্রাণী বা এলিয়েনের অস্তিত্ব থাকতে পারে বটে তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা পৃথিবীর জন্য উল্টো ফল দিতে পারে।’

হকিংয়ের মতে, এলিয়েনরা যদি বুঝতে পারে, পৃথিবী প্রযুক্তিগতভাবে তাদের চেয়ে অনুন্নত, তখন তাদের দস্যুপনার শিকার হবে মানুষ। আর তাতে মানুষের জন্য নেমে আসবে অনিবার্য বিপর্যয়। বিপর্যয়ের ধরণটা তিনি উদাহরণ সহযোগেই দেখিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, কলম্বাস আমেরিকা আবিস্কারের পর তা যেমন আদিবাসী আমেরিকানদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি। ইউরোপীয়দের আজকের অপরিমেয় সম্পদের বেশিরভাগই তো লুটের মাল; আফ্রিকা, এশিয়া আমেরিকার মানুষদের ঠকিয়ে, অত্যাচার করে আহরণ করা। তেমনি এলিয়েনরা পৃথিবীতে এলে তা আমাদের জন্যও হুমকির কারণ হবে। এলিয়েনরা পৃথিবীর সম্পদ লুটে নিয়েও যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই বিজ্ঞানী। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলাই মানুষের জন্য ভালো হবে কারণ, বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে তারা যে গ্রহেই যাবে তাতেই দখল প্রভুত্ব কায়েম করতে পারে

হকিং আরো বলেছিলেন,এলিয়েন দেখতে কেমন হবে সেটা বের করাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ, কারণ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীনির্ভর ছবিতে প্রচলিত চেহারার বাইরে যে কোনো আকারেরই তারা হতে পারে।’ তাহলে এতো সহজে সব হিসেব মিলানো যাবে না। আমাদের আশেপাশে যে কোন আকৃতিতেই থাকতে পারে এলিয়েনরা! কেবল ভূত বা মানুষ নয় । অন্য কোন বেশ ধারণ করেও। হয়তো কোন বেশ না নিয়েও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে বলা যায়, দিনদিন ‘বাস্তব’ হচ্ছে মহাজাগতিক কল্পকাহিনীতে থাকা এলিয়েন।

লেখক – ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

Print Friendly and PDF

———