চট্টগ্রাম, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

উহানফেরত ৩১২ জন বাড়ি ফিরছেন কাল

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৯:১৬ : পূর্বাহ্ণ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চীনের উহান থেকে যে ৩১২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে আগামীকাল শনিবার তারা বাড়ি ফিরছেন। গতকাল ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. জাহিদ মালেক স্বপন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফেরেন এই ৩১২ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩০১ জন এখন আশকোনা হজক্যাম্পে আছেন, বাকি ১১ জন আছেন ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চীন থেকে ফেরা এই বাংলাদেশিরা ‘কোয়ারেন্টিনের শেষ পর্যায়ে’ আছেন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি তাদের পর্যবেক্ষণের ১৪ দিন পূর্ণ হবে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ তারিখ আমরা তাদের ছেড়ে দেব। এখানে আর কোনো সমস্যা নেই, তাদের সবাই ভালো আছেন।’

এদের কারও মধ্যেই করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি বলে জানিয়ে আসছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।

করোনাভাইরাস নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষানিরীক্ষায় প্রমাণ হওয়ার আগে এ ধরনের কথা ছড়ানো ঠিক নয়।’

গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। রংপুরে একজন ভর্তি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নানা অসুখ-বিসুখ নিয়ে লোকজন ভর্তি হয়। আমাদের কখনোই মনে করা উচিত না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। যে পর্যন্ত প্রমাণ না হয় তার আগ পর্যন্ত তাকে যেন এটা আমরা না বলি। এ ধরনের কথা বললে আতঙ্ক ছড়ায়।’

গত বছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। চীন থেকে বিভিন্ন দেশে ভাইরাস ছড়াতে থাকায় এ ভাইরাস নিয়ে বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে ফেরত আনে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৫০ এবং এখন পর্যন্ত দেশটিতে সবমিলিয়ে ৬০ হাজারের মতো মানুষের শরীরের এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। আর চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত ফিলিপিন ও হংকংয়ে দুই চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।

Print Friendly and PDF

———