চট্টগ্রাম, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিহত ১৫ নারী-শিশু : উদ্ধার- ৭২ জন : নিখোঁজ প্রায়- ৫১

‘দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবির থেকে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন তারা’

আমান উল্লাহ কবির, টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ৬:৪৪ : অপরাহ্ণ

সাগর পথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। নিহতের মধ্যে ১১জন নারী ও ৪ শিশুসহ ১৫ জন রোহিঙ্গা। দালালের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবির থেকে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন তারা।

এছাড়া জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশী নাগরিক। কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে মানবপাচারকারি দুই দালালকে আটক করেছে।

জানা যায়, ১১ ফেব্রুয়ারী (মঙ্গলবার) ভোরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পূর্বজোনের সেন্টমার্টিন বিসিজি ক্যাম্পের একটি দল বাহারছড়া উপকূল হয়ে ছেড়ে আসা ২টি ট্রলার সেন্টমার্টিনের দক্ষিন-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অদূরে দূঘর্টনার কবলে পড়ে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে উদ্ধার অভিযানে যায়।

এসময় ১টি ট্রলার ডুবে গেলেও অপর ১টি ট্রলার এবং সাগর হতে ভাসমান ১১জন নারী, ৪জন শিশুর মৃতদেহ এবং ৭২জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে। এদের মধ্যে ৪৬ জন নারী ও ২৬ জন পুরুষ। আবার অনেকে সাঁতরিয়ে উপকূলে উঠে গা ঢাঁকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মালয়েশীয়াগামী খালেদা বেগম (৩৫) জানিয়েছেন, তার স্বামী মালয়েশিয়া রয়েছেন। সেখানে যেতে তার ছেলে মো.শাহাদ ও মেয়ে নাছিমাকে নিয়ে গত রবিবার রাতে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে সাগর পথে রওয়ানা দেয়।

রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ট্রলার ডুবে গেলে সে ডুবন্ত টলারের কাঠ ধরে কোনমতে প্রানে বাঁচলেও দুই সন্তানকে চিরতরে হারায়।

উদ্ধারকৃতরা আরো জানায়, তাদের সাথে প্রায় ১শ ৩৮ জন যাত্রী ছিল। তারা সকলে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং কয়েকজন বাংলাদেশী। এদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরুষ রয়েছে ।

কোস্টগার্ডের অপর একটি আভিযানিক দল ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার এবং সাগরে জীবিত বা মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। মৃতদেহ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সেন্টমার্টিনস্থ নৌ-বাহিনীর লেঃ কমান্ডার এসএম জায়েদুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ১৫ জনের মৃতদেহ এবং ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে সেন্টমার্টিনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর টেকনাফে নিয়ে আসার প্রক্রিয়াধীন এবং এখনো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কোস্ট গার্ডের সেন্টমার্টিনস্থ উদ্ধারকারি অফিসার মো. দেলোয়ার জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২ জন দালালকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত দালালরা জানিয়েছেন, প্রতিজন মালয়েশিয়াগামী থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

এরা সকলকে টেকনাফ সাগর উপকূলীয় এলাকা বাহারছড়ার নোয়াখালী, জুম্মাপাড়া, কচ্চপিয়া, বাঘঘোনা বাজার, টেকনাফ সদরের রাজারছড়া, লম্বরী, তুুলাতুলি, হাবিরছড়া, মিঠাপানিরছড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট হতে ছোট ফিশিং ট্রলারে করে গভীর সাগরে অপেক্ষামান বড় ট্রলারে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য উঠানো হয়।

Print Friendly and PDF

———