চট্টগ্রাম, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০ , ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কেমন হবে পৃথিবীর বাইরের দেশ আসগারদিয়া?

ফজলুর রহমান প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:১২ : পূর্বাহ্ণ

লেখক- ফজলুর রহমান

মহাকাশের বাসিন্দা হতে চান?  ফর্ম পূরণ করেছেন কি! পৃথিবীবাসী কিন্তু এখনই দিন গুনছে সেই রূপকথার দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য! আসগারদিয়া পৃথিবীর কোনো দেশ নয়। এর অবস্থান পৃথিবীর বাইরে। মহাশূন্যে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে নতুন এ দেশের প্রথম ঘোষণা দেন  রাশিয়ান বিজ্ঞানী ড. ইগর আশুরবেলি। ২০৪৩ সালের মধ্যে মহাশূন্যের বুকে একটি ভাসমান স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে আসগারদিয়ানরা। কৃত্রিম উপগ্রহ যেমন চাঁদের মতো পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে তেমনি আসগারদিয়াও পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে। তাই একে একটি স্যাটেলাইট দেশও বলা যেতে পারে।

আসগারদিয়া একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন দেশ। নাগরিকদের আসগারদিয়ান বলা হবে। ধীরে ধীরে দেশটিকে সম্পূর্ণরূপে নির্মাণ করা হবে। মহাশূন্যে এখনো বসবাস শুরু না হলেও বর্তমানে কয়েক লাখ আসগারদিয়ান নাগরিক ও নিবন্ধনকারী ছড়িয়ে আছে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরে। এসব শহরে তাদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে শক্তিশালী স্থানীয় কমিউনিটি। এসব কমিউনিটির নেতাদের বলা হয় মেয়র। এই দেশের নাম ‘স্পেস কিংডম অব আসগারদিয়া’। তবে রাজতন্ত্র নয়, সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হবে দেশটি।

পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের ওপরে প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটারের মধ্যে বানানো হবে আসগারদিয়া নামের দেশটি। এতে বসবাসকারী সব মানুষকে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার মতো সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ আসগারদিয়া হবে সম্পূর্ণ একটি স্বতন্ত্র জাতি, যারা নাসার পাঠানো মহাকাশ স্টেশন ‘স্পেস প্রোব’-এর মতোই অনির্দিষ্টকাল ভেসে বেড়াবে মহাকাশে।

অ্যারোস্পেস ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের প্রধান এবং ইউনেস্কোর স্পেস সায়েন্স কমিটির প্রেসিডেন্ট প্রখ্যাত রাশিয়ান বৈজ্ঞানিক ড. ইগর আশুরবেলি প্রথম এ ধরনের চিন্তাভাবনা বাস্তবায়নের মহাপরিকল্পনা করেন। তার পরিকল্পনা মতে, তিনি প্রথম পাঁচ বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকবেন এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করা হবে। দেশটিতে একজন প্রধানমন্ত্রী আছেন। এমনকি দেশটিতে ১৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি সচল সংসদও রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এ প্রকল্পটি। অনুমতি পেলেই সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে ভবিষ্যতে মহাকাশকেন্দ্রিক এ রাষ্ট্র ব্যবস্থাটি উৎক্ষেপিত হতে পারে।

আসগারদিয়া সম্পর্কে প্রতিষ্ঠাতা ড. আশুরবেলি বলেন, এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা। এছাড়া মহাশূন্য প্রযুক্তি বিস্তৃতি ঘটানো এবং মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো রকেট থেকে শুরু করে অসংখ্য স্যাটেলাইটের ভাঙা টুকরোর মতো মহাজাগতিক হুমকি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা। একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানো জাতিটির সূচনা হলো মাত্র।

এখানে ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, সব আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পৃথিবীতে ১২ মাসে এক বছর হলেও আসগারদিয়ানদের বছর হবে ১৩ মাসে। এ দেশটির প্রধান দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি হলেও এর আরও ১১টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। এ ভাষাগুলো হলো স্প্যানিশ, মান্দারিন, তুর্কি, ইতালীয়, রুশ, ফরাসি, আরবি, পর্তুগিজ, হিন্দি, জার্মান এবং ফার্সি। ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর পৃথিবী থেকে আসগারদিয়া-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্যে দিয়ে এ দেশের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশটি একটি ছোট্ট ফুটবলের চেয়ে বড় কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে এটিকে মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাশূন্যে রওনা দেওয়ার সময় এর মধ্যে ছিল সে সময় পর্যন্ত ১৮ হাজার আসগারদিয়া নাগরিকের অর্ধ টেরাবাইট ডেটা। এসব ডেটার মধ্যে ছিল আসগারদিয়ার নাগরিকদের নানা পারিবারিক ছবি ও তথ্য। এছাড়াও ছিল দেশটির পতাকার ডিজিটাল নকশা এবং সংবিধান।

আসগারদিয়ার নাগরিকরা নিজেদের আসগারদিয়ান হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আসগারদিয়ার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা করেছে। আপাতত ছোট্ট একটি বাক্সের সমান ‘আসগারদিয়া-১’ স্যাটেলাইটটিকেই আসগারদিয়া দেশ হিসেবে কল্পনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যেই মহাশূন্যে পৃথিবীর কক্ষপথে বসবাস শুরু করবে এই মহাকাশ জাতিটি। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে ইতিমধ্যেই আসগারদিয়ানরা একটি সংবিধান রচনা করেছে। ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই সংবিধানটি কার্যকর রয়েছে। বর্তমানে আরগারদিয়ার প্রশাসনিক সদর দপ্তর অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত। ২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর অ্যারোস্পেস ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ইগর আশুরবেলি আসগারদিয়া নামের দেশটি স্থাপন করার প্রস্তাব করেন। আসগারদিয়ানরা নিজেদের মহাশূন্যের প্রথম জাতি হিসেবে দাবি করেছে।

আসগারদিয়া নামটি নেওয়া হয়েছে নর্স (NORSE) নামের একটি পৌরাণিক কাহিনী থেকে। এ কাহিনীতে আসগারদিয়া হলো মহাকাশের একটি শহর, যেখানে দেবতারা বাস করেন। এ শহরের বাসিন্দাদের আসগারদিয়ান (ASGARDIAN) বলা হতো। তাদের কাজ ছিল পৃথিবীকে রক্ষা করা। ২০১৩ সালে রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমের একটি অঞ্চলে ভয়াবহ একটি উল্কাপিন্ড আঘাতে সেখানকার ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আসগারদিয়া নামের দেশটি বানানোর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ ধরনের মহাজাগতিক বিপদ-আপদ থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষা দেওয়া, যেভাবে পৌরাণিক আসগারদিয়ানরা রক্ষা করত পৃথিবীকে।

‘দ্য অ্যারোস্পেস ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার’-কে ২০১৩ সালে রাশিয়ান বিজ্ঞানী ইগর আশুরবেলি ‘দ্য আসগারদিয়া ইনডিপেন্ডেন্ট রিসার্চ সেন্টার’-এ (এআইআরসি) রূপান্তর করেন। পরের বছরই এআইআরসি একটি প্রকাশনা শুরু করে, যেখান থেকে নিয়মিতভাবে মহাকাশসংক্রান্ত জার্নাল প্রকাশিত হয়। আশুরবেলি ছিলেন এ প্রকাশনার প্রধান সম্পাদক। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আশুরবেলিকে ন্যানোসায়েন্স এবং ন্যাটোটেকনোলজিতে অবদানের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কৃত করে। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত এআইআরসি সোলার সিস্টেম, স্পেসটেকনোলজিসহ পৃথিবীর বাইরে প্রাণীর অস্তিত্ব অনুসন্ধান করে। ২০১৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত ১৫টি মহাকাশ অভিযানে জড়িত ছিল। এ অভিযানগুলোর মাধ্যমে মঙ্গল, শুক্র এবং বুধ গ্রহের ওপর নানা অনুসন্ধান চালানো হয়। নাসার বিখ্যাত আইবিইএক্স মিশনেও এআইআরসি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। ২০১৫ সালে আসগারদিয়া নামে মহাশূন্যে মানবজাতি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৬ সালের ১২ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসে ইগর আশুরবেলির ঘোষণার মধ্য দিয়ে মহাশূন্যের মানবজাতি আসগারদিয়ার গোড়াপত্তন হয়। দাপ্তরিকভাবে এ দেশটিকে ডাকা হয় ‘স্পেস কিংডম অব আসগারদিয়া’ নামে। ২০১৬ সালে মহাকাশ জাতি প্রতিষ্ঠার ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন আহ্বান করা হয়। এ আহ্বানের মাত্র ৪০ ঘণ্টার মধ্যেই আসগারদিয়ার নাগরিক হওয়ার জন্য এক লাখ মানুষ আবেদন করে। তিন সপ্তাহের মধ্যে এ আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ লাখে। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার আবেদনকারীকে আসগারদিয়ার নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি ও সদস্য পদ পাওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে আবেদন জানানো হয়। রচনা করা হয় সংবিধানও। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে আসগারদিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৯০ হাজারে। একই সময়ে নাগরিক হওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল অন্তত ১০ লাখ ৪০ হাজার জন।

মহাশূন্যে আসগারদিয়া জাতির বসবাস মোটেও সহজসাধ্য কোনো কাজ নয়। মহাশূন্যে কয়েক লাখ আসগারদিয়ানের জন্য ভাসমান দেশ গড়া বিপুল খরচের একটি ব্যাপার। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের প্রকল্পে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। বাস্তবতার নিরিখে আসগারদিয়া মহাশূন্যের স্বাধীন জাতি প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত তাদের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করছে। ধারণা করা হচ্ছে, মহাশূন্যে মানুষের বসতি নির্মাণ প্রকল্পের বিপুল খরচ জোগাড় করতেও সক্ষম হবে সম্ভাব্য দেশটি। বসতি নির্মাণের পর দুটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে পরিচালিত হবে আসগারদিয়ার অর্থনীতি। প্রথমত সাংবিধানিকভাবে আসগারদিয়ার জনগণ দেশটির অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার মালিক হবেন। জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকবে সরকার। সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেনের দালাল এবং জিম্মাদার হবে সরকার। দ্বিতীয়ত আসগারদিয়া জাতির লভ্যাংশ বিতরণে এর সব নাগরিক অংশ নেবে। আসগারদিয়ার মুদ্রার নাম হবে সোলার।

এখনো মহাশূন্যে বসবাস শুরু না করলেও পৃথিবী থেকেই পরিচালিত হচ্ছে আসগারদিয়া রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা। সংবিধান অনুযায়ী, দেশটির সরকার ব্যবস্থাকে সংসদ, সরকার এবং বিচার বিভাগÑ এ তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১৪৬ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে আসগারদিয়ার পার্লামেন্ট। ২০১৭ সালের ২৫ জুন ইগর আশুরবেলিকে প্রেসিডেন্ট বা ‘দ্য হেড অব নেশন’ হিসেবে নির্বাচিত করেন আসগারদিয়ানরা। এছাড়াও আসগারদিয়ার রয়েছে নিজস্ব জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং সংবিধানও। আসগারদিয়ার সংসদীয় আসনের সাংসদদের ভোটে নির্বাচিত হন একজন সংসদীয় চেয়ারম্যান বা প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ভোটের মাধ্যমে তারা একজন প্রশাসনিক চেয়ারম্যানও নির্বাচিত করেন। বর্তমানে আসগারদিয়ার সংসদীয় চেয়ারম্যান হলেন ল্যামবিট ওপিক।

দেশটির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হলেন প্রেসিডেন্ট বা ‘হেড অব দ্য নেশন’। পাঁচ বছর পরপর এ পদের জন্য একজনকে নির্বাচিত করা হয়। চাইলে যেকোনো সময় সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পারেন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া তার ডিক্রি জারি করার ক্ষমতা রয়েছে। দেশটির সরকার ব্যবস্থা এবং সব আসগারদিয়ান এ ডিক্রি মানতে বাধ্য থাকবে। বর্তমানে এ পদে অবস্থান করছেন আসগারিয়ান জাতির প্রতিষ্ঠাতা ড. ইগর আশুরবেলি। সরকারপ্রধানের কাজ হলো দেশটির ১২ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন এবং এর পরিচালনা করা। দেশটির প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। তার অধীনে চারটি বিচার বিভাগীয় প্যানেল থাকে। এ প্যানেলের সদস্যদের নির্বাচন করে সংসদ। বর্তমানে আসগারদিয়ার প্রধান বিচারপতি হলেন ঝাও ইয়ুন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের আইন বিভাগের প্রধান। ২০১৮ সালের ২৪ জুন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত দেশটির প্রথম সংসদীয় অধিবেশনে জাও ইয়ুনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসগারদিয়ার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আবেদন করা হয়েছে চীন থেকে। তারপরই আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কের জনগণ। যুক্তরাজ্য আছে পাঁচ নম্বর অবস্থানে আর আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত রয়েছে আট নম্বরে। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, মহাকাশের যেকোনো বস্তুর ওপর সব রাষ্ট্রের সমান অধিকার রয়েছে। এজন্যই আসগারদিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদন করতে পারবে এই ঠিকানায় (https://asgardia.space/en/join)। আবেদন করার জন্য তাদের একটি ইমেইল ঠিকানা হলেই চলবে।

আসগারদিয়ানদের সংবিধান অনুসারে, দেশটির নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। পৃথিবীর জন্মসূত্র, আবাস, নাগরিকত্ব, বর্ণ, জাতীয়তা, লিঙ্গ, ধর্ম, ভাষা, আর্থিক অবস্থা এবং ইতিহাসভেদে তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। কেউ যদি আসগারদিয়ার নাগরিক হতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে দেশটির পুরো সংবিধান পড়তে হবে। সংবিধানের সঙ্গে একমত প্রকাশ করলে তবেই দেশটির নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে আবেদনকারীকে। কেউ যদি আসগারদিয়ার নাগরিক হতে চায় তবে অবশ্যই তার বয়স ১৮ বা তার বেশি হতে হবে। জানা যায়, আসগারদিয়ার নাগরিক হতে চেয়ে আবেদনকারী বাংলাদেশিদের সংখ্যা বর্তমানে পাঁচ শতাধিক। এছাড়াও নাগরিকত্ব পাওয়ার বিভিন্ন ধাপে আবেদনকারীদের কয়েকটি আইকিউ টেস্টও নেওয়া হবে। সেখানে প্রাপ্ত ফলাফলও বিশেষ ভূমিকা রাখবে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে। এছাড়া যাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবন ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তারা অগ্রাধিকার পাবেন।

আসগারদিয়ার প্রধান তিনটি লক্ষ্যমাত্রা হলো- মহাশূন্যের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা, পৃথিবীর সুরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া। দেশটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশকেও মহাকাশ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত গবেষণায় সাহায্য করবে। এখন আমরা অপেক্ষা করি, ‘ কী হয়’। অথবা ‘ না হয়’। তবে একটাই নিশ্চিত,  ‘সবই গবেষণা প্রযুক্তির জয়’। ‘

লেখক: ফজলুর রহমান, ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), ভাইস চ্যান্সেলর অফিস, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

Print Friendly and PDF

———