চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ , ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭

তিতুমীরের আস্তানা খ্যাত আনোয়ারার ঐতিহ্যবাহী ছুরুতবিবি চৌধুরানী মসজিদ

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:৫৩ : পূর্বাহ্ণ

বারআউলিয়ার পুণ্যভূমি খ্যাত চট্টগ্রামে পুরাতাত্তি্বক কিছু স্মৃতিচিহ্ন আছে মসজিদকে ঘিরে। ২০০ থেকে ৭০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের এসব স্মারকও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়ার পথে। ঐতিহ্যবাহী এমনই এক মসজিদ হচ্ছে আনোয়ারার ঐতিহ্যবাহী ছুরুতবিবি চৌধুরানী জামে মসজিদ। 

আনোয়ারার ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঐতিহ্যবাহী ছুরুতবিবি চৌধুরাণী জামে মসজিদ। উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স পেরিয়ে সামান্য দক্ষিণে গেলেই আমীর মোহাম্মদ চৌধুরীর বিশাল দীঘি, যার স্থানীয় নাম আমীর খাঁ দীঘি। এই দীঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ঐতিহাসিক ছুরুত বিবি মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন ছুরুত বিবির দীঘি। ছুরুত বিবি দীঘির পশ্চিমে, আমীর খাঁ দীঘির দক্ষিণে শেখ রাজার ভিটে নামে এক বসত ভিটের পরিচয় পাওয়া যায়।

এই শেখ রাজা সম্পর্কে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সংগৃহীত জনশ্রুতিতে জানা যায়, ১৫৭৫ সালে দূর্ভিক্ষ ও মহামারিতে গৌড় রাজ্য ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলে গৌড় রাজ্যের সেনাপতি শেখ মোহাম্মদ আদম গৌড়ী গৌড়রাজ্য ত্যাগ করে দেয়াঙ রাজ্যের অন্তর্গত শোলকাটা গ্রামে সপরিবারে বসতি স্হাপন করেন। এ বংশের একজন জমিদার ছিলেন শেখ আমির মুহাম্মদ চৌধুরী।

রাখাইন মগ রাজত্বের সময় মাগন মুন্দার একজন বড় জমিদার ছিলেন। ১০৫১ মঘী সনের এক “একরারনামা ” মূলে জানা যায় আমীর মুহাম্মদ চৌধুরীর উপর জমিদারির ভার ছিল।

এই আমীর মুহাম্মদ চৌধুরী ই আরাকান রাজসভার কবি আলাওল এর কন্যা ছুরুতবিবি বা শুক্কুর বিবিকে বিয়ে করেন। তাঁর নামেই এ ছুরুত বিবি মসজিদ নির্মাণ করেন। সঠিক দিন সাল জানা না গেলে ও মোগল আমলে চট্টগ্রামের নবাব অলিবেগ খাঁ ‘র শাসনামলে (১৭১৩-১৭১৮) এ মসজিদ নির্মিত।

আনোয়ারার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ছুরত বিবি চৌধুরাণী জামে মসজিদ; শহীদ তিতুমীরের আস্তানা হিসেবে খ্যাত ।

মসজিদের পার্শ্বে ছিল অসংখ্য গণকবর।  সেসব গণকবরের পাশে আছে  শহীদ বেদী। মসজিদটি আনোয়ারার জনগণের কাছে আকর্ষণীয়। দূর-দূরান্ত থেকে শুক্রবার মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য মানুষের ঢল নামে।

জনশ্রুতি আছে,  এ মসজিদে জ্বিনের গায়েবি নামাজ ও আজান হতো। এই মসজিদকে ঘিরে আরো অনেকরকম জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।

ছুরুতবিবি জামে চৌধুরাণী মসজিদে জ্বীনের উপস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্থানীয় ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস জনাব মুহাম্মদ আবদুর রহমান হুজুর বলেন, এ মসজিদে মুসল্লি কাতারের একপাশে সম্মানিত মুসল্লি জীনদের জন্য জায়গা রাখা হয়। এ মসজিদে এখনো রাতেরবেলা কাউকে একা একা অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয় না।

পুনশ্চ: চট্টগ্রামের প্রথম ও শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমসে ”শুক্রবারের বিশেষ প্রতিবেদন” এ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় মসজিদ গুলোর উপর বিশেষ প্রতিবেদন। আপনি ও লিখতে পারেন আপনার পাশের ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় মসজিদ নিয়ে। ছবি সহ লিখা পাঠাবেন আমাদের মেইলে। 

আরো… 

Print Friendly and PDF

———