চট্টগ্রাম, রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি শুরু

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ১০:৫৮ : পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পের বহুল আলোচিত অভিশংসন শুনানি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১২টায় সিনেট অধিবেশনে শুনানি শুরু হয়।

এ সময় ডেমোক্রেটরা অভিশংসনের পক্ষে নতুন প্রমাণ সংগ্রহে বারবার প্রচেষ্টা চালায়। তবে তা নাকচ করেছে সিনেট।

দ্রুত শুনানি কার্যক্রম শেষ করার উদ্দেশ্যে সোমবার দু’দিনের কর্মসূচি উত্থাপন করেন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককলিন।

এই দু’দিনে ট্রাম্পের অভিশংসনের সমর্থক ও বিরোধী সিনেটররা যুক্তি উপস্থাপন করবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৬ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ থাকবে।

এরই মধ্যে অন্য রিপাবলিকান সিনেটরদের চাপের মুখে বিচারের শুনানি দ্রুত শেষ করার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল।

এই কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্রেট নেতারা। ডেমোক্রেটরা বলছেন, এটা ধামাচাপা দেবার ঘটনা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

একে জাতীয় লজ্জা বলে মন্তব্য করেছেন সিনেটের ডেমোক্রেট দলনেতা চাক শুমার বলেন, সাক্ষি ও নথিপত্র উত্থাপনের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে ট্রাম্পকে বাঁচানোর অপচেষ্টা এটি।

অন্যদিকে, দ্রুত শুনানি শেষ করার উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

এছাড়া, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের তদন্তে বাধা দেয়ার যে অভিযোগ রয়েছে, সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করে ডেমোক্রেটরা যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষতি করলো তা পূরণ হবে না সহজে।

তবে, সিনেটররা নিরপেক্ষ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন। তবে সিনেটে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সেখানে ট্রাম্পের অভিশংসন আটকে যেতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

ট্রাম্প তৃতীয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত হবেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ১৮৬৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধেও অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে দেখা যায়, সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পর ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি সামনে আসে। তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ।

গত ১৩ ডিসেম্বর পরিষদের হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে অভিযোগের ওপর ভোটগ্রহণ করা হলে ২৩-১৭ ভোটে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে এ অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়ার পর চূড়ান্ত অভিশংসনের জন্য নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটে উঠলো। সেখানে দুই তৃতীয়াংশ ভোটে অভিশংসিত হলে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়তে হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

Print Friendly and PDF

———