চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলর আজম

দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদ কবির আহমদ কন্ট্রাক্টরের চরিত্র হননের অপচেষ্টা 

সিনিয়র রিপোর্টার প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:৪১ : অপরাহ্ণ

শহীদ কবির আহমদ কন্ট্রাক্টর স্মৃতি সংসদ এর উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদ কবির আহমদ কন্ট্রাক্টরকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও চরিত্র হননের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহীদ পরিবারের সন্তান ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ড চান্দগাঁও মোহরার কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ আজম।

আজ ১৯ জানুয়ারি ২০২০ রবিবার সকাল ১১.৩০ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব এম.এ হাশেম রাজু, প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হাজী কামাল উদ্দিন আহমদ, শহীদ পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ মুছা, মোহাম্মদ হারুন, ৭১ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফোরামের আহবায়ক লোকমান হাকিম, শহীদ কবির আহম্মদের ছোট ভাই বশির আহমদ, আবদুল মোতালেব, হাজী নুর বক্স, মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ নুরুন্নবী, এডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক, আবদুস সবুর বাদশা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ পরিবারের সন্তান ও সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মোহাম্মদ আজম বলেছেন, আমার প্রয়াত পিতা দেশের ও জাতির জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আজ আমি শহীদ পরিবারের একজন সন্তান হিসেবে গর্বিত। কারণ আমার পিতা এ জাতির জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। পরিতাপের বিষয় ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছি যে, স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১ শহীদ হওয়া আমার মহান পিতা কবির আহমদ কন্ট্রাক্টরকে নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা এ জাতির জন্য বড়ই দুঃখের বিষয়।

যিনি হাসতে হাসতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁর মৃত্যুর ৪৯ বছর পর এ ধরনের লজ্জাষ্কর কথাবার্তা আমাকেসহ পুরোজাতিকে আহত করেছে। আমি এর নিন্দা জানাই। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেছেন, আমার পিতা, পিতামহসহ পূর্বপুরুষগণ সমাজসেবার মধ্য দিয়ে নিজেদের সম্পৃক্ত করে রেখেছিলেন। যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অত্র এলাকার মানুষ ও স্থানীয় মুরুব্বিগণ অবগত আছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীতেও আসন্ন সিটি নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবো ইনশাল্লাহ। কিন্তু কতিপয় স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল দ্বারা আগেও আমাকে বারবার হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা বিফল হয়েছে। কেননা জনগণের ভালোবাসা ও দোয়া আমার সাথে ছিল।

আমি সমাজকর্মী ও মানবতাবাদী হিসেবে মূল্যায়ন পূর্বক জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চান্দগাঁও-মোহরা ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছি। বর্তমানেও আমি জনতার ভালোবাসার সাথে মিশে আছি। জনগণ আমার সাথে আছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার প্রয়াত পিতা মুক্তিযুদ্ধের শহীদ কবির আহমদ কন্ট্রাক্টর এর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের বাসভবনের সামনের প্রধান গেইটের নাম শহীদ কবির আহমদ কন্ট্রাক্টর নামকরণ করে নামফলক স্থাপন করি। যা আমার পিতার প্রতি আমাদের একান্ত শ্রদ্ধাবোধ এবং সম্মান প্রদর্শনের নির্দশন। পৃথিবীর সকল ছেলেমেয়ে পিতামাতার প্রশংসনীয় জীবন নিয়ে গর্ববোধ করেন। আমিও আমার পরিবার বিপরীত নই। আগেও উল্লেখ করেছি, আমার পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। সেই শহীদ পিতার নামে নিজস্ব বাসভবনের নামকরণ কোনো অপরাধ হতে পারে না।

লিখিত বক্তব্যে শহীদ পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ আজম আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়ক শক্তি হিসেবে আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে যে যেখানে যে অবস্থায় ছিলেন ওখান থেকে অংশগ্রহণ করেছেন। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা একটা শক্তি ছিল। এই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে আমার পিতা কবির আহমদ কন্ট্রাক্টর ইপিআরদের জন্য তাঁর নিজ বাড়িতে লঙ্গরখানা খুলেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা ও তাঁদের পরিবার-পরিজন ওখানেই থাকা-খাওয়াসহ অবস্থান করতেন। এই লঙ্গরখানা খোলার অপরাধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কবির আহমদ কন্ট্রাক্টরকে ১৯৭১ সালে ২০ মে তুলে নিয়ে গেছে এবং তাঁকে গুম ও হত্যা করেছে। এমনকি তাঁর লাশটি পর্যন্ত খুঁজে পায়নি আমার পরিবার। আমার মাতা আমার নিহত পিতার লাশ শেষবারের মতো দেখার জন্য অনেক চেষ্টা করেও তাঁর মুখখানি দেখতে পারেননি।

আমাদের পরিবারের জন্য এরচেয়ে ভয়াবহ ও পাহাড়সম কষ্টদায়ক আর কিছুই হতে পারে না এবং আমার পিতা কবির আহমদ কন্ট্রাক্টরের এই আত্মত্যাগ ছিল মুক্তিযুদ্ধের জন্য, দেশের স্বাধীনতা সাবভৌমত্ব অক্ষুণ রাখতে ও দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। সুতরাং যুদ্ধকালীন সময়ে তাঁর অবদান কখনো ছোট করার নয়। যুদ্ধকালীন সময়ে মোহরা ও চান্দগাঁও এলাকার যে সকল জনগণ এখনো বেঁচে আছেন তাঁরা দেখেছেন কবির কন্ট্রাক্টরের আত্মত্যাগ। আমার পিতা একাত্তর সালে শহীদ হওয়ার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত শহীদ পরিবার হিসেবে ২০০০/- টাকা করে ভাতা উত্তোলন করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সম্মানের কথা বিবেচনা করে আমার মা উক্ত সম্মানী আর গ্রহণ করেননি। এমনকি তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রেকর্ড করার আবেদন-নিবেদন কোথাও করিনি। অতীব দুঃখ হলেও সত্য যে, তাঁর মৃত্যুর ৪৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকা না আশায় আক্ষেপ প্রকাশ করিনি। সেই সময়ে চাইলে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এখনো পর্যন্ত ভাতা উত্তোলন করা যেত।

কিন্তু আমাদের আক্ষেপ, এখন আমার এই শহীদ পিতাকে একটি মহল রাজাকার আখ্যায়িত করছে। আমরা তাদের হেয় মানসিকতার প্রতি ঘৃণা পোষণ করছি আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি, আমার পিতাকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। আজ এটা সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে শেষে প্রেস ক্লাব সম্মুখে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

Print Friendly and PDF

———