চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ , ৬ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচাতে কর্ণফুলী খনন!

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ৭:১৬ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দর বাঁচাতে কর্ণফুলী খননে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম কর্ণফুলী নদী ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি দূষণ রোধ ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। বন্দরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আছে। নদী ঠিক থাকলে বন্দরের অনেক সক্ষমতা বাড়বে।

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকা কর্ণফুলীর ক্যাপিটেল ড্রেজিংয়ের অবস্থার পাশাপাশি দেখেছেন নদীর দুই তীরে গড়ে ওঠা স্থাপনা ও দূষণের দৃশ্য দেখে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সংসদীয় কমিটির সদস্যরা শুক্রবার বিকেলে বন্দরের নিজস্ব পাইলট ভেসেলে পতেঙ্গা বোট ক্লাব থেকে শুরু করে কর্ণফুলী নদী দিয়ে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প ও স্থাপনার অবস্থা দেখেন।

সংসদীয় কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রাম বন্দরের বাস্তবায়নাধীন পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) প্রকল্প, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), কর্ণফুলী ড্রেজিং, নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরোত্তম সাংবাদিকদের বলেন, কর্ণফুলীর নদীর ওপর অনেকটা নির্ভরশীল চট্টগ্রাম বন্দর। নদীর নীচে অতিরিক্ত পলিথিনের কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। তাই নতুন করে ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বন্দরকে রক্ষা করতেই কর্ণফুলীর ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পাশাপাশি নদীর পাড়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে জানান তিনি।

সংসদীয় প্রতিনিধি দলের মধ্যে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন, রনজিত কুমার রায় এমপি, মাহফুজুর রহমান এমপি, এম এ লতিফ এমপি, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপি, এস এম শাহজাদা এমপি, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সাত্তারসহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে কয়েক স্তরে জমে থাকা পলিথিনের কারণে চীন থেকে আনা শক্তিশালী সাকশন ড্রেজারও খনন কাজে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে ‘সদরঘাট টু বাকলিয়ার চর ড্রেজিং’ শিরোনামে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলীর ক্যাপিটেল ড্রেজিং প্রকল্পটি গত ছয় মাস ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের আয়তন, অর্থ ও সময় বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।

সংসদীয় কমিটি শনিবার সমুদ্রপথে মহেশখালীর মাতারবাড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বাস্তবায়নাধীন গভীর সমুদ্র বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তারা।

Print Friendly and PDF

———