চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ , ২৫ আষাঢ়, ১৪২৭

মিরসরাইয়ের লাউ যাচ্ছে সারা দেশে

মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৪৮ : পূর্বাহ্ণ

সবজি চাষের জন্য বিখ্যাত মিরসরাই উপজেলা। এখানে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ হয়। তার মধ্যে অন্যতম লাউ। প্রতি বছরের মতও কৃষকরা এবারো লাউয়ের চাষ করেছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার দাম ভালো যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। এখানকার লাউয়ের কদর দেশব্যাপী। খরচের চেয়ে লাভ বেশি হওয়া লাউ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের পাহাড়ি ও সমতল ভূমিতে লাউ লাউ চাষ করা হয়েছ। এখন প্রয়োজন শুধু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় লাউ চাষে আধুনিক প্রশিণ, উৎপাদিত লাউ সংরণের সুব্যবস্থা ও বাজারজাত নিশ্চিতকরণ।সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে সুব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে লাউ চাষের মাধ্যমে মিরসরাই উপজেলার আরো শত শত পরিবার স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলার সব এলাকায় লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে এখন চট্টগ্রাম শহর, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিরসরাইয়ে উৎপাদিত লাউ সরবারহ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ এলাকার আবহাওয়া লাউ চাষের অনুকূল। তাছাড়া প্রয়োজনীয় কৃষি সামগ্রী এখানে সহজলভ্য। এসব সুযোগ সুবিধাগুলো কাজে লাগিয়ে কৃষকরা লাউ চাষ করছেন।

এক সময় যে জমিতে শুধু ধানই উৎপাদন হত। সেখানে একদিকে ধান পরবর্তীতে লাউ চাষের সাথে সবজি হিসেবে মিষ্টি কুমড়া চাষ হচ্ছে।

মাচাংয়ে ঝুলছে লাউ আর মাটিতে মিষ্টি কুমড়া। উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর, খৈয়াছরা ও ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে লাউ চাষ করে ইতোমধ্যে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। চাশিরা বলেছেন, অন্য সবজির চেয়ে লাউ চাষ লাভজনক। লাউ চাষে উৎপাদন ব্যয় কম অথচ আয় বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা লাউ চাষের দিকে ঝুঁকছে।

উপজেলার মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক ইব্রাহিম বলেন, ৪৮ শতক জমি বর্গা নিয়ে লাউ চাষ শুরু করি। লাউ চাষে আমাদের খরচ হয়ে ৩০ হাজার টাকা। ইতিমেধ্যে প্রায় এক ৮০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আরো কিছুদিন বিক্রি করতে পারবেন বলে জানায় তারা।

একই এলাকার কৃষক নুর মোহাম্মদ জানান, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় লাউ চাষের মাচাং তৈরির প্রয়োজনীয় শলাকা ও খুঁটি হাতের কাছে পাওয়া যায়। ফলে এ এলাকায় লাউ চাষের মাচাং তৈরি ও খেত পরিচর্যায় খরচ কম।

উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকায় দেখা গেছে, সকাল নয়টার মধ্যে বাজারে নেয়ার জন্য জমি থেকে লাউ তুলে সেখানে জমা করেছেন প্রায় ৩০ জন কৃষক। তারা সেখান থেকে পিকআপ যোগে উপজেলার বড়দারোগাহাট নিয়ে যাবেন। এখন প্রতি পিছ লাউ প্রথমে ৫০ টাকা করে পাইকারী বিক্রি করেছেন। এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা করে বিক্রি করছেন। ভালো দাম পাওয়ায় তার খুশি।
সেখানে আবার পাইকারী চাষীদের থেকে পাইকারী লাউ কিনে নিচ্ছেন ইমাম হোসেন নামে একজন পাইকার।
ইমাম বলেন, আমি চাষীদের কাছ থেকে ৩০-৩৫ টাকা ধরে লাউ কিনে নিয়ে তা বাজাওে শহরের থেকে আসা পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করবো। গাড়ি ভাড়া, শ্রমিক খরচ, বাজারের টোল দেয়ার পর প্রতি পিছ লাউয়ে আমার ৮-১০ টাকা লাভ হয়।

জানা গেছে, উপজেলার সবচেয়ে বেশি লাউ চাষ করা হয়েছে ওয়াহেদপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ ভাগ জমিতে লাউ চাষ করেছেন কৃষকরা। আশানরূপ মুল্য পওয়ায় কৃষকরাও খুশি। জমি থেকে লাউ তুলে কৃষকরা উপজেলা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। পাইকারী সবজি বিক্রির বড় বাজার বসে উপজেলার বড়দারোগাহাটে। এখান থেকে পাইকররা লাউ ক্রয় করে ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।

সিটিজি টাইম্‌স/ এম মাঈন উদ্দিন

Print Friendly and PDF

———