চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ , ২৫ আষাঢ়, ১৪২৭

শীতে ঠোঁট ও পা ফাটা রোধে করণীয়

প্রকাশ: ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২:৩৬ : অপরাহ্ণ

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরেও কিছু পরিবর্তন আসে। এই যেমন শীতে অতিরিক্ত ধুলোবালির কারণে শরীরে রুক্ষতা তৈরি হয়। ত্বক অতিরিক্ত ময়লা জমে। ত্বক খসখসে হয়ে যায়। তারচেয়েও বড় সমস্যা হলো- শীতে বারবার লিপজেল ব্যবহারের পরেও বারবারই ঠোঁটে শুষ্কতা তৈরি হয়। ঠোঁট ফাটা দেখা দেয়।

শীতে বারবার ঠোঁট ফাটে কেন? জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যেস, ধূমপান, পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাব, প্রখর রোদে বেশিক্ষণ থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি, রেটিনয়েড-জাতীয় ওষুধ সেবন ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের কারণেও শীতে বেশি বেশি ঠোঁট ফাটে।

শীতে ঠোঁট ফাটা রোধে করণীয় :

* চা বা কফি কম পান করতে হবে। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পান থেকে দূরে থাকুন।
* লবণাক্ত খাবারে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায়।
* শীতে অনেকেই ঠান্ডার কথা ভেবে পানি কম পান করে। কিন্তু তাতে করে ঠোঁটে ফাটল দেখা দেয়। তাই শীতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
* শীতে ভালো মানের লিপস্টিক ও লিপ বাম ব্যবহার করতে হবে।
* অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে মুখকে সুরক্ষিত রাখতে স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
* প্রখর রোদে বের হওয়ার সময় সানব্লক ব্যবহার করুন।
* কুসুম গরম পানিতে স্নান করুন।
* মুখ দিয়ে নয়, শ্বাস নিন নাক দিয়ে। নাক বন্ধ হয়ে গেলে ড্রপ ব্যবহার করুন।
* জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না, ঠোঁটের চামড়া টেনে ওঠাবেন না।
* সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করুন।

এ সময় আরও একটি সমস্যা—সেটা হলো পা ফাটার কষ্ট। কারও কারও এই পা ফাটা এত বেশি হতে পারে যে রক্ত বেরোয় এবং ফাটা অংশ দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে পায়ে ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রমণ করতে পারে।

কেন পা ফাটে

*পুরো শরীরের মধ্যে পা ও এর তলা সবচেয়ে শুষ্ক। কেননা দেহের অন্যত্র ত্বকের মাঝে তৈলগ্রন্থি থাকলেও পায়ের তালুতে তা নেই। কেবল ঘর্মগ্রন্থি আছে। ঠান্ডার দিনে ঘামও তেমন হয় না বলে পায়ের তলার আর্দ্রতা সহজে বিনষ্ট হয়। ফলে পা শুষ্ক হয়ে পড়ে ও ত্বক ফেটে যায়।

*পা যখন ফাটে, তখন ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, চুলকাতে পারে। এমনকি পায়ের ত্বক খোসার মতো উঠে গিয়ে ঝরে পড়তে পারে। কখনো রক্তাক্ত হতে পারে, ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে?

শীতকালে যেকোনো মানুষেরই পা ফাটে, কিন্তু কারও কারও এই সমস্যা খুব বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। যেমন: যাঁদের থাইরয়েডে সমস্যা আছে, তাঁদের এমনিতেই ত্বক খুব শুষ্ক থাকে, একই কথা ডায়াবেটিসের রোগীদের বেলায়ও প্রযোজ্য। ডায়াবেটিসে স্নায়ুজনিত সমস্যায় পায়ের আর্দ্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনুভূতিতেও সমস্যা দেখা দেয়। তাই অনেক সময় পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ঘা বা গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে। যাঁদের সোরিয়াসিস, অ্যাকজিমা বা কোনো চর্মরোগ আছে, তাদের পায়ে সমস্যা বেশি হয়। বয়স্ক ব্যক্তিদের পা ফাটার সমস্যা বেশি।

পা ফাটা প্রতিরোধে পরামর্শ

*খুব ঠান্ডা আবহাওয়ায় পায়ে মোজা পরুন।

*প্রতিদিন গোসল বা পা ভেজানোর পর শুকনো তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। গোড়ালি ও তালুতে পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন মাখুন। বিশেষ করে রাতের বেলা ঘুমানোর আগে অবশ্যই গোড়ালি ও তালুতে পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন মাখুন।

*সপ্তাহে এক দিন পায়ের বিশেষ যত্ন নিন। গামলায় লেবুর রসমিশ্রিত হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে, পা ঘষে মৃত কোষ ফেলে দিন। লেবুর রসে যে সাইট্রিক অ্যাসিড আছে তা মৃত কোষ ঝরতে সাহায্য করবে। তারপর পা মুছে পেট্রোলিয়াম জেলি বা গ্লিসারিন লাগিয়ে নিন।

*জটিলতা বেশি হলে বা সংক্রমণ হয়েছে মনে হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

Print Friendly and PDF

———