চট্টগ্রাম, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০ , ১৫ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত, ভ্রমণে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের সতর্কতা

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২:০২ : অপরাহ্ণ

ভারতে নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে সহিংস আন্দোলন।

এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নাগাল্যান্ডে আজ (১৪ ডিসেম্বর) ছয় ঘণ্টার বনধের ডাক দিয়েছে নাগা স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এনএসএফ)। পাশাপাশি এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্বাহী কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছে তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অরুণাচল, মেঘালয় ও উত্তরপ্রদেশেও চলছে বিক্ষোভ। অরুণাচলে গতকাল উত্তর-পূর্ব আঞ্চলিক ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এনইআরআইএসটি) ছাত্র সংগঠনগুলোর আহ্বানে ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত থাকেন শিক্ষার্থীরা। সেসময় রাজীব গান্ধী স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও স্টুডেন্ট ইউনিয়ন অফ এনইআরআইএসটি নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাজভবন পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার পথ হেঁটে মিছিল করেন তারা।

উত্তরপ্রদেশেও গতকাল নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষাভ করলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ। সেসময় ৫০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়।

এদিকে, গুয়াহাটিতে জারিকৃত কারফিউ আজ বিকাল চারটা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো সাময়িকভাবে কারফিউ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিলো স্থানীয় প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা।

এ অবস্থায় আসাম, মেঘালয়, গুয়াহাটিসহ উত্তর-পূর্ব ভারত ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ওইসব অঞ্চলে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রবাসী ভারতীয় এবং মার্কিন নাগরিকদের।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয়েছে নাগরিক বিল। এরপর থেকেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শুরু হয় বিক্ষোভ। আসাম ও ত্রিপুরায় রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে ওইসব অঞ্চলে ভ্রমণের সময় গাড়ি ভাঙচুর করা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলিতে আপাতত না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের এক উপদেষ্টা। একই সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন পরামর্শদাতারাও।

উল্লেখ্য, ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষের অনুমোদনের পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিলটিতে সম্মতি দেন দেশটির রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রীয় গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার রাজ্যসভায় পাস হয় এই বিল। ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইনে এই সংশোধনের ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে চলে আসা হিন্দু, শিখ, খ্রিষ্টান, জৈন, পারসি ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন।

নতুন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তাল ছিলো গোটা আসাম। ওইদিন পুলিশের ছোড়া গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

ভারতের এই অশান্ত পরিবেশ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলও। গতকাল বাংলাদেশের যুগ্ম কমিশনারের গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই শেষ মুহূর্তে ভারত সফর বাতিল করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

এছাড়াও, আগামী সপ্তাহে গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্মেলন স্থগিত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। ভারতে সদ্য পাস হওয়া নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনকে মুসলিমদের প্রতি ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।

Print Friendly and PDF

———