চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ , ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘটছে দুর্ঘটনা, চলছে ফিটনেস বিহীন গাড়ি

আঁকাবাঁকা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে ভরা বারইয়াহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: 11 November, 2019 1:38 : PM

বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে গাড়িতে যাতায়াত করার সময় মনে হয় মৃত্যু উঁকি দিয়ে ডাকছে। যে কোন মহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এমন আশংকা নিয়েও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত গাড়ির যাত্রীরা।

একে তো সড়ক আঁকা বাঁকা, তার উপর ফিটনেস বিহীন গাড়ি সব মিলিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন যাত্রীরা।

সম্প্রতি লোহারপুল এলাকায় অপর দিক থেকে আসা শান্তি পরিবহনের একটি বাসকে সাইড দিতে গিয়ে ১৫০ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে পড়ে যায় আলিফ পরিবহনের একটি বাস। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও অন্তত ৪০ জন যাত্রী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে এখনো অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিগত কয়েক বছরে ওই এলাকায় আরো কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক মানুষ হতাহত হয়েছে।

জানা গেছে, ৩২ আসনের বাসে গাদাগাদি করে ৪০ আসন বসানো হয়েছে। ৫২ আসনের গাড়িগুলোর কোনটি ফিট আবার কোনটি আনফিট। আর আনফিট গাড়ীগুলোর ছাদে করে মানুষ বহন করা এখানে নিত্য দিনই চলছে।

পাহাড়ী উঁচু নিচু পথ বেয়ে পুরোনো লক্কর ঝক্কর গাড়ীগুলো চলাচল করা ঝুকির পাশাপাশি উদ্বেগজনক । বাঁকগুলোতে প্রসস্থ করণ ও সিগনালিং ব্যবস্থা থাকলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে হয়তো রক্ষা পেত।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের অনেক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা ছোট হওয়ার কারণে অপরদিক আসা গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ভাঙ্গাগুলো সংস্কার করা খুবই জরুরী। এছাড়া অনেক ব্রিজ ভাঙ্গা রয়েছে।

ব্রিজগুলো মেরামত না করলে দুর্ঘটনার শংকা রয়েছে। অনেক চালক এই ঝুঁকিপূর্ন সড়কেও এমন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়।

জানা গেছে, এই সড়কে চলাচল করা হিলবার্ড পরিবহন, আলিফ পরিবহন, কিংবার্ড পার্বত্য পরিবহনের অনেক বাস ফিটনেস বিহীন। আলিফ পরিবহনের দুটি বাস এই সড়কে একেবারে ফিটনেস ছাড়া চলছে।

বাসের মালিক মফিজ উদ্দিন বলেন, এই সড়কে শুধু আমার গাড়ি চলছেনা। আরো অনেক ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল করে। অন্যদের গাড়ির তুলনায় আমার গাড়ি অনেক ভালো।

জানা গেছে, উঁচু পাহাড়ী এই সড়ক পথে দুর্ঘটনা ঘটলে তা ট্রাজেডিতে পরিনহত হয়। নিহতের সংখ্যা হয় অনেক বেশী। বারইয়ারহাট- খাগড়াছড়ি রুটে ও অনেকবার বাস ট্রাক পাহাড় থেকে নিচেই পড়ে যাবার ঘটনা ঘটেছে।

ঝুকিপূর্ণ ভাবে অতিরিক্ত যাত্রী, ফিটনেসবিহীন গাড়ি সহ নানান অনিয়ম রোধে ট্রাফিক, পুলিশ, পৌরসভা, বিভিন্ন চেক পোষ্ট সহ নানান তৎপরতার অন্ত নেই।

এরপরও চোখের সামনে দিয়ে বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানোর পর খাগড়াছড়ি রুটের বিভিন্ন আইন শৃংখলা চেকপোষ্ট পেরিয়ে বারইয়াহাটের হাইওয়ে পুলিশের ট্রাফিক মোড় পেরিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত। কারোই যেন দৃষ্টি নেই বিষয়টি নিয়ে।

আবার অনেক সময় লক্ষ করা গেছে খাগড়াছড়ির ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ী পথ বেয়ে ছাদে যাত্রী নিয়ে আসা এসব বাস পথে পথে উঠানামা শেষে বারইয়াহাটের মহাসড়কে পৌছার পুর্বে ছাদ থেকে ভিতরে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

তবে কি মহাসড়ক এর পর পুরো সড়কের শত কিলোমিটারের কোথাও মনিটরিং এর আওতায় থেকেও কেউ নেই। অথচ এই রুটের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে আনসার, পুলিশ ও বিজিবি ক্যা¤প ও চেকপোষ্ট।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বারইয়াহাটে কর্মরত ট্রাফিক বিভাগের স্থানীয় দায়িত্বরত জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহমুদুল ইসলাম বলেন খাগড়াছড়ির এই রুট আমাদের আওতাভুক্ত নয়। তবু ও আমাদের ট্রাফিক বিভাগের চোখে পড়লে আমরা তাদের নেমে চালককে সহ মুচলেকা নিয়ে ছাড়ি। এখন থেকে আরো কঠোর নজরদারি করা করা হবে বলে তিনি জানান।

Print Friendly and PDF

———