চট্টগ্রাম, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিবন্ধন আমার নামে, এলডিপি আমার দল: অলি আহমদ

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ৯:২০ : অপরাহ্ণ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপ) কর্তৃত্ব নেওয়ার আইনগত অধিকার কারোর নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান অলি আহমদ। দলের নিবন্ধন তার নামে করা বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে গত মাসে নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়া দুই নেতার পাল্টা কমিটি গঠনের ঘোষণার পর বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এসে এলডিপি চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসীকে সভাপতি করে সাত সদস্য বিশিষ্ট পাল্টা ওই কমিটির ঘোষণা করা হয়।

এই ঘটনার কয়েকঘণ্টা পর অলি আহমদ বলেন, ‘এলডিপি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত এক নম্বর রাজনৈতিক দল। গত ১২ বছর ধরে আমি এই দলের সভাপতি।’

‘সুতরাং এই রাজনৈতিক দলকে অন্য কারও নেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই; এমনকি কোনো অধিকারও নেই। এলডিপির নিবন্ধন আমার নামে। ফলে আমার দলই মূল দল।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের পেঁয়াজসহ নিত্য প্রযোজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অলি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের বিষয় ছাড়াও নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন। জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়কও তিনি।

পাল্টা কমিটির নেতাদের অভিযোগ তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে- এ বিষয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘এলডিপির কোনও ত্যাগী নেতাকে বঞ্চিত করেনি। বরং এলডিপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম সব সময় নিজেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচির বলে পরিচয় দিতেন।’

‘অথচ আমার দলের গঠনতন্ত্র অনুযাযী সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের কোনো পদ নেই। পদ আছে যুগ্ম মহাসচিব। তাকে নিষেদ করার পরও সব সময় এই পদটি ব্যবহার করত। তাই তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে অলি আহমদ বলেন, ‘তাদের ২০ দলীয় জোটে নেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। সেটা ২০ দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি না যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে কিংবা দল থেকে বহিষ্কার করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এলডিপির সভাপতি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক রাজনীনৈতিক দল রযেছে। আরেকটি দল হলো। তারা প্রেসক্লাবে, ফুটপাতে বসে নানান কর্মসূচি পালন করবে। এতে অনেকের সুবিধা হবে। অসুবিধা কি?’

অলি আহমদ বলেন, ‘গত ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের ক্ষমতায় থাকাকালে জনজীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছে। দেশে মানবাধিকার বিঘ্নিত হচ্ছে, গণতন্ত্র নেই। ব্যাংকে টাকা নেই, সর্বত্র লুটপাট চলছে। বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, ব্যবসা বাণিজ্য মন্দা।’

‘পেঁয়াজ নিয়ে যে কেলেঙ্কারি হয়েছে পৃথিবীতে এই ধরনের কোনও ঘটনা অতীতে ঘটেনি। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যর ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাই তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।’

এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত কোনো সরকার নয় মন্তব্য করে অলি বলেন, ‘সরকার যদি জনগণ দ্বারা নির্বাচিত হতো, তাহলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামে এত ঊর্ধ্বগতি হতো না। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, অবিলম্বে পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দিতে। কারণ এভাবে দেশ চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘যতদিন সরকার পদত্যাগে বাধ্য না হয়, ততদিন আন্দোলন চলবে। আমাদের শক্তিশালী হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে।’

এ সময় বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly and PDF

———