চট্টগ্রাম, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ , ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০ মাসে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১ হাজার বাংলাদেশি

প্রকাশ: 8 November, 2019 3:27 : PM

অনেক স্বপ্ন নিয়ে আট মাস আগে সৌদি আরবে গি‌য়েছি‌লেন কুষ্টিয়ার কামাল হোসেন। কিন্তু গতকাল রা‌তে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয় তাকে। কাজের বৈধ অনুমোদন (আকামা) থাকা সত্ত্বেও সেদেশের পুলিশ ধরে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান কামাল। সৌদি‌ আরব থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৪ ফ্লাইটে ১১৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। এ নিয়ে নভেম্বর মাসের প্রথম ৭ দিনে ৯৩০ জন ফিরলেন সৌদি আরব থেকে।

বিমানবন্দরের প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২০ হাজার ৬৯২ বাংলাদেশি। বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও ফেরত আসাদেরও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার ও পানি দেয়া হয়। সেইসঙ্গে তাদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।

গতকাল রাতে ফিরে আসাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার কামাল হোসেন শুক্রবার জানান, ৭ লাখ টাকা খরচ করে দেড় বছর আগে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। একটি দোকানে কাজও করতেন নিয়মিত। কিছু দিন আগে হঠাৎ কাজ থেকে রুমে ফেরার সময় পুলিশ গ্রেফতার করলে তিনি তার নিয়োগ কর্তা কফিলকে ফোন দেন। কিন্তু কফিল কোনো দায়িত্ব নেননি। ফলে তাকে ফিরতে হলো দেশে।

গতকাল রাতে ফেরত আসাদের মধ্যে ছিলেন একই পরিবারের দুই ভাই নড়াইলের নয়ন ও শুক্কুর মোল্লা। এর মধ্যে নয়ন চার বছর আগে সৌদি গিয়েছিলেন রং মিস্ত্রির কাজ নিয়ে। মাত্র দুই মাস আগে ছোট ভাই শুক্কুর মোল্লাকে একই কাজে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুজনকেই শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে।

নয়নের অভিযোগ, ছোট ভাই বাজার করতে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। এ খবর শুনে ছুটে যান তিনি। কিন্তু কোনো কথা না শুনে সৌদি পুলিশ তাদের দুই ভাইকেই দেশে পাঠিয়ে দেয়।

বাবুল, জহির, রেজাউলসহ বেশ কয়েকজন যে কোম্পানিতে কাজ করতেন, সে কোম্পানির পোশাক পরে ফিরেছেন খালি পায়ে, শূন্য হাতে।

তারা জানান, যে নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করতেন, কাজ শেষে সেখা‌ন থে‌কে রুমে ফেরার সময় রাস্তা থেকে পুলিশ তাদের ধরে নিয়ে যায়। বৈধ আকামা থাকা সত্ত্বেও তাদের ধরে কোম্পানির ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায়ই দেশে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের আহসান জানান, অভাবের সংসারে দিনমজুর বাবার স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিদেশে গিয়ে পরিবারে সচ্ছলতা আনবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে মাত্র চার মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন। বৈধ আকামাও ছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফিরতে হলো শূন্য হাতে।

একই রকম তথ্য জানান, বরিশালের শ্রাবন, কিশোরগঞ্জের জালাল, কুমিল্লার রনি, গাইবান্ধার মোস্তফা, মুন্সিগঞ্জের হান্নানসহ অনেকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছ‌র এ পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার বাংলা‌দে‌শি‌কে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। চল‌তি মা‌সের প্রথম সপ্তাহে ফির‌লেন ৯৩০ জন। ফে‌রত আসাদের বর্ণনা প্রায় একই রকম। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। যারা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন, তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায়।

তিনি আরও বলেন, দূতাবাস ও সরকারকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বি‌শেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

Print Friendly and PDF

———