চট্টগ্রাম, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীন নিদর্শন রাউজানের সাহেব বিবি মসজিদ

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:০৭ : অপরাহ্ণ

৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী সাহেব বিবি মসজিদ (Shah Bibi Mosque) যা চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় অবস্থিত। এই মসজিদের অবস্থান রাউজান উপজেলার ৯ নং ওয়ার্ড এর হাড়ি মিয়া চৌধুরী বাড়িতে।

চুন সুড়কির গাঁথুনিতে নির্মাণ করা হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন একটি স্থাপত্য। এর পাশে ও সামনে প্রায় ৪ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে গেইট । স্থাপনাটি ৮টি পিলার, ৩টি দরজা, দুটি জানালা ও ১ গম্বুজ বিশিষ্ট। কারুকাজের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে শৈল্পিক রূপ।

স্থাপত্যের পাশে খনন করা হয়েছে বিশাল দিঘী। ৫’শ বছর পূর্বে নির্মিত স্থাপনাটি রূপগত পরিবর্তন করে বর্তমানে লাগানো হয়েছে টাইলস।

জানা যায়, জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর পত্নী ও চট্টগ্রামের আলোচিত প্রসিদ্ধ মালকা বানুর মাতা সাহেব বিবি এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা।

মসজিদের পাশে রয়েছে ফুলবাগান সম্বলিত কবরস্থান যেখানে শায়িত আছেন এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম সাহেব বিবি। এছাড়াও, এর পাশে আছে সাহেব বিবি দীঘি যাকে শাহী পুকুরও বলা হয়।

এই মসজিদ কবরস্থান সহ ৩০ শতক জায়গার উপর নির্মিত। ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় মসজিদে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লীও এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। কালের সাক্ষী এই মসজিদ দেখার জন্য পর্যটকরাও এখানে ভীড় জমান।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান বাইন্ন্যা পুকুড় এলাকার দক্ষিণ পার্শ্বের একটু অ দূরে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের হাড়ি মিয়া চৌধুরী বাড়িতে অবস্থিত দৃষ্টি নন্দন সাহেব বিবি মসজিদ টি। ওই স্থানের মানুষের প্রাণের মসজিদ এটি।

সঠিক কোন তথ্য না থাকলেও স্থানীয় প্রবীনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে ৫’শ বছর পূর্বে মসজিদটি নির্মাণ করেন চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আনোয়ারা থানার শোলকাটা রাউজান গ্রামের জমিদার আমির মোহাম্মদ চৌধুরীর স্বনামধন্য পত্নী ও চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ মলকা বানুর মাতা সাহেব বিবি।

স্থানীয়দের তথ্যমতে কবরস্থানসহ মসজিদটি ৩০ শতক জমির উপর নির্মিত। বিভিন্ন কারু কাজ-সম্বলিত টেরাকোটার ইট ও চুন-সুরকির গাঁথুনিতে মসজিদটি নির্মিত। মসজিদটির সামনে একটি ঈদগাহ ও পাশে কবরস্থান রয়েছে।

মসজিদের পূর্ব দেয়ালে তিনটি প্রবেশপথ। পাশ্চিম দিকে গম্বুজ থেকেও উঁচু মিম্বর। আগে দেয়াল চমৎকার কারুকার্য খচিত থাকলেও রূপগত পরিবর্তন করে লাগানো হয়েছে টাইলস।

মসজিদের উত্তর পাশে খনন করা হয়েছিল সাহেব বিবি দিঘী নামে এক বিশাল দিঘী । কেউ কেউ এটিকে শাহী পুকুরও বলে থাকেন।

সত্তরোর্ধ বয়সের আকবর চৌধুরী বলেন, আমরা ছোট বেলায় দাদার মুখে শুনেছিলাম এই মসজিদটি ৩/৪শ বছর পূর্বে নির্মাণ করা হয়েছিল। আমার দাদাও তাঁর দাদার মুখে শুনেছিল এটি বিদেশী মিস্ত্রী দ্বারা শত শত বছর পূর্বে নির্মাণ করেছে।

এই মসজিদে নাকি তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্থ থেকে মোছাভাত (আঞ্চলিক শব্দ) অর্থাৎ কয়েকদিনের খাবার নিয়ে পাঁয়ে হেটে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতো নামাজ পড়ার জন্য।

বাদশা মুহাম্মদ শাহ স্টেট’র আমলে ডিমের আটা, চুন-সুরকি দিয়ে দেশের ২২টি গ্রামে একই রকম মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। ২২টি মসজিদের মধ্যে প্রথম নির্মাণ করা হয়েছিল সাহেব বিবির মসজিদ।

তিনি আরো বলেন, সাহেব বিবির মসজিদটির ভেতরে প্রায় শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এটি মোতোয়াল্লী তত্বাবধানে গত ৪ বছর আগে রূপগত পরিবর্তন করা হয়।

পুনশ্চ: চট্টগ্রামের প্রথম ও শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিটিজি টাইমসে ”শুক্রবারের বিশেষ প্রতিবেদন” এ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ গুলোর উপর বিশেষ প্রতিবেদন। আপনি ও লিখতে পারেন আপনার পাশের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ নিয়ে। ছবি সহ লিখা পাঠাবেন আমাদের মেইলে। 

আরো… 

Print Friendly and PDF

———