চট্টগ্রাম, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অসহায় রোগীদের সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের

সময় প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ২:২১ : অপরাহ্ণ

পেশায় পুলিশ কনস্টেবল, কাজের অবসর বলতে দিনের কয়েক ঘণ্টা। বেতন আর কত? সামান্য এ অবসর আর হাত খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া টাকা দিয়ে মানবসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কনস্টেবল শওকতের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল। গত ১০ বছর ধরে নগরীতে পরিবারহীন অসহায় রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের কাজে আরও উৎসাহ দিকে সিএমপি গঠন করতে যাচ্ছে ‘মানবিক পুলিশ’ নামে একটি শাখা।

গায়ে পুলিশের পোশাক, আর হাতে ফাস্ট এইড বক্স। একদল পুলিশ সদস্য ছুটে চলছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায়। সেখানে পড়ে আছেন পাগলপ্রায় এক বৃদ্ধা রোগী। পরম যত্ন তার ক্ষতস্থানে ওষুধ লাগানোসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন পুলিশে সদস্যরা। ব্যবস্থা করেছেন নতুন কাপড়ের।

কনস্টেবল শওকতের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকজন সদস্য, নিজেদের খরচে গত ১০ বছর ধরে এমন মানবিক কাজ করছেন। নগরীর রাস্তা কিংবা ডাস্টবিনের পাশে পড়ে থাকা অসুস্থ ও শরীরে পচন ধরা অসহায় রোগীদের ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে শওকতের টিম।

শওকত বলেন, রাস্তার মানুষদের প্রতি আমরা এই দায়িত্ব পালন করে যাব।

এ টিমের শুরুটা হয়েছিল অনেকটা শওকতের একক প্রচেষ্টায়। ২০০৯ কিংবা ১০ সালের দিকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন শওকত। এরপর তিনি সেবাটিকে অভ্যাসে পরিণত করে দেন। শওকতের অনুপ্রেরণায় আরও ৭ থেকে ৮ জন পুলিশ কনস্টেবল যোগ দেন তার সঙ্গে।

এমরান নামের শওকতের টিমের এক সদস্য বলেন, রাস্তায় তাদের চিকিৎসা দেয়ার পর আমরা তাদের পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যাই। এটা করতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।

কনস্টেবল শওকত ও তার টিমের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে সিএমপি গঠন করতে যাচ্ছে ‘মানবিক পুলিশ’ নামে নতুন একটি শাখা। পরিবারহীন দুস্থ রোগীদের সেবার পাশাপাশি তাদের জন্য থাকবে বিশেষ তহবিলও।

সিএমপি’র কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, যারা মানবতার সেবায় এমন কাজ করতে চায় তাদের একত্রিত করে আমরা একটা প্ল্যাটফর্ম করেছি। সেখানে একটা তহবিলও দেয়া হয়েছে।

চলতি বছর শওকতের টিমের হাতে সেবা পেয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩৬ জন অসহায় রোগী।

Print Friendly and PDF

———