চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ , ২৫ আষাঢ়, ১৪২৭

চট্টগ্রামে এলো ২ হাজার টন পেঁয়াজ, অপেক্ষায় আরো ৫ জাহাজ

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:২১ : অপরাহ্ণ

সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে দুই হাজার টন পেঁয়াজের একটি চালান। ৬৯টি কন্টেইনারে এসব পেঁয়াজ এনেছে ঢাকার মেঘনা গ্রুপ ও চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপ। খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে অন্য ব্যবসায়ীদের ৩৫ কনটেইনার পেঁয়াজভর্তি পাঁচটি জাহাজ। এছাড়াও টেকনাফের ব্যবয়াসীরাও সাড়ে পাঁচ শ টন পেঁয়াজ এনেছেন, যেগুলো শিগগির খালাস হবে।

মঙ্গলবার রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, কয়েক দিনের মধ্যে সব মিলিয়ে ১০৪টি কনটেইনারে প্রায় ৩ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ খালাস হবে।

জানা যায়, বিএসএম গ্রুপ তিন জাহাজে ৩৯ কনটেইনার পেঁয়াজ আমদানি করেছে। জাহাজ থেকে খালাসও শুরু হয়েছে। মেঘনা গ্রুপ এক জাহাজে এনেছে ৩০ কনটেইনার পেঁয়াজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা পেঁয়াজের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার টন।

মেঘনা গ্রুপের পেঁয়াজবাহী ‘ওইএল স্ট্রেট’ জাহাজটি আজ মঙ্গলবার রাতে তুরস্ক থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে। জাহাজটিতে ৩০ কনটেইনারে প্রায় সাড়ে ৮০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। এই গ্রুপ প্রথমবার সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। এর আগে আজ ও গত রবিবার দুই দিনে আকাশপথে গ্রুপটি ২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবিকে দিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্রথমবার পেঁয়াজ আমদানি করেছেন বলে জানান মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের ব্যবসা নেই আমাদের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমদানি করেছি। এই পেঁয়াজ সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবিকে আমদানিমূল্যে হস্তান্তর করব।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে বিএসএম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের একটি চালান এসেছে ‘এমসিসি টাইপে’ জাহাজে। কনটেইনারবাহী জাহাজটি গতকাল সোমবার বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। এই জাহাজে থাকা ২০ কনটেইনার পেঁয়াজ খালাসও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বহির্নোঙরে থাকা এমভি টিজনি ও এমভি এলা জাহাজে রয়েছে আরও ১৯ কনটেইনার পেঁয়াজ। এই দুই জাহাজের চালান এসেছে মিসর থেকে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি ১ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরে এখন প্রতিদিনই পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এই দুই গ্রুপ ছাড়াও ছোট ব্যবসায়ীদের ৩৫ কনটেইনার পেঁয়াজ রয়েছে পাঁচটি জাহাজে। এগুলো পালাক্রমে বন্দর জেটিতে ভিড়ানো হবে। কয়েক দিনের মধ্যে এসব জাহাজে আসা পেঁয়াজের চালান খালাস হবে ১০৪টি কনটেইনারে প্রায় ৩ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ।

দেশে প্রতিদিন গড়ে পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল ৭ হাজার ৮৯২ টন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিদিন চাহিদা ৬ হাজার টনের মতো। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় চাহিদা কমেছে। এরপরও দিনে ৩ হাজার টনের মতো চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ সরবরাহ হলে বাজার স্থিতিশীল হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, এ পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ৮ হাজার ৩৪৩ টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে।

এদিকে টেকনাফের আটজন ব্যবসায়ী ১১টি ট্রলারে করে মিয়ানমার থেকে ৫৪৮ টন পেঁয়াজ কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিতে এনেছেন। খালাসের অপেক্ষায় স্থলবন্দরের জেটির নাফ নদীতে ভাসমান আরও ছয়টি পেঁয়াজভর্তি ট্রলার রয়েছে। গত সোমবার এসেছিল ১ হাজার ১০৩ টন। টেকনাফ স্থলবন্দরের কাস্টমস সুপার আফসার উদ্দিন। জানান, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর আজ বিকেল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৩৯ হাজার ৯৯৫ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে।

Print Friendly and PDF

———