চট্টগ্রাম, রোববার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ: একে অপরকে দুষছে বিভিন্ন সংস্থা

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ৯:৫২ : অপরাহ্ণ

আতঙ্ক এখন চট্টগ্রামের পাথরঘাটার প্রতিটি অলিগলিতে। কিছুতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে এতোগুলো মানুষের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না প্রতিবেশিরা।

এদিকে, কি কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা এখনো উদঘাটন করা না গেলেও বিভিন্ন সংস্থা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। বিস্ফোরক অধিদপ্তর বলছে গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণের কারণে এ দুর্ঘটনা। আর সিডিএ, বলছে ভবন নির্মাণে কোনো নিয়মই মানা হয়নি।

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৫ জন। কি কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, নিয়ম না মেনে বিস্ফোরিত বড়ুয়া ভবনের সামনে দুটি সেপ্টিক ট্যাঙ্ক করা হয়েছে একেবারে রাস্তার পাশে। আর গ্যাসের রাইজারটিও ছিলো রাস্তার উপর। অপরিকল্পিতভাবে গ্যাসের রাইজার আর সেপটিক ট্যাঙ্ক স্থাপনের কারণে দুর্ঘটনা বলে ধারণা এলাকাবাসীর। দুর্ঘটনার পর এলাকার শোকের পাশাপাশি মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

এদিকে, সিডিএ বলছে, ভবনটি করার সময় কোনো নিয়মই মানা হয়নি। আর পরিদর্শনে গিয়ে বিস্ফোরক অধিদপ্তর বলছে, গ্যাসের লাইনের বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা।

সিডিএয়ের প্রধান প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম খান বলেন, সেপটিক ট্যাঙ্ক যেহেতু বাইরে আর তার পাশেই ছিল গ্যাসের রাইজার। তাই স্বাভাবিক গ্যাস লাইনে কোনো ধরনের লিকেজ হয় আর সেটি যদি কোনোভাবে সেপটিক ট্যাঙ্ক এর সাথে মিলে যায় তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। আমাদের মাস্টার প্ল্যানে বলা আছে ৪০ ফিট রাস্তার প্রশস্ততা থাকবে, সেটা মানা হয়নি। মূলত বিল্ডিংটা যেখানে করেছে সেটা রাস্তার মধ্যে বের করে এনেছে, শুধু সামনের দিকে নয় দুই দিকেই বের করে এনেছে, চারিদিকে জায়গাটা বন্ধ করে দিয়েছে। খোলা চোখে আমি দেখছি যে, কাঠামোগত ভাবে ওই বিল্ডিংটি দুর্বল।

চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদফতরের বিস্ফোরক পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, যে পাইপ লাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ হতো সেটাতে ত্রুটি ছিল যার কারণে এটা হয়েছে।

তবে, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাস লিকেজে বিস্ফোরণ ঘটেনি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের মহাপরিচালক (মার্কেটিং) আনম সালেহ বলেন, রাইজারটা বাইরে ছিল, এতটুকু আমাদের কাছে তথ্য আছে, রাইজার থেকে গ্যাস লিকেজের সম্ভাবনা আমার কাছে আপাতত মনে হয় না।

সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও মেট্টোপলিটান পুলিশ পৃথকভাবে ৪টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের প্রতিবেদনের পর জানা যাবে ঘটনার আসল কারণ। – সময় টিভি

Print Friendly and PDF

———