চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ , ৩০শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শতাধিক কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানতে চলেছে বুলবুল

প্রকাশ: 9 November, 2019 6:20 : PM

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সন্ধ্যায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অফিস থেকে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সুন্দরবন দিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এসময় উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকাসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

দুপুর থেকেই উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। উপকূলীয় নয়টি জেলায় ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও আশপাশের পাঁচটি জেলায় ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বিকেলে বিশেষ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বুলবুলের প্রভাবে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টায় আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ প্রভাবে নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের দিকে ক্রমশ ধেয়ে আসায় মোংলা ও পায়রাকে সমুদ্রবন্দরকে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ (নয়) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ (নয়) নম্বর মহবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার দুপুর ১২টায় অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৭০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আজ দুপুর থেকে দমকা/ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ও মুন ফেজের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে নৌবাহিনী জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি এবং বরগুনা এলাকায় উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য খুলনা বিএনএস তিতুমীরে পাঁচটি উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Print Friendly and PDF

———