চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুহুরী সেচ প্রকল্প: তিন দশকেও কৃষিখাতে তেমন কোন পরিবর্তন নেই

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৮:৪৩ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার পূর্বে মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের তিন দশক পরও কৃষিখাতে কোন পরিবর্র্তন আসেনি।

দুই উপজেলার কৃষিখাতে বৈল্পবিক পরিবর্তন আনতে ১৯৮৫-৮৬ অর্থ বছরে বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা আইডিএ, সিডা, ইইসি’র আর্থিক সহায়তায় মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের মোট আয়তন ৪০০৮০.৯৭২ হেক্টর।

উপকূলীয় অ ল ছাড়াও ফেনী, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী ও পরশুরামের লক্ষ লক্ষ অনাবাদী জমিকে আবাদ করা, জলোচ্ছাস ও বন্যা থেকে উপকূলীয় অ লকে রক্ষায় সরকারের যে লক্ষমাত্রা ছিল, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রায় তিন দশক পার হয়ে গেলেও প্রকৃত অর্থে তা অর্জিত হয়নি।

তাছাড়া প্রকল্প বাস্তবানের সময় সরকার ২৮৬.৬৩ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হলেও গত ২০ বছর ধরে কোন খাল সংস্কার করা হয়নি। উল্টো সেচ প্রকল্পের গতিমুখে নদী ভরাট চলছে প্রতিনিয়ত। নদীতে বাঁধ দিয়ে মৎস্য প্রকল্প তৈরী করে অনেকে নদীর মূল স্রোতের গতিবেগ বাধার সৃষ্টি করছে।

তাছাড়া প্রকল্পগুলোর পাড়ে তৈরী করা হয়েছে খামার বাড়ি ও বাংলো। এতে ফেনী নদী ও মুহুরী সেচ প্রকল্প তার মৌলিকত্ব হারাতে বসেছে। এর জন্য জনপ্রতিনিধি ও সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করছে এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ সালে বাস্তবায়িত মুহুরী সেচ প্রকল্পের আবাদ যোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ২৩০৭৬.৯২৩ হেক্টর। যার মধ্যে সেচ যোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ২৩০৭৬.৯২৩ হেক্টর।

আর এই বেশী সেচ সুবিধা পাওয়ার কারণে সেচ আওতাভূক্ত জমির কৃষকরা প্রতিবছর পূর্বের ফসল উৎপাদনের তুলনায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন করতো।

যা বর্তমানে ব্যহত হচ্ছে। মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ভৌগলিক অবস্থান এবং যোগাযোগের সুবিধার কারণে মিরসরাই-সোনাগাজী এলাকার বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব অর্থে তা আর হয়ে ওঠেনি।

মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ফেনী, সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া ও পরশুরামের কিছু অংশ এবং মিরসরাইয়ের পুরো অ লে বন্যা-জলোচ্ছাস রোধ এবং অনাবাদী জমি আবাদী জমিতে পরিণত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব অর্থে তা হয়নি।

এর কারণ ফেনী নদী ও তার শখা নদী-খালগুলো দিনদিন দখল বেদখল ও সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ের জাতীয় নির্বাচনে মিরসরাই এলাকার ভোট প্রার্থীরা খাল সংস্কার, উপকূলীয় বেড়ি বাঁধের উপর দিয়ে বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধির আশ্বাস দিলেও নির্বাচনের পর সকল জনপ্রতিনিধিই যেন বেমালুম তা ভুলে যান।

এভাবে দিনের পর দিন অতিবাহিত হলেও ১৫৮৭৬.৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সেচ প্রকল্পটির মূললক্ষ্যমাত্রা এখনো অর্জিত হয়নি।

বিভিন্ন সময় মিরসরাই-সোনাগাজী এলাকার ৮টি মৌজার নদী গর্ভেবিলীন হয়ে যাওয়া প্রায় ৪৮৫৮.২৯৯ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার হয়। যার অধিকাংশ বর্তমানে প্রভাবশালী ও বিত্তশালীদের দখলে রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের তৎকালীন অর্থ বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রকল্পটির রক্ষণাবেক্ষণের বাৎসরিক খরচ ২১৬.১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও বিগত ২০ বছরে বরাদ্দকৃত টাকার ন্যূনতম ব্যয় বাস্তব অর্থে পরিলক্ষিত হয়নি। অধিকাংশ ক্লোজার ড্যাম বিকল হয়ে থাকে। ফলে অনেক জমি প্রতি মৌসুমে অনাবাদী থেকে যায়।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়. ইরি মৌসুমে ক্লোজার ড্যামের গেইটগুলো বন্ধ থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন পানি ছেড়ে দিয়ে প্রকল্পের মূল অববাহিকায় জাল ফেলে মাছ ধরে। এতে প্রতি বছরই ইরি চাষ ব্যহত হয়।

Print Friendly and PDF

———