চট্টগ্রাম, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ , ২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিসিবিকে দাবি-দাওয়া না জানিয়েই ধর্মঘটের ডাক ক্রিকেটারদের!

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ৬:৩৫ : অপরাহ্ণ

দেশের ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান উন্নয়ন, পারিশ্রমিক বৃদ্ধি, চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের সংখ্যা বাড়ানো, বার্ষিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডর প্রণয়ন ইত্যাদি দাবি উত্থাপন করেছেন তারা। ক্রিকেটারদের এই আন্দোলন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেছেন, বিসিবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি-দাওয়া না জানিয়েই ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ক্রিকেটাররা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন।

নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, আমরা ক্রিকেটারদের এসব দাবি ও ধর্মঘটের কথা জানতে পারি সংবাদমাধ্যমে। আমাদের সঙ্গে ফরমালি কোনো কমিউনিকেশন হয়নি। অবশ্যই খেলোয়াড়রা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়গুলো বোর্ডকে আগে জানালে নিশ্চয়ই আমরা সমাধানের উপায় খুঁজতাম।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্রিকেটারদে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি দাওয়া বিভিন্ন সময় আসে। আমাদের চেষ্টা থাকে যতটুকু সম্ভব সমন্বয় করা। তাদের দাবি-দাওয়া আজকেই আমাদের নজরে এসেছে। আমরা অবশ্যই বোর্ড লেভেলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

ক্রিকেটারদের এই অবস্থানকে কি বিদ্রোহ হিসেবে দেখছেন, এ এক প্রশ্নের নিজাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টা আসলে এমন নয়। খেলোয়াড়রাও তো বোর্ডেরই বোর্ডের অংশ। যে কোনো বিষয়ই বা সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। বিষয়টা যত তাড়াতাড়ি সমাধান করা যায় আমরা সেটা দেখব।

যে ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটাররা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, সেগুলো হচ্ছে- ১. ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াবের) বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের সরাসরি ভোটে ঠিক করা হবে নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

২. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মতো করতে হবে। যে যার পছন্দমতো দলে যাবে।

৩. এ বছর না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মতো (ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে) বিপিএল আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বাড়াতে হবে।

৪. প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ১ লাখ করতে হবে। চুক্তিভুক্ত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন ৫০% বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ-ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলা হয়, ঘরোয়া লিগে সেই বল ব্যবহার করতে হবে। দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না, তা বাড়াতে হবে। এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য যাতায়াত ভাড়া মাত্র ২৫০০ টাকা। তা বাড়াতে হবে অথবা প্লেন ভাড়া দিতে হবে। হোটেল ভালো হতে হবে, জিম ও সুইমিংপুল সুবিধা থাকতে হবে।

৬. জাতীয় দলে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা অন্তত ৩০ করতে হবে ও বেতন বাড়াতে হবে।

৭. দেশি সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ থেকে শুরু করে গ্রাউন্ড স্টাফ, আম্পায়ার- সবার বেতন বাড়াতে হবে।

৮. জাতীয় লিগের পর আগে একটি ওয়ানডে লিগ হতো, সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিপিএলের আগে আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দিতে হবে।

৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত হতে হবে।

১০. ডিপিএলের (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) পাওনা টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে হবে।

১১. বিদেশে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দুটির বেশি খেলা যাবে না, এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।

** এছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ, তৃতীয় বিভাগে ইচ্ছে করেই কোনো দলকে জেতানো বা হারানো হয়। এসব বন্ধ করতে হবে।

Print Friendly and PDF

———