চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্যারোলের প্রশ্ন কেন, এমপিদের খালেদা

প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:১১ : অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তার দলের চারজন সংসদ সদস্য। তার শারীরিক খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসা ও জামিনের বিষয়েও সাংসদদের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় নিজেকে জামিনের হকদার দাবি করে খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘দেশের আইন অনুযায়ী আমি জামিন লাভের যোগ্য। আমিতো কোনো অপরাধ করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেন আসবে?’

বুধবার বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সংরক্ষিত আসনের বিএনপি দলীয় একমাত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারাহানা।

এ সময় আরেক সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি সংসদ নেতার কাছে আহবান জানাবো আপনি একবার এসে দেখে যান, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী কি অবস্থায় আছেন। আমি নিশ্চিত যে আপনার ভেতরে মানবতাবোধ জাগ্রত হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমলাতান্ত্রিকভাবে না দেখে আপনি জামিনের ব্যবস্থা করেন। তিনি (খালেদা জিয়া) কারো সাহায্য ছাড়া খেতে পারছেন না, হাঁটতে পারছেন না। এখানে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া ম্যাডামের মুক্তি হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আবার বলছি সংসদের নেতা হিসেবে আপনার কাছে আমার সবিনয় অনুরোধ আপনি ম্যাডামের জামিনের ব্যবস্থা করুন।

জামিনের বিষয়টা আদালতের। তো আপনারা মানবিক বিষয় হিসেবে কেন দেখছেন? উপস্থিত সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজ বলেন, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া কি হবে? আজকে হাইকোর্ট-সুপ্রিমকোর্ট বিব্রত বোধ করেন।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সরাসরি প্যারোলের বিষয়ে ম্যাডামকে বলেছিলাম। ম্যাডাম আমাকে বলেছেন যে, জামিন আমার হক। দেশের আইন অনুযায়ী আমি এখনই জামিন লাভের যোগ্য। কোনো রকমের কোনো অপরাধ আমি করিনি। সুতরাং এখানে প্যারোলের প্রশ্ন কেনো আসবে?’

‘প্যারোলে কোনো প্রশ্নই আমাদের তরফ থেকে তোলা হয়নি। আমি ব্যারিস্টার রফিকুল হকের সাথে দীর্ঘকাল কাজ করেছি, আমার আইনের ওপর যে অভিজ্ঞতা এই ধরনের মামলায় এডমিশনে বেইল হয়ে যায়। সেখানে এরকম শারীরিক অবস্থায় ১৮ মাস ধরে উনি কারাগারে বন্দি আছেন।

আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, উনাকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তার এই শারীরিক অবস্থার জন্য সরকার দায়ী। তার কোনো রকমের কোনো সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার অবস্থার যেটা অবনতি হয়েছে তার জন্য সম্পূর্ণরুপে সরকার দায়ী।”

মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়া কি বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ম্যাডাম অবশ্যই মুক্তি চান। তিনি অপরাধ করেননি। তবুও বন্দি আছেন। অবশ্যই মুক্তি চান। চিকিৎসার ব্যাপারে তার বক্তব্য তিনি বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সেখানে বিদেশে চিকিৎসার কথা আসছে কেন। তিনি মুক্তির পরে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশে নাকি বিদেশে চিকিৎসা নেবেন। আগেতো মুক্তি দরকার। তিনি তো সহসা বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান না। এর আগেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নাম বলা হয়েছে। সেই নিজস্ব ডাক্তারের চিকিৎসা নিতেও দেয়া হয়নি। বিদেশে যদি যাওয়া লাগে যাবেন। সেটা ওনার নিজের সিদ্ধান্ত-পরিবারের সিদ্ধান্ত। সেটাতো আমরা বলতে পারি না।

তিনি বলেন, প্যারোলের কোনা কথাই হয়নি। উনি কোনো অপরাধ করেননি। যে টাকার কথা বলা হয়েছে সে টাকা বেড়ে ছয় কোটি হয়েছে।

রুমিন ফারহান বলেন, আমি দীর্ঘ সময় আদালতে কাজ করছি। এ ধরনের মামলায় একটি আবেদনে জামিন হয়ে যায়। সেখানে আজকে ১৮ মাসের ওপরে এরকম শারিরীক অবস্থায় উনি কারাগারে আছেন। ওনাকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। আজকে তার এই শারিরীক অবস্থার জন্যে সরকার দায়ী। তাকে কোনো রকমের সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার অবস্থা যেটা হয়েছে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। সেজন্য সম্পূর্ণরূপে সরকারই দায়ী।

এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন মোশাররফ হোসেন এমপি ও জাহিদুর রহমান এমপি। এর আগে বেলা তিনটার দিকে বিএনপি দলীয় চার এমপি খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। তারা চারটার কিছু আগে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার ও ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুল রহমান খোকন।

Print Friendly and PDF

———