চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘মানবিকতা’ বিবেচনায় ভারতকে ফেনী নদীর পানি : মন্ত্রণালয়

প্রকাশ: ৬ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:২৫ : অপরাহ্ণ

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা না হলেও ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি দিতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্ক উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় শনিবার দুই দেশের মধ্যে এ এমওইউ স্বাক্ষর হয়। তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১০ সালেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এমওইউ স্বাক্ষর হলো। মানবিকতা ও প্রতিবেশীসুলভতাকে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শনিবার (৫ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরায় সাবরুম শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিষয়টি স্বাক্ষরিত হয়। ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি শুধু পানের জন্য বিধায় মানবিকতা ও প্রতিবেশীসুলভতাকে বিবেচনা করে তাতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পানির পরিমাণ হলো ১ দশমিক ৮২ কিউসেক, যা কিনা পরিমাণে খুব সামান্য যেখানে ১ কিউসেক সমান ২৮ দশমিক ৩২ লিটার।

এতে আরও বলা হয়, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় ‘ডিসকাশন অব ওয়াটার রিসোর্স’ শিরোনামে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সেক্রেটারি লেভেলের মিটিং হয়। এ মিটিংয়ের গৃহীত সিদ্ধান্তপত্রের ৯ নম্বর আর্টিকেলে বলা হয়, টেকনিক্যাল লেভেল মিটিংয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি পানের জন্য দেয়া যেতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।

‘একই বছর মার্চে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকেও ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি দেয়া যেতে পারে বলে সম্মতি আসে। পরে ২০১২ সালে সম্পাদিত টেকনিক্যাল লেভেলের মিটিংয়ে বিভিন্ন দিক বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কিছু শর্ত সাপেক্ষে পানি দেয়া যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।’

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাম্পের সক্ষমতা ও অবস্থান, সরবরাহের জন্য একক পাইপ, নদী তীর ভাঙন-সংক্রান্ত দায়সহ একাধিক শর্তাবলির অধীনে এটি অনুমোদিত হয়। শুকনো মৌসুমে ফেনী নদীর পানির গড় পরিমাণ ৭৯৪ কিউসেক এবং বার্ষিক পানির গড় পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৮৭৮ কিউসেক। তাহলে দেখা যায় যে, ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার শুষ্ক মৌসুমের গড় পানিপ্রবাহের ০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

Print Friendly and PDF

———