চট্টগ্রাম, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ , ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

তিনশ বছরের প্রাচীন চট্টগ্রামের অলি খাঁ মসজিদ

প্রকাশ: 25 October, 2019 11:34 : AM

ওয়ালী খান মসজিদ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত একটি মসজিদ। ১৮শ শতকে নির্মিত এই মসজিদটি চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার এলাকায় অবস্থিত।  চট্টগ্রামের মোগল ফৌজদার ওয়ালী বেগ খান ১৭১৩ হতে ১৭১৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ওয়ালী খান চকবাজারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 

চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। জানা ইতিহাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে আরাকানী মঘীদের পাশা-পাশি মোগলদের প্রভাব লক্ষনীয়। ফলে গ্রামীণ সংস্কৃতিতেও এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

মোগল আমলের ঐতিহ্য ও প্রায় ৩০৫ বছরের পুরানো ‘অলি খাঁ শাহী জামে মসজিদ’। ১৭১৩ খ্রিষ্টাব্দে নবাব ওয়ালী বেগ খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বলে মনে করা হয়। অনিন্দ্য সৌন্দর্যে সজ্জিত এ মুসলিম স্থাপনার আসল সৌন্দর্য বাহির থেকে তেমনটা বোঝা যায় না। তবে ভেতরের অংশটা অনেক চমকপ্রদ। মুল মসজিদের দেয়ালগুলো অনেক পুরু।

দেয়ালের পুরত্ব প্রায় ১ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত। দেয়ালের গায়ে রয়েছে ছোট ছোট খোপ। যেগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখা হতো বলে ধারনা করা হয়। বর্তমানে এই খোপগুলোতে পবিত্র কোরআন শরীফসহ বিভিন্ন জিনিস রাখা আছে।

মসজিদের জন্য নির্ধারিত জায়গা প্রায় ১৮ শতক। তবে মুল মসজিদটি নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতক জায়গার উপর।

মুল মসজিদের রয়েছে বিশাল বিশাল ৬টি গুম্বুজ (চারটি বড় এবং দুইটি ছোট)। এই গুম্বুজগুলোই মসজিদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।

দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে থাকার পর ২০১০ সালে মসজিদটি ভেঙ্গে পুনরায় নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় কিছু লোকজন। পরে মুল মসজিদটি ভেঙ্গে নতুন মসজিদ গড়ার বিরোধিতা করেন কিছু সচেতন ব্যক্তি। তারা বলেন মুল মসজিদটি যেহেতু মুঘল আমলের স্থাপনা, এটি মুসলমানদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। তাই মুল মসজিদটি না ভেঙ্গে সামনের খালী জায়গায় নতুন করে মসজিদের ভবন নির্মান করার পরামর্শ দেন তারা।

অনেক দ্বন্দ্ব ও কানা ঘষার পরে ২০১১ সালে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে তখন তিনি মসজিদটি না ভেঙ্গে সংস্কারের পরামের্শ প্রদান করেন স্থানীয় প্রশাসনকে। তবে পুরাতন এই ঐহিত্য রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সরকারি ভাবে তেমন কোন সহযোগিতা করা হয় নি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দীন মসজিদটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে মসজিদটি পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেন।

ফলে ২০১৬ সালে মুল মসজিদের সামনে মসজিদটির নতুন আর একটি ভবন নির্মানের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে নতুন ভবনটি ৫ তলা সম্পন্ন হলেও এখনো নামাজ পড়ার উপযোগি করা সম্ভব হয় নি। প্রতি জুমাবারে মুসল্লিদের নামাজ পড়তে অনেক সমস্যা হয়। শত শত মুসল্লিকে জায়গা সংকটের কারনে রাস্তার উপরে নামাজ পড়তে হয়।

এদিকে, এ বিশাল মসজিদ পরবর্তীসময়ে ব্যাপক সংস্কারের ফলে তার অনেক অতীত বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছে। উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দেওয়াল বর্তমানে সংযোজিত বারান্দার পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে এবং মসজিদের ঐতিহ্যপূর্ন অবয়ব বাইরে থেকে আর দেখা যায় না।

আরো… 

Print Friendly and PDF

———