চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চীনের ৭০তম জাতীয় দিবসে বর্ণাঢ্য আয়োজন

প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৫৯ : পূর্বাহ্ণ

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭০তম জাতীয় দিবস। খবরে জানিয়েছে বিবিসি।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৬ মিনিটে সূর্যোদয় হয় বেইজিংয়ে। বেইজিংয়ের রাস্তা ছিল বরাবরের মতোই শান্ত আর নীরব। বেইজিং এমনিতেই পৃথিবীর দূষিত বায়ুর শহর গুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারণত বেইজিংয়ের আকাশ ধূসর আর নীল রং ধরে থাকে। যেন সকালের সূর্য স্পষ্টভাবে এই আয়োজনে যোগ দিতে পারে, তাই বেইজিংয়ের আশাপাশের কয়েকটি কয়লা ভিত্তিক এবং সাধারণ কারখানা জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে। জাতীয় দিবসকে সামনে রেখে চীনের ঘরে ঘরে জাতীয় পতাকা টানানো হয়েছে। জাতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছে শপিং মল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। কিন্তু বিদেশী পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের সাথে স্থানীয় চীনারা সহজ হতে পারছে না। বিভিন্ন বিদেশী সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিদের পুলিশ দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

চীনের জাতীয় দিবসে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং, মাও সে তুং যেখানে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে, চীনের নাগরিকদের জন্য উন্নত ও মানবিক জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে তার সরকার কাজ করছে বলে জানান। তিনি হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানের কথা উল্লেখ করে বলেন শীঘ্রই ওই অঞ্চলগুলোতে গোলযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। চীনের সামগ্রিক দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে তারাও অংশগ্রহণ করবে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চীন সরকার শান্তিপূর্ণ ঐক্যের পথেই হাঁটবে। এসময় তিনি মাও সে তুংয়ের মতো স্যুট পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। প্রেসিডেন্ট কোনো ধরণের রাখঢাক ছাড়াই চীনের স্বাধীনতায় মাও সে তুংয়ের ভূমিকা তুলে ধরে তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এরপর প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং কে বহনকারি গাড়িটি বর্ণাঢ্য সামরিক মহড়া পরিদর্শনের জন্য তিয়েনআমেন স্কয়ারে যায়। তিনি সমাবেতদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন এবং স্যালুটের জবাব দেন। সেখানে জড়ো হয়ে থাকা সামরিক বাহিনীর সদস্য, সাঁজোয়া যান, সামরিক কলা কৌশল প্রদর্শনকারীদের সামনে এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তার শুধুই সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা। কিন্তু এই যাত্রা যেন প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে হয়। তাহলে পৃথিবীর কোনো শক্তিই চীনের এই অগ্রযাত্রা রুখতে পারবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সামরিক মহড়া শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক মহড়া ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করেন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় স্পিকারে দেশাত্মবোধক সংগীত বাজতে থাকে। আকাশে ৭০ সংখ্যাটিকে প্রদর্শন করে এক ঝাক যুদ্ধ বিমান উড়ে যায়। আনুমানিক ১৫০টি যুদ্ধ বিমানের এই মহড়ায় অংশ নেওয়ার কথা। ব্যালেস্টিক মিসাইল ডিএফ-৪১ এবং ডিএফ-১৭ ও এই সামরিক মহড়ায় স্থান পায়। সারাবিশ্বের সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই মহড়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন, কারণ এখান থেকেই চীনের প্রতিরক্ষা খাতে নতুন সামরিক সংযোজনগুলোর প্রদর্শনী হওয়ার কথা।

পরিদর্শন শেষে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রেসিডেন্ট।
এই সামরিক মহড়া চীনের রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত হওয়ার পর জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছে বিবিসি। সিনা ওয়েবপেজে অনেকেই যেমন জাতীয়তাবোধ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহা চীনের জাতীয় দিবসে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তেমনই অনেকে এই চীনা সাম্রাজ্যের পতন চেয়েও মন্তব্য করেছেন।

তবে, লাখো চীনা এখানে মন্তব্য করে ইভেন্টের সাথে সংযুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও সিজিটিএনের লাইভ স্ট্রিমিংয়ে এই সামরিক মহড়া দেখেছেন আরও কয়েকলাখ চীনা নাগরিক।

Print Friendly and PDF

———