চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আবরারের গ্রামবাসীর তোপের মুখে বুয়েট ভিসি, ছোটভাইকে পেটালো পুলিশ!

প্রকাশ: ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:২৬ : অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের নৃশংস পিটুনিতে নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাড়িতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। পরে আবরারের বাড়িতে গিয়ে সান্ত্বনা না জানিয়েই তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তবে তিনি আবরারের কবর জিয়ারত করেছেন।

বুধবার বিকাল পাঁচটার দিকে বুয়েট ভিসি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের বাড়িতে যান। বাড়িতে ঢোকার সময় তিনি জনসাধারণের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করে জেলা প্রশাসনের গাড়িতে করে তিনি রায়ডাঙ্গা ত্যাগ করেন।

এর আগে আগে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে আবরারের কবর জিয়ারত করতে রায়ডাঙ্গায় যান উপাচার্য। তিনি সেখানে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কবর জিয়ারত করেন।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন বুয়েট ভিসি। তবে সেখানে গিয়ে শত শত গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি ফিরে আসেন।

আবরারের ছোট ভাই ও নারীদের পুলিশের ‘মারধর’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ফায়াজ ও দুই নারীকে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফায়াজ তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি পুলিশের এডিশনাল এসপি ‘মোস্তাফিজুর রহমান’কে দায়ী করেছেন।

জানা যায়, বুধবার বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আবরারদের বাড়ি কুষ্টিয়ায় গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আবরারের ছোট ভাইসহ আহত হন তিনজন।

ফায়াজ তার ফেসবুক পোস্টে বলেন-

‘আজকে Additional SP (উনি বলেন উনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পায় আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবি কে মারছে? নারী দের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেয়? এই চাটুকার দের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২মিনিটে জানাযা শেষ করতে বলেন কিভাবে? যেই ছাত্র লীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? বিচার চাই,,আমি বিচার চাই,,, নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন বাবা মা কষ্ট একবারে পাবে।।।’

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আবরারের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলায় রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান। এরপরই এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন। আবরারের মৃত্যু, তার জানাজায় বুয়েট উপাচার্যের উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।

বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। রবিবার মধ্যরাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার মাঝামাঝি সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গতকাল সোমবার বুয়েট ছাত্রলীগের ১৩ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে ১৯ জনকে আসামি করে গতকাল রাতে চকবাজার থানায় মামলা করেছেন তার বাবা বরকতুল্লাহ। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুয়েট শাখার ১১ জন নেতা-কর্মীকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফেনী নদীর পানি বণ্টন ও বন্দর ব্যবহারসহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় শিবির সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

Print Friendly and PDF

———