চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে নিখোঁজ যুবককে হত্যার অভিযোগে আটক ১

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৯:১৬ : অপরাহ্ণ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থেকে মিরসরাইয়ে শ্রমিকের কাজ করতে এসে গত ২৬ জুলাই উপজেলার সুফিয়া রোড এলাকা থেকে রঞ্জন রায় (২০) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছে। এই ঘটনায় নিখোঁজ রঞ্জনের বাবা যতীশ রায় গত ৭ আগস্ট মিরসরাই থানায় একটি সাধারন ডায়েরী দায়ের করেন।

নিখোঁজের সুত্র ধরে তদন্তে নামে মিরসরাই থানা পুলিশ। নিখোঁজ রঞ্জন রায়ের ব্যবহৃত মোবাইলটি ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বাদশা নামের একজনকে আটক করে পুলিশ। বাদশা মিরসরাই পৌরসভার তালবাড়িয়া গ্রামের মো. লাাদেন এর পুত্র।

মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ জাহেদুল কবির জানান, গ্রেফতারকৃত বাদশার দেয়া তথ্যমতে জানা যায়, নিখোঁজ রঞ্জনকে তারা সহপাঠিরা ডেকে নিয়ে গিয়ে আবুতোরাব বড়তাকিয়া সড়কে কালভার্ট এর নিচে হত্যা করে বস্তায় করে সিএনজি যোগে মিরসরাই দুর্গম পাহাড়ের চুড়া থেকে ফেলে দেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে ১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর থেকে দুপুর নাগাদ পুলিশ ও পিআইবি যৌথ অভিযান চালিয়ে মৃতদেহ খুঁজে পায়নি।

ওসি জাহিদুল কবির আরো জানান, আটককৃত বাদশাকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে যুক্ত আরো ৩জনের নাম পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিরসরাইয়ের বন রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, দুর্গম পাহাড়ে শুকর ও শেয়াল সহ কিছু হিং¯্র প্রাণি বসবাস করে। কোন প্রাণীর মৃতদেহ এখানে একদিন পর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবার কথা নয়।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও জেলার রঞ্জন রায় প্রায় ৩ মাস আগে এলাকার আরো দুইজন ছেলের সাথে মিরসরাইয়ে রাজমিস্ত্রীর শ্রমিক হিসেবে কাজে আসে। সে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া এলাকায় দুয়ারু গ্রামে রাজমিস্ত্রীর শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত ২৬ জুলাই আরো কয়েকজন শ্রমিকসহ মিরসরাইয়ের সুফিয়া রোড এলাকা দিয়ে পূর্ব দিকে পাহাড় দেখতে যায়। এরপর তার সাথের অন্য শ্রমিকরা ফিরে এলেও সে কোথায় গেছে তা কেউ বলতে পারছেন না। সেদিন থেকে বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কখনও চালু থাকে, আবার কখনও বন্ধ পাওয়া যায়। রঞ্জনের কোন সন্ধান না পেয়ে মিরসরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছিলো।

Print Friendly and PDF

———