চট্টগ্রাম, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লজ্জার হার বাংলাদেশের

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:১৮ : অপরাহ্ণ

আবারও লজ্জার হার বাংলাদেশের। আফগানিস্তানের দেয়া ১৬৫ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ২৫ রানের হার স্বাগতিকদের। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এ সংস্করণে ২৫ রানের হার বড় হারই বলা চলে। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে প্রথম দল হিসেবে টানা ১২টি ম্যাচে জয় পেল রশিদ খানরা।

প্রতিদিনের মত আজও ক্রিকেট শিখতে নেমেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ১৯.৫ বলে সব ক’টি হারিয়ে বাংলাদেশ করে ১৩৯ রান।

কোন রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে লিটন দাস। প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নেমে কিছুই করতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ১৫ রান করা অধিনায়কও ফিরেছেন দলকে বিপদে রেখে। ডাক মেরেছেন সৌম্য সরকারও। ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ধুকছে টাইগাররা।

মাহমুদউল্লাহ-সাব্বির দুজনে টেনে তোলার টেষ্টা করলেও তা জয়ের জন্য যথেস্ট ছিলো না। তাদের রান তোলা মোটেও টি-টোয়েন্টি স্টাইলের ছিলো না। ওয়ানডে স্টাইল রান তুলে ব্যক্তিগত ৪৪ রান করে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ।
সাব্বির রহমান যতন বিদায় নিলেন, তখন দলীয় রান ৯৫।

টেল এন্ডাররাও এদিন ভালো কিছু করতে পারেননি। আফিফ হোসেন ফিরেছেন ১৬ রান করে। মোসাদ্দেক-সাইফউদ্দিনরা যখন ব্যাট করতে নেমেছেন , তখন জয় ছিলো প্রায় অসম্ভব। মোসাদ্দেক-সাইফউদ্দিনের বিদায়ে আফগানদের জয়ের পাল্টাটা বেড়েছে। মোস্তাফিজুর রহমানের ১৫ রানের ইনিংস ব্যবধান কমিয়েছে। ১ বল হাতে রেখেই ১৩৯ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

আফগানদের পক্ষে মজিবুর রহমান নেন ৪, রশিদ খান ২, গুলবাদিন নাইব ২ ও ফরিদ মালিক ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে শুরুটা ছিলো টাইগার বোলাদের। সাইফ-সাকিব তোপে ১৯ রানেই নেই ৩ উইকেট। টাইগারভক্তরা অল্প রানে গুটিয়ে আশা দেখলেও বাধ সাধে মোহাম্মাদ নবী-আসগর আফগান। মোহাম্মাদ নবীর ৮৪ ও আসগর আফগানের ৪০ রানের ইনিংসে ভর করে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। ফলে বাংলাদেশের জিততে হলে করতে হবে ১৬৫ রান।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। শুরুটা করেন সাইফউদ্দিন। ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে বিদায় নেন রহমাতুল্লাহ গুরবাজ। পরের ওভারেই আঘাত হানেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি আফগান ওপেনার হযরতুল্লাহ জাজাইকে ক্যাচে পরিণত করেন। পরের আঘাত হানেন সাইফউদ্দিন। এবার তার শিকার নাজিব তারাকাই। বিদায়ের আগে তিনি করেন ১১ রান। এরপর ৫ রান করা নাবিবুল্লাহ জাদরানকে ফেরান অধিনায়ক সাকিব।

সেখান থেকে বড় এক জুটি মোহাম্মদ নবী আর আসগরের। ৫৩ রানেই এই জুটিটি আটকে যেতে পারতো। তাইজুল ইসলামকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ হয়েছিলেন নবী, তিনি তখন ৩০ রানে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওভারস্টেপিংয়ের কারণে সেই বলটি ‘নো’ হয়ে যায়।

নবী-আফগানের এই জুটিটিই ঘাম ঝরিয়েছে টাইগারদের। ৬২ বলে ৭৮ রান যোগ করেন তারা। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। ১৭তম ওভারে আবারও সাইফউদ্দীনের হাতে বল তুলে দেন সাকিব।

আর বল হাতে নিয়েই আরেকবার ঝলক দেখান এই অলরাউন্ডার। ৩৫ বলে ৪০ রান করা আসগরকে সাব্বিরের ক্যাচ বানান দ্বিতীয় বলে, পঞ্চম বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইংগারে বোল্ড করেন গুলবাদিন নাইবকে (০)।

বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল সাইফউদ্দীন। প্রথম তিন ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিলেও অবশ্য শেষ ওভারের ১৭ রান খরচায় মোট দিয়েছেন ৩৩। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন সাকিব।

Print Friendly and PDF

———