চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শুদ্ধি অভিযানে খুশি তৃণমূল আ. লীগ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৮:৩৫ : পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দলের যেসব নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি, অন্যায়, অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করছে সরকার।

এই অভিযানে চাঁদাবাজ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও টেন্ডার বাজ নেতা-কর্মীরা নাখোশ ও আতঙ্কে থাকলেও আদর্শিক ও ত্যাগী নেতারা এ ব্যাপারে ভীষণ খুশি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অল্প সংখ্যক নেতার কারণে পুরো আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নের মুখোমুখি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রী-এমপিদের ছত্রছায়ায় অপকর্ম হলেও সকল বাধা উপেক্ষা করে সরাসরি ব্যবস্থা নিতেও বার্তা দেয়া হয়েছে। দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বার্তা দেয়া হয়েছে তৃণমূলে।

অপরাধ নির্মূল ও দলের শুদ্ধি অভিযানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাগত জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বলছেন, “দলের কিছু চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশকারীদের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।

গুটি কয়েক অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ নেতাদের কারণে সকল নেতা-কর্মীদের ঢালাওভাবে খারাপ বলে জনগণ। গুটিকয়েক অপরাধী, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের কারণে ভালো ও সুস্থ ধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কোণঠাসা হয়ে থাকেন।”

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাসেল বলেন, “আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অপকর্ম, অনিয়ম দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে যারা এত দিন অপরাধ করতো তারা এখন টেনশন ও পেরেশানির মধ্যে রয়েছে। অপরাধকারীরা নিজেদের আখের গোছালেও দলের কোনো ভালো কাজে আসে না।

আমরা যারা দলের পজেটিভ ইমেজ ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছি। এই অভিযানে আমরা সন্তুষ্ট ও খুশি হয়েছি। দলের সুন্দর পরিবেশ ও সুস্থ রাজনীতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আরো কঠোর হতে হবে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানের কারণে দেশ ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।”

শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ধর্ম উপ-কমিটির সদস্য মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফেয়ী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়তে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানকে সাধুবাদ জানাই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে যে মদ ও জুয়াকে নিষিদ্ধ করেছিলো। আর আমরা তার আদর্শের অনুসারী দাবি করে সে পথেই টাকা উপর্জন করছি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।”

“এই অভিযান নিয়ে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদেরও একই সুরে কথা বলতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীরা কষ্টে থাকলেও অন্যায় অপরাধের সাথে আপোষ করেন না।”

এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব হাসান সোহেল বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে দলের বদনাম করছে।

অনুপ্রবেশকারীরা বিভিন্ন দল থেকে এসে আওয়ামী লীগে ভিড় করছে। তারা এখন টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগ ও দলের সহযোগী সংগঠনকে বিতর্কিত করতে চায়।

অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে ত্যাগী ও দলের পুরাতন নেতা-কর্মী হুমকিতে থাকেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চাই না কেউ আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করুক। কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সরকারের উন্নয়ন ও দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক।

আমি এই শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই। অভিযান জোরদার করা উচিত বলেও আমি মনে করি।”

শুধু দলের ত্যাগী নেতারাই নন, সারাদেশের মানুষও চলমান শুদ্ধি অভিযানে সরকারের উপর খুশি। এতে সরকারের ইমেজও বাড়ছে। তাদের মতে, এই শুদ্ধি অভিযান এখনই বন্ধ করে দিলে জনগণের কাছে ভিন্ন বার্তা যাবে, যা আওয়ামী লীগ ও সরকারের জন্য ইতিবাচক হবে না।

চলমান শুদ্ধি অভিযানের বিষয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতির ও অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে দেশবাসী আশান্বিত।

জনগন আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সঠিক ও সফলভাবে এই অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে। কারণ দুর্নীতির কালো থাবায় সমগ্র রাষ্ট্র আজ ক্ষত-বিক্ষত। দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীই হচ্ছেন শেষ ভরসার স্থল। দেশবাসী তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।’

Print Friendly and PDF

———