চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ব্রেক্সিট ঠেকাতে একাট্টা বিরোধী ও বিদ্রোহীরা

প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:২২ : অপরাহ্ণ

বহুল আলোচিত ব্রেক্সিট নিয়ে ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। বিরোধী পক্ষ ও নিজ দলের বিদ্রোহীরা একত্রে পেয়েছেন ৩২৮৭ ভোট। বিপরীতে জনসনের বাক্সে জমা পড়েছে ৩০১ ভোট।

ব্রেক্সিট নিয়ে ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গন যখন উত্তপ্ত ঠিক এমন সময় জনসনের পরাজয় ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আসন্ন বিচ্ছেদের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনসনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আজ বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিলো ‘চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধী’ এমপিরা। ফলে কোনও ধনের চুক্তি ছাড়া ইইউয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঠেকাতে আজই বিজয়ী এমপিরা পার্লামেন্টে একটি বিল আনতে পারবেন। যদিও ভোটে পরাজয়ের পর জনসন জানিয়েছেন, আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন তিনি।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর ইইউয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার কথা। যেটিকে ব্রেক্সিট হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসা হচ্ছে। কিন্তু কীভাবে, কোন চুক্তিতে সেই বিচ্ছেদ হবে, এ নিয়েই ব্রিটিশ রাজনীতিতে কৌতুলহ বাড়ছে প্রতিদিন। বাড়ছে আলোচনাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইইউয়ের সঙ্গে এই ছাড়াছাড়ি নিয়ে কোনও চুক্তি হোক বা না হোক আগামী ৩১ অক্টোবরের পর থেকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যে ইইউয়ের কোনও সম্পর্ক থাকবে না সেটি নিশ্চিত। আর জনসনও নির্ধারিত তারিখের বিচ্ছেদের পক্ষে মত দিয়েছেন।

গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ব্রেক্সিট ইস্যুতে গত মঙ্গলবার ব্রিটেনের পার্লামেন্টে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের আগেই এক সভায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন জানিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট তার দলের যেসব এমপি-মন্ত্রীরা বিরোধিতা করবেন তাদেরকে তিনি ছাঁটাই করবেন। কিন্তু বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে শেষ পর্যন্ত হাউজ অফ কমন্সে ২৭ ভোটে হারতে হলো তাকে। যেখানে তার দলের ২১ জন এমপিসহ বেশ কয়েক সাবেক মন্ত্রীও আছেন। যারা সরকারকে হারাতে ভোটাভুটিতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

এখন বিরোধী ও বিদ্রোহীরা ‘চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট’ বিলম্বিত করতে পার্লামেন্টে বিল আনতে পারবেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, বহিষ্কার হুমকি ও আগাম নির্বাচনের কথায় ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহীরা হয়তো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন।

তবে প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান বরিস জনসন চাইলেও অক্টোবরে নির্বাচন দিতে পারবেন না। কারণ ব্রিটেনের সংবিধান অনুযায়ী, ৫ বছর মেয়ার পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও আগাম নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার। সেই ক্ষেত্রে বিরোধী দল লেবার পার্টি যদি জনসনকে সমর্থন না দেয় তবে তার পক্ষে অক্টোবরে আগাম নির্বাচন দেয়া সম্ভব নয়।

এদিকে লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন মনে করেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে সায় নেই যুক্তরাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের। তাই ভোটাভুটির আগেই ব্রেক্সিট ঠেকাতে পার্লামেন্টে বিল পাস হওয়া উচিত ছিল।

Print Friendly and PDF

———