চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ , ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে স্কুলশিক্ষকের শিশুকে পাওয়া গেল ফুটপাতে বস্তার ভেতরে

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৮:১৬ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সীমানা প্রাচীর ঘেরা ফুটপাতের একটি ব্যাগ থেকেই আসল এক শিশুর কান্নার আওয়াজ। পথশিশুর মুখে এ কথা শুনে বিস্মিত হলেন পুলিশের এএসআই হামিদুল ইসলাম। তিনি গিয়ে উদ্ধার করলেন। নিয়ে গেলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।

সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসাধীন। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়েছেন বলে জানা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই নবজাতকের বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। ওই শিক্ষকের বাসা থেকেই শিশুটি হারিয়ে গিয়েছিল। নগরীর চকবাজার থানার মেহেদীবাগের বাসা থেকে ওই শিশুটিকে সার্কিট হাউজের সামনে এনে কে বা কারা ফেলেছে, সেটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এএসআই হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চারজন সার্কিট হাউজ এলাকায় দায়িত্বরত ছিলাম। এমন সময় এক পথশিশু দৌঁড়ে খবর দিল যে, একটি ব্যাগের ভেতর শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। আমরা সার্কিট হাউসের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে একটি চটের ব্যাগে শিশুটিকে কান্না করা অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করাই।’

চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটিকে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা দিয়েছেন। ধারণা করছি, প্রায় আধ ঘণ্টার মতো শিশুটি ব্যাগের মধ্যে বন্দী ছিল। তাই শিশুটি কান্নাকাটি করছিল বলে মনে হচ্ছে। তবে এখন তার সুস্থতায় প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি চমেক হাসপাতালের প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’

চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, চিটাগাং গ্রামার স্কুলের (সিজিএস) একজন শিক্ষক বেলা অনুমানিক ১২টার দিকে ৯৯৯ ফোনে করে তার মেহেদীবাগের বাসা থেকে সন্তান চুরির অভিযোগ করেন।

“অভিযোগ পেয়ে আমি ওই বাসায় গিয়েছিলাম। সে সময় এক রিকশাচালক যাত্রী নিয়ে মেহেদীবাগের দিকে যাওয়ার পথে জানায়, সার্কিট হাউসে একটি বাচ্চা পাওয়া গেছে, তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।

“এরপর শিশুর মা-বাবাকে নিয়ে আমরা হাসপাতালে যাই। সেখানে শিক্ষক দম্পতি তাদের ৪০ দিন বয়েসী কন্যা শিশুটিকে শনাক্ত করেন।”

পুলিশ কর্মকর্তা রিয়াজ বলেন, “সিজিএসের শিক্ষক ওই বাসায় স্ত্রী, ১০ বছর বয়সী আরেক ছেলে ও মাকে নিয়ে থাকেন। শিশুটির মা জানিয়েছেন, শিশুটিকে খাটের ওপর রেখে তিনি চার তলা থেকে নিচে নেমেছিলেন ওষুধ কিনতে। ওই সময় তার শ্বাশুড়ি ছিল বাথরুমে। বাসায় ফিরে শিশুসন্তানকে না পেয়ে ফোন করে স্বামীকে জানান।”

শিশুটির নাম মনীষা

কাজীর দেউড়ির সার্কিট হাউস এলাকায় পাওয়া শিশুটির নাম মনীষা। তার বয়স মাত্র ৪০ দিন। বাবা মানিক চক্রবর্তী স্কুলশিক্ষক। ধারণা করা হচ্ছে-নগরের মেহেদিবাগের বাসা থেকে শিশুটি কেউ চুরি করেছে। পুলিশ দেখে কিংবা কান্নাকাটি দেখে ধরা পড়ার ভয়ে সার্কিট হাউসের প্রাচীরের মধ্যে ফেলে গেছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মনীষার দেখাশোনা করছেন মানিক ও তার স্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত ২০ আগস্ট নগরের বাদামতল মোড় থেকে কর্তব্যরত পুলিশ কুকুরের মুখ থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেন। বর্তমানে শিশুটি চমেক হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে চিকিৎসাধীন আছে। নবজাতকের তত্ত্বাবধান করছে চমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি।

Print Friendly and PDF

———