চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কারবালা দিবসকে মহা শাহাদাত দিবস ঘোষনা , বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৪:১৬ : অপরাহ্ণ

আগামী দশ ই মহররম ১০ ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ঐতিহাসিক মহান শাহাদাতে কারবালা দিবস। কারবালার ময়দানে ফোরাতের তীরে এদিন মিথ্যা ও জুলুমের ধারার গ্রাস থেকে সত্য ও মানবতার ধারা রক্ষায় অভিশপ্ত কাফের এজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে স্বপরিবারে শাহাদাত বরণ করতে হয় আল্লাহতাআলার মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৌহিত্র ও আদর্শের ধারক-বাহক-রক্ষক প্রতিনিধি এবং ইসলামের প্রাণপ্রদীপ ইমামে আকবার হজরত ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহু ও তাঁর সাথীবৃন্দকে।

সত্য ও মানবতার আত্মিক ও রাষ্ট্রীয় রূপরেখার দিকদর্শন হিসেবে এবং মিথ্যা ও জুলুমের স্বৈরদস্যুতন্ত্র মুলুকিয়ত থেকে দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার সুরক্ষায় মুক্তির চির অবিস্মরণীয় দিকদর্শন কারবালার এ মহান শাহাদাত।

ঈমানী ও মানবিক অস্তিত্ব ও জীবনের স্বাধীনতা রক্ষায় অপরিহার্য্য এ মহান শাহাদাতের আলোকময় শিক্ষা-চেতনা ও দিশা জারি রাখার জন্য মুসলিম মিল্লাত ও মানবতার ইমাম আল্লামা ইমাম হায়াত দশ ই মহররম শাহাদাতে কারবালা দিবসকে মুসলিম মিল্লাতের মহান জাতীয় শহীদ দিবস ও সমগ্র মানবতার মুক্তির মহা শাহাদাত দিবস হিসেবে ঘোষনা করেছেন, বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের মাধ্যমে আজ চল্লিশ বছর ধরে সারা দুনিয়ায় যথার্থ লক্ষ্যে মিল্লাত ও মানবতার মুক্তির শহীদ দিবস হিসেবে পালন করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা চেতনা তুলে ধরার জন্য এবং এ মহান শাহাদাতের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে সত্য ও মানবতার মুক্তি সাধনায় এ দিন চট্টগ্রাম লালদিঘী ময়দানে এক বিশাল মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে।

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, দশ ই মহররম উপলক্ষে প্রচলিত ধর্মীয় মাহফিল সমূহের সাথে এ মহাসমাবেশের ব্যাপক মৌলিক পার্থক্য আছে।

প্রচলিত মাহফিল সমূহে প্রায়ই কারবালার ঘটনা বর্ণনা করা হলেও এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কোন দিশা দেখতে পাই না। অনেক ক্ষেত্রে এ উপলক্ষের প্রোগ্রাম সমূহে এ মহান শাহাদাতের আদর্শের বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হয়, ফলে এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে আত্মা ও জীবনের বিভিন্ন স্তরে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ও মানবজীবনের স্বাধীনতা ও মুক্তির দিশা বিলুপ্তির মূখে পড়েছে।

মহান শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা চেতনা হারিয়ে মুসলিম মিল্লাত ও সমগ্র মানবমন্ডলী মিথ্যা ও জুলুমের ধারক বিভিন্ন স্বৈরতান্ত্রিক অপশক্তির গ্রাসে নিমজ্জিত হয়েছে।

মহান কারবালার শাহাদাত সম্পূর্ণভাবে আদর্শিক। এজিদবাদি অপশক্তি শুধু ব্যক্তি ইমামে আকবার রাদিআল্লাহু আনহুকে খুন করেনি, খুন করেছে কলেমার চেতনা ও মর্মধারা তাওহীদ রেসালাত ভিত্তিক জীবন চেতনা ও তার রাষ্ট্র কাঠামো, খুন করেছে জীবন মানবতার স্বাধীনতা ইজ্জত রিজিক অধিকার গতি বিকাশ ও সত্যের মুক্ত প্রবাহের কাঠামো খেলাফতে ইনসানিয়াত, ঈমান-দ্বীন-মিল্লাত-মানবতার মুক্তির রূপরেখা ও তার ধারক বাহক রক্ষক প্রতিষ্ঠানকে খুন করেছে।

শাহাদাতে কারবালার লক্ষ্য ও চেতনা আদর্শিকভাবে মুমিনের হৃদয়ে বেঁচে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যা আজও নিহত হয়ে আছে, নাস্তিক্যবাদি বস্তুবাদি এজিদবাদি অপশক্তি তাদের মিথ্যা-অবিচার-খুন-সন্ত্রাস-পাশবতা-বর্বরতা-নৃশংসতা স্বৈরদস্যুতার কাঠামো মুলুকিয়ত বা একক গোষ্ঠীবাদি অপরাজনীতির ধারায় কলেমা কারবালার বিপরীত কাঠামো এখনো কায়েম রেখেছে এবং আমরা সত্য ও মানবতার ধারা এখনো পরাজিত, সত্য ও মানবতার মুক্তিসূর্য্যরে উদয়স্থল খোদ কেবলাভূমি আল আরব পর্যন্ত এখনো ওদের এজিদবাদি কুফরী মুলুকিয়তের জবরদখলে, একই সাথে সারা দুনিয়ায় প্রতিটি ইি এবং অলীআল্লাহগণ ব্যতীত প্রায় সব মানুষের আত্মা ও জীবন বস্তুবাদি ও স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক অপশক্তির দখলে রুদ্ধ অবরূদ্ধ।

আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, শাহাদাতে কারবালার খুনী সত্যবিরূদ্ধ ও জীবনের স্বাধীনতা হরণকারী স্বৈরচক্র এখনও ইসলামের নামে বেনামে সক্রিয় আছে। ইসলামের ছদ্মনামধারী বাতিল ফেরকা ওয়াবি-সালাফি-শিয়া-খারেজী-মওদুদিবাদি প্রভৃতি ঈমান বিনাশী ও দ্বীন বিকৃতকারী সম্প্রদায় এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা-চেতনা-আদর্শ বিলুপ্তি করে বিপরীত ধারা কায়েমের চেষ্টা করে আসছে।

একই সাথে বস্তুবাদি মতবাদ ও বিভিন্ন ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদ এবং তাদের একক গোষ্ঠীবাদি অপরাজনীতির ধারায় একক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সারা দুনিয়ায় বিভিন্ন ভাবে এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা চেতনা ও আদর্শের বিপরীতে সত্য ও মানবতার বিরূদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

এটা দিবালোকের মত সুস্পষ্ট যে, হজরত ইমামে আকবার ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহুর এ অতুলনীয় মহা শাহাদাত সত্যের কলেমার আলোকে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আত্মিক ও রাজনৈতিক তথা জীবনের সকল অধ্যায়ে দয়াময় আল্লাহতাআলার হাবীব প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত মুক্তির দিশাকে সমুন্নত করে তুলে ধরেছে, যা আজ বিভিন্ন অপশক্তির চক্রান্তে তাদের দোসরদের সহায়তায় প্রায় বিস্মৃত হয়ে জীবন ও দুনিয়া আঁধারে নিমজ্জিত হয়েছে।

হজরত ইমামে আকবার ইমাম হুসাইন রাদিআল্লাহু আনহুর শাহাদাত সুস্পষ্টভাবে সত্যের কলেমার চেতনা প্রতিফলিত করে জীবনের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে তুলে ধরেছে। জীবন সত্যের দর্শন ও জীবনের স্বাধীনতা এবং সর্বজনীন মানবাধিকার রক্ষায় এ মহান শাহাদাতে আমরা দুইটি দিশা স্পষ্ট দেখতে পাই যার একটি আত্মিক ও অন্যটি রাজনৈতিক।

আত্মিক বিষয় হিসেবে বস্তুবাদি মিথ্যার আঁধার গ্রাস থেকে মানবিক সত্তা ও ঈমানী সত্তা রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক দিশা হিসেবে একক গোষ্ঠীর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীবাদি স্বৈরদস্যুতন্ত্র মুলুকিয়ত থেকে মানবজীবন ও রাষ্ট্রকে রক্ষা করা।

এ মহান শাহাদাতের আদর্শে আমরা বিশ্বাস করি যে, জীবন সকল বস্তুর ঊর্ধ্বে, রাষ্ট্রেরও ঊর্ধ্বে; মানবাত্মা বস্তুবাদি হতে পারে না। জীবনের ঊর্ধ্বে কেবল জীবনের দয়াময় স্রষ্টা ও স্রষ্টার প্রত্যক্ষ আলো স্রষ্টার মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ভাষা-গোত্র-লিংগ-বর্ণ-দেশ-রাষ্ট্র-সীমান্ত কোন বস্তুর ভিত্তিতে মানুষের মূল আত্মপরিচয় জীবনের সত্য ও মর্যাদা অস্বীকার এবং এসব বস্তুবাদি চেতনায় অখন্ড মানবতার বিভক্তি ও বিভেদ ধ্বংসাত্মক।

এ মহান শাহাদাতের শিক্ষায় আমরা বিশ্বাস করি যে, আত্মা ও জীবন যেমন সব কিছুর ঊর্ধ্বে এবং মানবজীবন মুক্ত ও স্বাধীন তেমনি প্রকৃত ধর্মের মূল্যবোধ ও মানবিক ন্যায়ের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র এক ধর্ম বা এক জাতির হতে পারে না, হতে হবে ধর্ম আদর্শ নির্বিশেষে সর্বজনীন।

এ মহান শাহাদাতের শিক্ষা ঈমানী সত্তা ও মানবিক সত্তা এবং মতপথ নির্বিশেষে দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-মর্যাদা-অধিকারের সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও মানবিক সাম্যের ভিত্তিতে মুক্ত মানবতার অখন্ড বিশ্বব্যবস্থা খেলাফতে ইনসানিয়াত (authority of life & state & world of universal humanit) গড়ে তোলার লক্ষ্যে এতদুপলক্ষে আগামী দশ ই মহররম ১০ই সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার লালদিঘী ময়দানে আয়োজিত এ মহাসমাবেশে আপনাদের আন্তরিক আমন্ত্রণ এবং আপনাদের সর্বাত্মক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।

সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটি পক্ষে অধ্যক্ষ মাওলানা শফীউল আলম শফী নগরী, মাওলানা সুফিয়ান সালেহী, মাওলানা নিজাম উদ্দিন আশরাফী, মোর্শেদুল হক কাদেরী, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন

Print Friendly and PDF

———