চট্টগ্রাম, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ , ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বদলি হচ্ছেন রামগড় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ৮:১৬ : অপরাহ্ণ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে এই কর্মকর্তা আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর বদলি হচ্ছেন লক্ষপুর জেলার রামগতি উপজেলায়।

তিনি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর রামগড় উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া পাশ্ববর্তী লক্ষিছড়ি উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জন্যে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় বাবত ৮০ হাজার টাকা ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামত বাবত ৩০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করলেও বাস্তবে তার কার্যালয়ে উল্লেখিত বিলের নতুন আসবাবপত্র ক্রয় ও পুরাতন আসবাবপত্র মেরামতের কোনাটাই করা হয়নি।

১২ মে ২০১৯ তারিখে সেগুন কাঠের তৈরী ২টি সেক্রেটারী টেবিল ৩৪ হাজার টাকা, ২টি আলমীরা ৩০ হাজার টাকা এবং ৬টি চেয়ার ১৬ হাজার টাকাসহ মোট ৮০ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে রামগড়স্থ মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্ট, মেসার্স ছালাম ফার্নিচার মার্ট ও মেসার্স কুমিল্লা ফার্নিচার মার্ট থেকে তৈরীর ক্যাশ মেমো দেখিয়ে বিল উত্তোলন করলেও মেসার্স ফারুক ফার্নিচার মার্ট এর মালিক জানান, গত বছর একটি খাট ছাড়া ঐ কর্মকর্তা আর কিছু তৈরী করেননি ।

এদিকে অফিসের পুরাতন আসবাবপত্র মেরামতের ৩০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করলেও কোন আসবাবপত্র মেরামত করা হয়নি। গত অর্থ বছরে রামগড় ও লক্ষিছড়ি উপজেলায় কয়েকদাপে বকেয়াসহ ভ্রমণ ভাতা উত্তোলন করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। স্থানিয় একটি লাইব্রেরী থেকে অস্বাভাবিক মূল্য দেখিয়ে অফিস স্টেশনারী ক্রয় করেছেন ৭০ হাজার টাকা ও অফিসের ২টি কম্পিউটারের মেরামত দেখানো হয় ৩৫ হাজার টাকা।

রামগড়ের পাশাপাশি লক্ষিছড়ি উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকার কারণে প্রায় সবকটি চাহিদা ও বিল যৌথভাবে উত্তোলন করেন। এদিকে গত ১ আগষ্ট থেকে টাকা ১৯ দিন ছুটিছাড়া কর্মস্থলে না থাকা ও মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্তেও ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে অনুপস্থিত থাকা সহ রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ।

অপরদিকে গত অর্থবছরে ঘুর্ণিঝড় ও বন্যায় অতিরিক্ত বরাদ্ধ এনে তা আত্মসাৎের অভিযোগে গত মে মাসে জেলা অতিরিক্ত এডিসি আবুল হাসেম তার বিরুদ্ধে সরেজমিনে তদন্ত করেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সহকারী নিলিময় চাকমা লিখিত বক্তব্যে জানান, তার স্যার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন গত ১ আগষ্ট থেকে ১৯ আগষ্ট কর্মস্থলে ছিলেন না। ১৫ আগষ্ট শোক দিবসের কর্মসূচিতেও ছিলেন না। ছুটি কিংবা কোন প্রশিক্ষণও ছিলোনা বলে তিনি জাননা। কার্যালয়ের নতুন কোন আসবাবপত্র ক্রয় ও মেরামতের কিছু তিনি জানেন না। স্যার কাগজপত্র তৈরী করতে বলেছেন তিনি তৈরী করেছেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন এর সাথে এ প্রতিনিধি অফিস চলাকালীন সময়ে পরপর ৩ দিন তার অফিসে অবস্থান করলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। তার অফিস কর্মচারী তার অবস্থান জানাতে পারেননি।

লক্ষিছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল জানান, লক্ষিছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রিয়াদ হোসেন। গত জুনের আগেই নতুন ফার্নিচার ক্রয় সংক্রান্ত বিলটি উত্তোলন করলেও বাস্তবে তার অফিসে নতুন কোন ফার্নিচার না থাকার বিষয়টি জানার পর তাকে ডাকা হলে এক সপ্তাহ আগে হাতিল থেকে কিছু ফার্নিচার নিয়ে আসেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে ইসরাত জানান, এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। কাজ না করে ভুয়া বিল তৈরী করে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ ক্ষমার অযোগ্য বলে তিনি জানান। এই কর্মকর্তার সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েও তিনি সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।

Print Friendly and PDF

———