চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পরিবহনে প্রযুক্তির জয়জয়কার: মানুষের কাজ করে ড্রোন, রাস্তা শোনায় গান

ফজলুর রহমান প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ৯:৩৪ : পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের সর্বপ্রথম নিয়মিত মানবিক ড্রোনের দেখা মিলেছে। এটির সরবরাহ সার্ভিসের মাধ্যমে “সহস্র পাহাড়ের দেশ” নামে খ্যাত রোয়ান্ডায় জরুরী রক্ত ও ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিলিকন ভ্যালি রোবোটিক্সের একটি উদ্যোগ ‘Zipline’ এবং রোয়ান্ডা সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই ড্রোনের বহরে zips নামে পরিচিত ১৫ টি ড্রোন রয়েছে, যেগুলো লাগাতারভাবে প্রাণরক্ষাকারী উপকরণ, ঔষধ ও জরুরী রক্ত সরবরাহ করে থাকে দিনের ২৪ ঘন্টা।

একটি গুলতি ছোঁড়ার ব্যবস্থা থেকে এই ড্রোণগুলোকে উৎক্ষেপন করা হয় এবং এগুলো এর পর ভুমির ১৫০ মিটার উপর দিয়ে উড়ে যায়। GPS সনাক্তকরণ তথ্যের মাধ্যমে এই ড্রোনগুলো ১৫০ কিলোমিটার অবধি পথ অতিক্রম করে গন্তব্যে গিয়ে পৌঁছায় এবং পুনরায় ক্যাম্পে ফিরে আসে।

অর্ডার নেয়ার জন্য একটি ক্লিনিকের কিংবা একজন ডাক্তারের কেবল একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানোই যথেষ্ট। এই বার্তা অনুযায়ী জিপলাইন সেন্টার থেকে তৎক্ষনাৎ সরবারহ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যখন ড্রোনটি গন্তব্যে পৌঁছায় তখন এর নিচে ঢাকনা খুলে যায় এবং একটি প্যারাস্যুটের মাধ্যমে মালামাল নিচে নেমে আসে।

পুরোপুরি কর্মক্ষম অবস্থায় এই প্রকল্প ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের ৭০ লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করবে।

অভিজ্ঞতা বলছে, ড্রোনের মাধ্যমে সড়কের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমানে দ্রুত জরুরী সরবরাহ করা সম্ভব। বিশেষ করে, আফ্রিকার পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে যেখানে সড়ক পরিবহন অপ্রতুল কিংবা আবহাওয়া বৈরি।

আসলে এই আধুনিক যুগে মনুষ্যবিহীন বিমান বা ড্রোন এক বিস্ময়ের নাম। চালকবিহীন এই যানের সাহায্যে বিভিন্ন দেশে বোমা নিক্ষেপ করে বিশেষ সফলতা লাভ করেছে মার্কিন সামরিক জোট। কোন কোন ক্ষেত্রে ছোটখাটো মালামাল পরিবহন কিংবা নিরাপত্তা ক্যামেরা যুক্ত করে নিরাপত্তামূলক কাজেও ব্যবহার হয়েছে ড্রোনের।

ড্রোনের সাহায্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা এখন আর নতুন নয়। এরই মধ্যে ১ টনেরও বেশি ওজনের মালামাল বহন করল চীনের তৈরি একটি ড্রোন। দীর্ঘতম পথ পাড়ি দিয়ে ড্রোনটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভারী মালামাল পরিবহনে বিরাট এক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। দেশটির বৃহত্তম অনলাইন রিটেইলার জেডি ডটকম এধরনের ড্রোন ব্যবহার করে গ্রাহকের পণ্য পৌঁছে দিয়ে বেশ সাড়া ফেলেছে।

চীনের আলিবাবা দেশটির ই-কমার্সে শীর্ষ স্থান দখল করে আছে। তার নিকটতম প্রতিযোগী হিসেবে জেডি ডটকম শানঝি প্রদেশে এধরনের ড্রোন ব্যবহার করে তাক লাগিয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানটি ৩’শ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে শত শত রুটে মালামাল সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে কৃষি পণ্য শহরে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ড্রোন চলাচলের ক্ষেত্রে মেঘের আনাগোনা নিরূপনে নিজস্ব ডানা সেন্টার ছাড়াও ড্রোন ক্যাম্পাস ও গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম কার্গো ড্রোনের সফলভাবে পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে  চীনের এয়ারস্পেস ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রযুক্তি একাডেমি ,ড্রোনটির নাম Feihong-98 (FH-98) ।Feihong-98 (FH-98) এখন বিশ্বের সর্বোচ্চ আনম্যানড  ট্রান্সপোর্ট বিমান, এবং এটি 1.5 টন পর্যন্ত সর্বাধিক ভর বহনে সক্ষম।
এফএইচ -98 এর সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন 5.25 টন,সর্বাধিক ধারন ক্ষমতা 1.5 টন এবং 15 ঘনমিটার, 4,500 মিটারের উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারবে এবং প্রতি ঘণ্টায় ১৮০ কিমি গড় বেগ হলেও সর্বোচ্চ ১২০০ কিমি বেগে ও উড়তে সক্ষম।

ভবিষ্যতে, FH-98  জরুরী অবস্থার সময়ে এবং দুর্যোগে ত্রাণ সামগ্রী পরিবহনের পাশাপাশি দীর্ঘ দূরত্বের মালামাল সরবরাহেও ব্যবহার করা হবে ।

অ্যামাজন এর স্বয়ংক্রিয়  ডেলিভারি ড্রোনে কোনো মানুষের বিন্দুমাত্র সাহয্য ছাড়াই এই  একস্থান থেকে আরেক স্থানে প্যাকেজ বহন করে বিতরণ কেন্দ্র থেকে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম। এমনকি গ্রাউন্ডভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারিও করতে পারে এমন ড্রোন। স্টারশিপ একটি ছোট ছয় চাকার ড্রোন তৈরি করেছে যেটি দুই মাইলের ব্যাসার্ধে প্যাকেজ সরবরাহ করতে পারে।

ড্রোনের মাধ্যমে অনলাইনে কেনা পণ্য পৌঁছানোর এ ব্যবসা গুগলের একটি প্রজেক্ট, যা ‘প্রজেক্ট উইং’ নামে পরিচিত। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রম শুরু করেছে গুগল এবং তারা সফলও হয়েছে।

অন্যান্য ড্রোন পরিবহন সেবার থেকে প্রজেক্ট উইং নিজেদের সেবাকে ভিন্ন দাবি করছে। এর মূল কারণ, তাদের ড্রোনের নকশা ও মালামাল বহনে ও পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া। গুগলের ড্রোনগুলোতে হেলিকপ্টারের মতো প্রপেলার থাকবে ওপরের দিকে। গ্রাহক যেন ঘূর্ণায়মান প্রপেলর দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত না হয়, সে জন্য ড্রোনটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা থেকে স্বয়ংক্রিয় তার বা কর্ডের মাধ্যমে পণ্যটি নিচে নামিয়ে দেবে।

দুর্গম স্থানে জরুরি সেবা, যেমন—ত্রাণ, মেডিকেল সেবাদানের জন্যও গুগল এই ড্রোন ব্যবহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। পরিবহণে ড্রোন বিপ্লবের পাশাপাশি পরিবহনে আরো কিছু প্রাযুক্তিক সংযুক্তিতে যাচ্ছে বিশ্ব। তেমন কয়েকটি নিচে তুলে ধরা হলো।

স্বয়ংক্রিয় গাড়ি :

অটোনমাস বা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি নিয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অসংখ্য ক্যামেরা ও সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সড়কের চারদিকে নজর রেখে চলে। এভাবে চোখ-কান খোলা রাখে এমন গাড়ি মানুষের তুলনায় আরো ভালোভাবে বিপদ শনাক্ত করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এক স্টেরিও ক্যামেরা সড়কের ওপর বিভাজন রেখা, পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের ওপর নজর রাখে। রাডার সেন্সর গাড়ির আশপাশে ২০০ মিটার এলাকা পর্যবেক্ষণ করে। লেজার রশ্মি গাড়ির সামনের ১৮০ ডিগ্রি কোণে কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নথিবদ্ধ করে। পথে বাধাবিপত্তি ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে দূরত্ব মেপে চলে আলট্রাসাউন্ড সেন্সর।

নিক্ষেপিত শব্দতরঙ্গ আঘাত করে ফিরে এসে নিখুঁত পরিমাপ করে দেয়। সেই সঙ্গে জিপিএস সিস্টেমের সর্বশেষ মানচিত্র তো আছেই। এত সাজসরঞ্জাম থাকতে তো আর কোনো বিঘ্ন সম্ভবই নয়। তবে সমস্যা হলো, কুয়াশা থাকলে মানুষের মতোই ক্যামেরা একই রকম কম দেখতে পায়। প্রবল বৃষ্টি বা তুষারপাত হলে লেজার ও রাডারেও বিঘ্ন ঘটে।

এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রোবট গাড়িগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার রৌদ্রোজ্জ্বল সড়কে চালানো হয়েছে। কিন্তু এমন গাড়ি সেখানেও দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। আচমকা অন্ধকার কোণ থেকে এক পথচারী বেরিয়ে এসে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছে। তবে সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো না।

কম্পিউটারচালিত গাড়িকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে মানুষের মতোই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে হয়। তার জন্য সময় লাগে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি পরিবহনব্যবস্থাকে আরো নিরাপদ করে তুলবে। প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার কারণ মানুষের ত্রুটি। কম্পিউটারচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে এমনটা হতে পারে না। কারণ কম্পিউটার গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুমিয়ে পড়ে না, কখনো মাতাল হয় না, ক্রোধে ফেটে পড়ে না।

উড়ন্ত ট্যাক্সি :

সম্প্রতি একটি জার্মান কোম্পানি ভোলোকপটার নামে ১৮-রটার উল্লম্ব টেকঅফ হেলিকপ্টার তৈরি করেছে যা ৪৩ মাইল গতিতে ২ জন মানুষ নিয়ে আরামদায়কভাবে, ১৭ মাইল পাড়ি দিতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোন-আহ্বানকৃত ফ্লায়িং ট্যাক্সিগুলো রাইডার কোম্পানিগুলোকে চালানোর জন্য উবারের মতো করে দিতে পারে। এমনকি উবার নিজেই ২০২৩ সালের মধ্যে উড়ন্ত ট্যাক্সি পরিষেবা নিয়ে বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই নাসার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। এছাড়াও উড়োজাহাজ ইঞ্জিন ও বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলস-রয়েস উড়ুক্কু ট্যাক্সি বাজারজাত করার চিন্তাভাবনা করছে।

হাইপারলুপ :

টিউবের ভেতর দিয়ে একটি বাহন চলাচল করবে। প্রতি ঘণ্টায় ১২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলবে এই বাহনটি। এমনি একটি দ্রুতগতির যান নিয়ে কাজ করছেন টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক ২০১৩ সালে প্রথম হাইপারলুপের কথা জনসমক্ষে এনেছিলেন। তখন বলেছিলেন, লস এঞ্জেলেস থেকে স্যান ফ্রান্সিসকো, এই ৬১০ কিলোমিটার পৌঁছে যাবেন মাত্র আধা ঘণ্টায়। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ভার্জিন দুবাইয়ে হাইপারলুপ ওয়ান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

উড়ন্ত গাড়ি :

এক দশক ধরে এই উড়ন্ত গাড়ি আগমনের খবর জনপ্রিয় চেতনার অংশ হিসেবে রূপ নিয়েছে। তবে শিগগিরই আমরা সেই উড়ন্ত গাড়ির দেখা পাচ্ছি। গত বছরে মোনাকোয় এক গাড়ি প্রদর্শনীতে এরোমোবিল দেখিয়েছে উড়ন্ত গাড়ির মডেল। বোতাম চাপলেই দুটি দরজা দুপাশে ডানার মতো খুলে যাবে, এর পরই উড়তে শুরু করবে এই যান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই রাস্তায় দেখা যাবে উড়ন্ত গাড়িগুলোকে। তবে এটা সত্যিই উপভোগ্য হবে যদি এমন হয় যে একটি গাড়ি রাস্তায়ও চলছে আবার আকাশেও। যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে চলে যাওয়া যাবে এটিতে চড়ে।

উচ্চগতির রেল :

কয়েক দশক ধরে জাপানের নাগরিকরা বুলেট ট্রেনের অতি দ্রুত ভ্রমণ উপভোগ করছে, সেদিক থেকে চিন্তা করলে এই উচ্চগতির রেইল ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নয় বরং বর্তমান। সুপার ফাস্ট জাপান বুলেট ট্রেন যার গতি সর্বোচ্চ ৬০৩ কিমি. প্রতি ঘণ্টা। যদিও জাপানের মতো বিস্তৃত উন্মুক্ত জায়গার বাইরে এই উচ্চগতির ট্রেন এখনও করা সম্ভব হয়নি।

টেসলা সেমি :

বাণিজ্যিক ট্রাকগুলোর থেকেও নির্মিত হতে পারে আধুনিক জগতের অর্থনীতি, কিন্তু যারা চালাবে তথা ড্রাইভারদের শিগগিরই চাকরি চলে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কেননা এই টেসলা সেমি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। এটি একবার চার্জ করলে স্ট্যান্ডার্ড সব কার্গো নিয়ে ৫০০ কিমি. যেতে সক্ষম। ২০১৯ সালে ট্রাকটি’র বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। এটির বাজারমূল্য বলা হয়েছে ১,৮০,০০০ মার্কিন ডলার। এসব স্মার্ট, ইন্টারনেট-সংযুক্ত এবং স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পদ্ধতির মূল কেন্দ্র স্মার্ট শহর। আরও সুবিধাজনক, নিরাপদ ভ্রমণ এবং দ্রুততর ভ্রমণের জন্য মূলত ভবিষ্যতে স্মার্ট শহর প্রযুক্তি কোনভাবেই সম্ভব নয়।

শেষে সড়ক পরিবহন সংশ্লিস্ট আরেকটি দারুণ খবর দিচ্ছি। যা চলতি মাসের প্রথম দিকে প্রকাশ করেছে জাপান টাইমস।

খবরটি হলো- গাড়ি চালকদের একঘেয়েমি কাটাতে বেশ কয়েকটি ‘মিউজিক্যাল রোড’ তৈরি করেছে জাপান। ২০১৬-র হিসেব বলছে, গোটা দেশে ৩০টিরও বেশি মিউজিক্যাল রোড রয়েছে এখানে। মিউজিক্যাল রোডের স্রষ্টা জাপানের ইঞ্জিনিয়ার শিজুয়ো শিনোদা। তার পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিউজিক্যাল রোড তৈরি করেছে জাপান।

শব্দ তৈরীর জন্য রাস্তাতেই এক ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। কোথাও স্বল্প ব্যবধানে, কোথাও আবার বেশি ব্যবধানে রাস্তার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে সরু চ্যানেল কেটেছেন তারা। গাড়ি যখন ওই চ্যানেলগুলোর উপর দিয়ে যায়, তখন একটা কম্পন তৈরি হয়। আর সেই কম্পনেই সৃষ্টি হয় সুরের।

চ্যানেলগুলো এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, সেগুলো কখনও জাপানের লোকগাথা, কখনও জনপ্রিয় গানের সুর সৃষ্টি করে। রাস্তায় যেখানে স্বল্প ফারাকের চ্যানেল রয়েছে সেখানে দ্রুত লয়ের সুর সৃষ্টি হয়। আবার যেখানে বেশি ফারাকের চ্যানেল রয়েছে সেখানে ঢিমে লয়ের সুর সৃষ্টি হয়।

এই রাস্তাগুলো রয়েছে হোক্কাইডো, হিরোশিমা, কিমিনো, মাউন্ট ফুজি এবং গুনমাতে। কিমিনো শহরের মিউজিক্যাল রোড দিয়ে গেলেই বাজতে শুরু করে জাপানের প্রিয় লোকগাথা ‘নিয়াগেত গোরান ইয়োরু’। আবার গুনমা শহরের মিউজিক্যাল রোডে যেমন শোনা যায় সে দেশের জনপ্রিয় গান ‘মেমরিজ অব সামার’!

লেখক: ফজলুর রহমান, সহকারী রেজিস্ট্রার,চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)।

Print Friendly and PDF

———