চট্টগ্রাম, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মদেও ভেজাল !

চট্টগ্রামে আসল বোতলে নকল মদ, চক্রের পাঁচ সদস্য আটক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০১৯ ৫:২৭ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নকল বিদেশী মদ তৈরী করে বিক্রি করে আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটি বন্দরনগরীর বিভিন্ন হোটেল, বার ও ক্লাব থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে সেই বোতলে পানি, স্পিরিট, কোক, রং ও ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বিষাক্ত মদ তৈরি করছে ।

আর এ মদ পান করলে মারা যাবেন যেকোনও ব্যক্তি, হতে পারেন বিকলাঙ্গও। বুধবার (২১ আগস্ট) নকল মদ তৈরি চক্রের এক সদস্য ও তাদের চার সহযোগীকে গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেফতার পাঁচজন হলো- মো. নাছিম উদ্দিন (২৩), মো. ইকরামুল হক (৩২), স্বপন পাল (৫১), মো. ইমরান ফয়সাল (২১) ও জাহেদুর রহমান আরজু (৩০)। তাদের কাছ থেকে স্পিরিট, নকল লেভেল, ভেজাল মদ তৈরির বিভিন্ন ক্যামিকেল, বোতলের কর্ক জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৪ আগস্ট আকবরশাহ থানাধীন মালিপাড়া এলাকায় ভেজাল মদপানে বিশ্বজিৎ মল্লিক, শাওন মজুমদার জুয়েল ও উজ্জ্বল বণিক নামের তিন যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পরে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৩ আগস্ট বিশ্বজিৎকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে মদ সরবরাহ করে নাছিম, যে মদ পান করে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নাছিমসহ আরো কয়েকজন মিলে চট্টগ্রাম শহরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা বিদেশী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল মদ তৈরী করে বিক্রি করে আসছে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় চক্রের সদস্য নাছিম উদ্দিন (২৩), ইকরামুল হক (৩২) ও স্বপন পালকে (৫১) গতকাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেন সিএমপি’র উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক উল হক দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাছিমকে জিজ্ঞাসাবাদে নকল মদ তৈরি সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যে নকল মদ তৈরি প্র্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত চারজনকে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে রয়েছে স্পিরিট বিক্রেতা, মদের নকল লেবেল তৈরিকারক ও ছাপাখানার লোক।

তিনি আরো জানান, এক বোতল নকল মদ তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০০ টাকা। বোতলগুলো এমনভাবে প্যাকেট করা হয়, এতে বুঝার উপায় থাকে না এটি নকল নাকি আসল। এক বোতল নকল মদ তারা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে। মূলত অধিক লাভের আশায় তারা এসব কাজ করে আসছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ আবদুল ওয়ারীশ, পাহাড়তলী জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার পংকজ বড়ুয়া, আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও অভিযান পরিচালনা টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly and PDF

———