চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ , ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিহীনতা দমিয়ে রাখতে পারেনি ফটিকছড়ির ফয়সালকে

চোখে না দেখেও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পাস

মীর মাহফুজ আনাম,সিটিজি টাইমস প্রকাশ: ১৯ জুলাই, ২০১৯ ৯:৪২ : অপরাহ্ণ

২০১১ সাল। ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর লতিফ রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছেন আরফাতুল ইসলাম ফয়সাল।

স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সাথে মাঠে ক্রিকেট খেলছিলেন। হঠাৎ প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে বল চোখে আঘাত হানে তার। যে আঘাতে আরফাতের ধীরে ধীরে নিভে যায় সুন্দর এ পৃথীবির দেখার ক্ষমতা। একটি সময় এক চোখে দেখতে পারলেও অবশেষে সেটিও নষ্ট হয়ে যায়।

তখন থেকে দৃষ্টিহীন শব্দের সাথে পরিচয়। যে ছেলে ক্লাসের প্রথম সারিতে বসে নেতৃত্ব দিতেন এমন ছেলে পড়ালেখা থেকে দূরে সরে যেতে হবে তা মানতে নারাজ আরফাত। গ্রাম ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে গেলেন স্বপরিবারে। ভর্তি হলেন মুরাদপুর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্কুলে। ব্রেইল পদ্ধতিতে শুরু পড়ালেখা। সেখান থেকে দুই বছর পূর্বে এস.এস.সি পাস করলেন।

তখন শ্রুতি লেখক হিসেবে ছিলেন হামজারাগ রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এবার ভর্তি হলেন হাজেরা তুজ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। যেখান থেকে আরফাত এবার এইচ.এস.সিতে মানবিক বিভাগ থেকে পেলেন ৩.৬৭।

এবার শ্রুতি লেখক ছিলেন রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র আমিনুল ইসলাম ফরহাদ।

ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়েনের ফতেপুর তেলপারই গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র আরফাতুল ইসলাম ফয়সাল। বাবা নজরুল বলেন, ‘ছেলের পড়ালেখার প্রতি যে অধম্য প্রচেষ্টা, আগ্রহ তা দেখে তাকে কোনভাবে পড়ালেখা থেকে দূরে রাখিনি । আজ আনন্দে মনটা ভরে যাচ্ছে তার সাফল্য দেখে। ‘

গত পরশো যখন এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হলো, তখন আরফাত ভারতে। চেন্নাই শংকর নেত্রনালয় আই হসপিটালে তার চিকিৎসা চলছে।

পরীক্ষার পর সময় পেয়ে চোখের চিকিৎসা নিতে সেখানে অবস্থান করছেন। তার আশা আবারো তিনি পৃথিবীর আলো দেখতে পাবেন।
আরফাত বলেন, পরিবারের সাপোর্টের কারণে আজ এতোদূর আসা সম্ভব হয়েছে। অামি পড়ালেখা চালিয়ে আরো এগিয়ে যেতে চাই সামনের দিনগুলোতে।

Print Friendly and PDF

———