চট্টগ্রাম, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯ , ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দ দুর্ভোগে চালক, যাত্রী ও পথচারীরা

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৫ জুলাই, ২০১৯ ২:০৫ : অপরাহ্ণ

টানা বৃষ্টিতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে দেশের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। সড়কের মিরসরাই অংশের ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছোট বড় গর্তের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চালক, যাত্রী ও পথচারিদের।

দুইদিন ধরে বৃষ্টি মধ্যে কিছু কিছু অংশে ইট সুরকি দিয়ে মেরামত করা হলেও অতিরিক্তি বৃষ্টির কারণে তা বেশীক্ষণ টিকছেনা। তা গাড়ি চাকার সাথে উঠে আবার সড়ক পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের ঢাকামুখী আপ লাইনের মিরসরাই অংশে ছোট বড় গর্তে গর্তে ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে সড়ক।

সড়কে ছোট বড় গর্তের কারনে যানবাহন চলাচলে এদিকে যেমন গতি কমে আসছে অন্য দিকে সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি, ফাটছে গাড়ির চাক্কা। এতে চালক ও যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে।

আবার সড়কের গর্তে ও খালের মতো স্থানে জমে থাকা পানির কারণে চলাচলে অসুবিধায় পড়ছে পথচারীরা।

গর্তগুলো ভরাট করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ইট বালি ঢালা হলেও মিরসরাই অংশের বড়দারোগার হাট থেকে ধুমঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গাড়ির চাকার সাথে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন্ স্থানে দেবে গিয়ে সড়কে খালের মতো সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫টি গাড়ি বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

সড়কের বড়দারোগারহাট, বড়কমলদহ, ছোট কমলদহ বাইপাস, রেদোয়ান ফিলিং ষ্টেশনের সামনে, নিজামপুর কলেজ এলাকা, হাদিফকিরহাট, নয়দুয়ারিয়া, বড়তাকিয়া, বাদামতলীর ফকিরটোলা এলাকা, মিরসরাই সদর, মিঠাছড়া বাইপাস, সোনাপাহাড়, বিএসআরএম গেইট ও বারইয়ার হাটের কিছু অংশে সড়কের বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

চারলেন সড়ক নির্মানের সময় বড় বড় বাজার এলাকায় সড়কে কার্পেটিং না করে আরসিসি ঢালাই দিয়ে সড়ক নির্মান করা হয়। এখন মিরসরাই সদর, মিঠাছড়া, হাদিফকির হাট, বারইয়ার হাট এলাকায় আরসিসি ঢালাই ফেটে ও দেবে গর্তের সৃষ্টি হয়ে আছে।

সৃষ্টি হওয়া গর্তে দুইদিন আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীরা ইট বালি দিয়ে ভরাট করে। কিন্তু ইটবালি দেয়ার একদিন না যেতেই গাড়ির চাকার সাথে ইটবালি গুলো উঠে আসছে।

চট্টগ্রাম থেকে মাল বোঝাই করে ঢাকাগামী ট্রাকের চালক জিন্নাহ বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী পুরো সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে। স্বাভাবিক গতিতে গাড়িও চালানো যাচ্ছে না। সময় মতো গন্তব্যস্থলে পন্য নিয়ে পৌছানো যাচ্ছে না।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে মালামাল নিয়ে যায় হাজার হাজার ট্রাক, লরি। এছাড়া নিত্যদিন ছোট বড় প্রায় ২৫ হাজার গাড়ি চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে।

এই সড়কে নিয়মিত প্রাইভেটকার চালক নুরুল আলম বলেন, সড়কের উঠে আসা পাথর গুলোর কারণে ছোট বড় সব গাড়ির চাকা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, চাকা ফেটে যাচ্ছে। দ্রুত গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছেনা। আর পানির জমে যাওয়ার কারণে গর্তও দেখা যাচ্ছে না। কয়েকটি স্থানে মেরামত করা হলেও তা টিকছেনা।

নিজামপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী এয়াছির আরাফাত জানান, মহাসড়কে গর্তে ও খালের মতো হয়ে থাকা স্থানে পানি জমে থাকায় ওই পানি চলাচলরত গাড়ির চাকার পথচারীদের গায়ে এসে পড়ছে। সড়কে জমে থাকা পানির কারণে সড়কের পাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে কিংবা খোলা ছোট গাড়িতে চলাচলও অসুবিধা হয়ে পড়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সীতাকুন্ড) সহকারি প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম জানান, বর্ষার কারণে সড়ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সাময়িক ভাবে ইট বালি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ স্থান মেরামত করা হয়। বৃষ্টি বন্ধ হলে স্থায়ী ভাবে সড়কের মেরামত কাজ করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী জুলফিকার আহম্মদ মহাসড়কের গর্তে সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে বলেন, অতিরিক্ত বর্ষার কারণে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হতে পারে। এটি কোন বিষয় নয়। ভারী যানবাহন ও ওভারলোড সড়ক নষ্ট হওয়ার একটি কারণ। তবে প্রতিদিনেই সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

Print Friendly and PDF

———