চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ , ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই প্রতিনিধি প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০১৯ ৮:১২ : অপরাহ্ণ

টানা ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে মিরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলে আমনের বীজতলা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ভেঙ্গে গেছে উপজেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক।

জানা গেছে, উপজেলার করেরহাট, হিঙ্গুলী, জোরারগঞ্জ, কাটাছরা, মিঠানালা, মিরসরাই সদর, মিরসরাই পৌরসভা, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার কাঁচা, পাকা, আধাপাকা রাস্তাসহ গ্রামীণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন ও জন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তির কবলে পড়েছে। আবার কোন কোন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার কৃষক সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে লাগানোর জন্য আমনের ৪৯ জাতের রোপা ছিলো। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে। এখন নতুন করে বীজ ধান ক্রয় করে আবার চারা তৈরি করতে হবে।

ফেনাপুনি এলাকার বাসিন্দা, মোহাম্মদ রাশেদ, আব্দুল আজিজ, শিবলু বলেন, এই গ্রামে আর থাকতে মন চাইছেনা। বৃষ্টি হলে বসতঘরে পানি ঢুকে যায়। থাকা, রান্না করতে অনকে কষ্ট হয়। দ্রুত খালগুলো সংস্কার না করলের আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবেনা। তারা খালগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।

১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির ফিরোজ জানান, পাহাড়ি ঢলে তাঁর ইউনিয়নে আউশ রোপা, বিভিন্ন সবজি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাইজগাঁও, খাজুরিয়া, বড়কমলদহ, গাছবাড়িয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক, নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে নিজামপুর রেল ষ্টেশন সড়ক ও হাবিব উল্লাহ ভূঁইয়া সড়ক দিয়ে মানুষ চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।

করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ফেনী নদীর পানির কারণে তার ইউনিয়নে কয়েক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তবে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি।

অপরদিকে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পাহাড় ধসের আতংক, আশংকা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পাহাড়ী এলাকা করেরহাট, খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, জোরারগঞ্জ, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পাহাড়িসহ প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।

জানা গেছে, খাল পার্শ্ববর্তী হাট-বাজারগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। এসব স্থাপনা ও দোকানপাটের কারণে বিভিন্ন খালে পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে। ফলে প্রত্যক বছর নিন্মাঞ্চল এলাকাগুলো পানির নিচে ডুবে যায়। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে পানি নিস্কাশনের পথ না রেখে বিভিন্ন শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে এবার আউশ চাষ লক্ষ্যমাত্রা পৌছাইনি। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে আমনের রোপা লাগাবেন কৃষকরা। তবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান এখনো জানা যায়নি।

Print Friendly and PDF

———