চট্টগ্রাম, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ , ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড

প্রকাশ: 15 July, 2019 12:33 : AM

শেষের বিন্দুতে এতে চূড়ান্ত ক্রিকেটীয় বিনোদন উপহার দিল বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে স্নায়ুক্ষয়ী এক লড়াইয়ে পর্দা নেমেছে টুর্নামেন্টটির। রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল কাঁপিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকে। সুপার ওভারের বুঁকে কাঁপন ধরানো সমাপ্তি থামিয়েছে ইংল্যান্ডের অপেক্ষার প্রহর। ক্রিকেট দুনিয়ায় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের নতুন সূর্যোদয় হলো অবিশ্বাস্য নাটকীয়তার পর।

সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। মূল ম্যাচের মতো সুপার ওভারেও দুই দলের রান সমান হয়েছিল। কিন্তু বাউন্ডারি বেশি মারায় ট্রফি জিতে যায় মরগানের দল। আগের তিনবার খালি হাতে ফিরলেও চতুর্থবারের চেষ্টায় শিরোপার গৌরব অর্জন করলো ইংল্যান্ড। আর টানা দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে হারলো নিউজিল্যান্ড।

সুপার ওভারে ১৬ রানের টার্গেট পায় নিউজিল্যান্ড। আর্চারের প্রথম বলটি ছিল ওয়াইড। পরের পাঁচ বলে জিমি নিশাম ১৩ রান (২, ৬, ২, ২, ১)। শেষ বলে স্ট্রাইকে আসেন গাপটিল। দরকার ছিল ২ রান। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন গাপটিল। ১৫ রানেই থামে নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারে আগে ব্যাট করে বোল্টের ওভারে বেন স্টোকস- জস বাটলারের ব্যাটে ১৫ রান তোলে ইংল্যান্ড।

উত্তেজনার বারুদে ঠাসা ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। জবাবে স্টোকসের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরও ২৪১ রানেই অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যানেড্র ওপেনিং জুটি ভেঙে যায় ২৮ রানে। জ্যাসন রয় ১৭ রান করে ফিরেন। বেয়ারস্টো, রুট, মরগানরাও উইকেটে সংগ্রাম করেছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে তারা তিনজন আউট হলে ৮৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ইংল্যান্ড। বেয়ারস্টো ৩৬, রুট ৭, মরগান ৯ রান করেন। পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরেন স্টোকস ও বাটলার। তাদের ১১০ রানের জুটি জয়ের স্বপ্ন দেখায় ইংল্যান্ডকে। ৪৫তম ওভারে জুটি ভাঙেন ফার্গুসন।

টিম সাউদির দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরেন ৫৯ রান করা বাটলার। ১৯৬ রানে বাটলারের বিদায়ের পর ক্রিস ওকসও (২) থিতু হতে পারেননি। পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচ। ইংল্যান্ডের ভরসা হয়ে টিকে ছিলেন স্টোকস। শেষ ১২ বলে দরকার ছিল ২৪ রান। ৪৯তম ওভারে প্লাঙ্কেট আউট হন ১০ রান করে। ওই ওভারের শেষ বলে আর্চারও (০) জিমি নিশামের শিকার হন।

রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল ইংল্যান্ডের। দুই বল ডট হয়। স্ট্রাইকে থাকা স্টোকস তৃতীয় বলে মারেন ছক্কা। চতুর্থ বলে দৌড়ে ২ রান নেন স্টোকস। ওভার থ্রোয়ে আসে চার রান। ২ বলে দরকার ৩ রান। পঞ্চম বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন আদিল রশিদ। শেষ বলে ১ রান পূর্ণ করতে পারলেও পরের রান নিতে গিয়ে রানআউট হন মার্ক উড। খেলা গড়ায় সুপার ওভারে। বেন স্টোকস অতিমানবীয় ৮৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের ফার্গুসন, নিশাম ৩টি করে, হেনরি-গ্র্যান্ডহোম ১টি করে উইকেট পান।

এর আগে টস জয়ী নিউজিল্যান্ড ৭ম ওভারেই গাপটিলের উইকেট হারায়। টুর্নামেন্ট জুড়ে রান খরায় থাকা গাপটিল ১৯ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন নিকোলস ও অধিনায়ক উইলিয়ামসন। তাদের জুটি ভাঙেন প্লাঙ্কেট। ৩০ রান করে ফিরেন উইলিয়ামসন। তার বিদায়ের পর হাফ সেঞ্চুরি করা নিকোলসকেও ফেরান প্লাঙ্কেট। বোল্ড হওয়ার আগে নিকোলস ৫৫ রান করেন।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। তবে ছোট ছোট জুটিতে এগিয়েছে তাদের সংগ্রহ। একপ্রান্ত আগলে টম ল্যাথাম ৪৭ রান করেছেন। তার ব্যাটেই দুইশ পার হয় কিউইদের স্কোর। রস টেইলর ১৫, জিমি নিশাম ১৯, গ্র্যান্ডহোম ১৬ রান করেন। ইংল্যান্ডের প্লাঙ্কেট, ক্রিস ওকস ৩টি করে, আর্চার-উড ১টি করে উইকেট নেন।

Print Friendly and PDF

———