চট্টগ্রাম, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ , ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার তুরস্ককে এস-৪০০ ব্যবহার না করতে বলল যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজি টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০১৯ ১১:১৫ : পূর্বাহ্ণ

রাশিয়া থেকে তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কড়া বিরোধিতা করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নানা হুমকি উপেক্ষা করে এস-৪০০ এর প্রথম চালান আসতেই তুরস্ককে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ প্রকল্প থেকে বহিষ্কার করে যুক্তরাষ্ট্র।

এফ-৩৫ প্রকল্প থেকে বহিষ্কার করেই বসে নেই যুক্তরাষ্ট্র। এবার তারা তুরস্ককে এস-৪০০ ব্যবহার না করার প্রস্তাব দিয়েছে। মুলা হিসেবে ঝুলিয়েছে মুক্ত বাণিজ্যের প্রস্তাব। যদিও তুরস্কের রপ্তানি পণ্যের ওপর আকাশচুম্বী করারোপ করে দেশটির অর্থনীতিকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

এস-৪০০ সমরাস্ত্রটিকে বিবেচনা করা হয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বাধুনিক সংস্করণ। ১২ জুলাই আঙ্কারার বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে রাশিয়ার তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রথম চালান।

আনাদলু জানায়, রাশিয়া থেকে কেনা এস-৪০০ ব্যবহার না করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ব্যাপারে বিরোধিতা করে আসছিল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের নানা বাধা সত্ত্বেও দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে সক্ষম হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ ব্যাপারে তুরস্ককে দোষারোপ করছেন না। তিনি তার পূর্ববর্তী ওবামা প্রশাসনকে এর জন্য দায়ী করেন।

ট্রাম্প বলেন, ওবামা প্রশাসন প্রচুর সমস্যা সৃষ্টি করে গিয়েছে। এটিও সে সময়েরই সমস্যা যা বড় ধরনের বিপর্যয় বলা যায়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফোন করেন। তিনি অনুরোধ করেন, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি যাতে তুরস্ক সক্রিয় না করে এবং অব্যবহৃত অবস্থায় রাখে।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য শুরু করতে চায়। এস-৪০০ অব্যবহৃত অবস্থায় রেখে দিলে আশা করি তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে না।

দুই দিন আগেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও জানান, মস্কো থেকে কেনা এস-৪০০ যাতে তুরস্ক ব্যবহার না করে সেটি চায় যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, “আমরা মাসের পর মাস এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেছি। আমরা তুরস্ককে বলেছিলাম, এই পদক্ষেপ আমাদের সঙ্গে এফ-৩৫ কেনার চুক্তি বিরোধী।”

এ ছাড়া রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ না কিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পরামর্শ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। যদিও তুরস্ক প্রথম প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাই কিনতে চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এতে রাজি হয়নি।

ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রাশিয়ার এস-৪০০ সংগতিপূর্ণ হবে না বলে দাবি করে আসছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনা হলে তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপেরও হুমকি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, পশ্চিমাদের তৈরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেও সর্বাধুনিক এই রুশ এস-৪০০। এটির রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপণ কিংবা অন্যান্য সেন্সরের ক্ষমতা অনেক বেশি।

তারা জানান, এই রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার ৬০০ কিলোমিটার এলাকার ওপর নজরদারি করতে পারে। এটির ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণেও অনেক নির্ভুল।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এস-৪০০ একই সময়ে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। একই সময়ে ৭২টি রকেট ছুড়তে সক্ষম এটি। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে দূর পাল্লা, মাঝারি পাল্লার এমনকি স্বল্প পাল্লার রকেট ছোড়া যায়। এটি নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর।

Print Friendly and PDF

———