fbpx

চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯ , ৮ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বেহাল সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা

সংস্কারের উদ্যোগ নেই বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের

আখতার হোসাইন প্রকাশ: ৯ জুলাই, ২০১৯ ৭:১৬ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের প্রবেশদ্বার বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে নতুন ব্রীজ পর্যন্ত সড়কটি নতুনরূপে সংস্কার করলেও এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি প্রবেশদ্বার টার্মিনাল অংশে। টার্মিনালের অংশে সড়কের ইট সুটকী উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সাথে যোগ হয়েছে বর্ষার পানি। ফলে বড় বড় গর্ত গুলোকে মনে হচ্ছে জলাশয়। এ ছাড়াও গত মাসের পিছ ঢালাই করা সড়কের রাহাত্তারপুল অংশে বড় বড় কানাখন্দে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বহদ্দারহাট-ভেল্লাপাড়া ক্রসিং পর্যন্ত ছয় লেইনে সড়ক নির্মানের কাজ প্রায় শেষের দিকে। কালামিয়া বাজার ও রাহাত্তারপুলে দুটি বাইপাস ফ্লাইওভারের কাজ বাকী। এ দুটি পরিপূর্ণ হলে এই সড়কটি আধুনিক নগরীর রূপরেখা হয়ে থাকবে। কিন্তু এই সড়কের পিছ ঢালাইয়ের কাজ এখনো চলমান কিছু দিন আগে ঢালাই দেয়া সড়কটি দ্রুত ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন জাগে অনিয়ম ও নিন্মমানের সারঞ্জাম দিয়ে কোন মতে কাজ শেষ করার। রাহাত্তারপুল এর দু পাশে সড়কটিতে বড় বড় কানাখন্দে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ে পথচারীরা।

এদিকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সড়কটি মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে হলেও চট্টগ্রামের প্রাচীনতম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালটি ঝির্ণসির্ণ অবস্থায় এখনো রয়ে গেছে। টার্মিনালে গেলেই মনে হয় কোন এক পরিত্যাক্ত সম্পত্তি। গাড়ী গুলো রাখা হয়েছে যত্রতত্রভাবে। নোংরা ও ভাঙ্গা সড়ক গুলোতে দূর্ঘটনা ঘটছে সব সময়। চলাচলের অযোগ্য টার্মিনাল এলাকাটি। অথচ এ টার্মিনালই হচ্ছে চট্টগ্রামে প্রাচীনতম টার্মিনাল।

বাস চালক আবদুর রহীম বলেন, আমাদের কষ্টের শেষ সীমা নেই। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগে ৩ থেকে সাড়ে ৩ঘন্টা। ভাঙ্গা, কানাখন্দ ইত্যাদির কারণে ৫ থেকে ৬ঘন্টা সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় সড়ক সরো, ট্রাফিক জ্যামসহ নানা কারণে এ সময় লেগে যাচ্ছে। তবে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের বেহাল অবস্থা দেখে আমাদের গাড়ী নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে না। গাড়ী যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি আমাদের চলাচলেও অসুবিধা হয়। এই কারণে টার্মিনালে যেতে চায় না অনেক যাত্রীও।

স্কুলে নিয়ে যাওয়া অভিভাবক শিল্পী রানী বলেন, বাচ্ছা নিয়ে এ সড়ক দিয়ে যেতে ভয় লাগে। গত সপ্তাহে রাহাত্তারপুল এলাকায় গর্তে পড়ে উল্টে যায় সিএনজি। মা ও ছেলে দু জনই আহত হয় বলে জানান তিনি।

ব্যবসায়ী নেতা আহমদ করিম বলেন, রাহাত্তারপুল এর সড়কটি নির্মান করে এখনো কাজ শেষ করেনি। কিন্তু বিটুমিন উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। যা দেখে মনে হবে এখানে কোন কাজই হয়নি। এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ কাজের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এক শ্রেণির ঠিকাদার।

বাহদ্দারহাট বাস টার্মিনালটি আধুনিকায়ন সময়ে দাবী হলেও কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। ইট বিছানো অবস্থায় প্রায় ২০ বছর। এই টার্মিনালের প্রধান সড়কটিও কোন দিন পিছ করা হয়নি বলে দাবী করেন পরিবহন শ্রমিক নেতা আবদুর রব। তিনি বলেন, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালটি দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে কোন গাড়ী এ টার্মিনালে আসতে চাইবে না।

Print Friendly and PDF

———