চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ , ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম শহরের নিম্নাঞ্চল, অন্তহীন দুর্ভোগ

প্রকাশ: 8 July, 2019 4:07 : PM

টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরের নিম্নাঞ্চল পানিতে ভাসছে। ফলে মানুষকে অন্তহীন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। নগরীর বিভিন্নস্থানে দেওয়াল, গাছপালা ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে, এখনও হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, টানা বর্ষণে রবিবার সন্ধ্যা থেকে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। বিভিন্ন সড়কে পানি জমে গিয়ে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। মূল সড়কগুলোতে যানজট তৈরি হয়েছে।

এছাড়া, অলিগলিতেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাসা-দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, কাঁচাবাজারেও। সার্বিকভাবে বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা গড়ে ওঠায় এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে  বলে জানান নগরবাসী।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভারে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকার তথ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি নিয়ে ফ্লাইওভার অতিক্রম করতে গিয়ে অনেকে দুর্ভোগে পড়েছেন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সোমবারও সারাদিন ভারি ও টানা বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আছে।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রবিবারের টানা বর্ষণে নগরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবর্তক মোড়, মুরাদপুর মোড়, মুরাদপুর মোহাম্মদপুর এলাকা, বহদ্দারহাট, চকবাজার, ২নং গেট, হালিশহর, বাকলিয়া, নয়া বাজার, বৌবাজার, কেবি আমান আলী রোডসহ বিভিন্ন এলাকা মধ্যরাতে পানিতে তলিয়ে যায়।

অবিরাম বর্ষণে এসব নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ বাসার নিচ তলা পানিতে তলিয়ে যায়। দুর্ভোগ সঙ্গে নিয়েই রাত পার করতে হয়েছে এসব এলাকার প্রায়ই বাসিন্দাদের। বক্সির হাট সোনাপট্টি এলাকার কয়েকশ’ ঘর পানিবন্দী ছিল।

তাছাড়া নগরের অন্যান্য এলাকায় কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি জমে যায়। আবার অনেক সড়ক ও উপসড়কেও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ফলে দুর্ভোগ, ভোগান্তি ও কষ্টময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ঈদের মার্কেটগামী ক্রেতা এবং সাধারণ নাগরিকদের। এর সঙ্গে ছিল অসহনীয় যানজট।

২ নং গেট এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী সুজন বলেন, গত রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় কাজ শেষে প্রথমে যাই কাতালগঞ্জ। পানির কারণে ফিরে আসতে হয়েছে। তারপর প্রবর্তক মোড়। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর দুই নম্বর গেটের বাদশা মিয়া পেট্রল পাম্পের সামনে পানি এবং জট।

কোনো রকম ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা হয়ে জিইসির পূর্ব মোড়, সিএন্ডবি কলোনির পানি মাড়িয়ে আলফালাহ গলির বাসায় আসি। তখনো বাসার সামনের গলিতে হাঁটু পানি।

নগরের বাদুরতলার বাসিন্দা হারুনুর রশিদ বলেন,  রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে মুষলধারে বৃষ্টিতে বাসার ভেতরে পর্যন্ত পানি ঢুকে যায়। রাতভর ঘুমানো দূরের কথা, উল্টো বাসার ভেতর থেকে পানি ফেলতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি শৈবাল দাশ সুমন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নগরীর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানি জমে থাকার তথ্য পেয়েছেন তিনি। জামালখানে একটি গাছ ভেঙ্গে সড়কের একপাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। নগরীর ঘাটফরহাদ বেগ এলাকায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সীমানা দেওয়াল ভেঙ্গে পাহাড়ি মাটি ও পানি এসে পড়েছে সড়কে।

তিনি আরো জানান, টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। মাইকিং অব্যাহত আছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড় থেকে এ পর্যন্ত ৩৬১টি পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। আরও যারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে, তাদের সরানোর প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পৃথক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এখনও প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

Print Friendly and PDF

———