চট্টগ্রাম, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯ , ২৭শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মিরসরাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা প্রভাবশালীর দখলে

এম মাঈন উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০১৯ ৮:৪৪ : অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা জবর দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎপরতায় কয়েকবার জায়গার মাপ হলেও প্রভাবশালীর কবল থেকে মুক্ত হয়নি। উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের উত্তর তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। সর্বশেষ গত ১৬ জুন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক ও জায়গার মাপ হলেও তা মানতে রাজি নয় দখলদার আনিস উল্লাহ নয়ন। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে টয়লেট। দুই পাশে জায়গা দখল করে বর্ধিত করা হচ্ছে বসতবাড়ি। ম্যানেজিং কমিটি সূত্রে জানা গেছে বিদ্যালয়ের ২শতক জমি বেদখল হয়ে আছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। ১৯৭০ সালে এলাকার ওমর খান স্কুল এর জন্য ১০ শতক জমি দান করেন। দুই শতক জমি দখল করে বাড়ি করেছেন আনিস উল্লাহ নয়ন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, মাঠে দখল করে টয়লেট করেছেন। ফলে একদিকে যেমন স্কুলের মাঠ দখল হয়ে আছে এবং অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গত বছর আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলাম। তার প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড মাপ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ঝিমিয়ে পড়ে। আবার ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগ নিয়েছে জায়গা পরিমাপ করার জন্য। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে বিদ্যালয়ের জায়গাটি প্রভাবশালীর কবল থেকে মুক্ত করা যাবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, স্কুলের জায়গার স্পষ্ট দলিল রয়েছে। এতদিন প্রভাব খাটিয়ে সে জায়গা দখল করেছেন। এখন আমরা চাচ্ছি স্কুলের জায়গা স্কুল ফিরে পাক।

এই বিষয়ে আনিস উল্লাহ নয়ন জানান, স্কুলের কোন জায়গা আমি দখল করিনি। নুর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি থেকে ২০০৩ সালে ওই জায়গা আমি ক্রয় করেছি। আমার কাছে স্পষ্ট কাগজপত্র রয়েছে।

এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, উত্তর তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা স্কুলের জায়গা দখলের বিষয়টি আমাকে অবহিত করার পর আমি জায়গা উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। গত ১৬ জুন দখলদারদের সাথে বৈঠক করার পর কিছু জায়গা উদ্ধার হয়েছে। সেই জায়গায় পিলারও স্থাপন করা হয়েছে। আরো কিছু জায়গা আনিস উল্লাহ নয়ন নামের এক ব্যক্তির দখলে রয়েছে। সে তাঁর কাছে জায়গার বৈধ কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবী করেন। সেগুলো সংগ্রহের জন্য আরো কিছুদিন সময় চেয়েছেন। তবে আমি যতটুকু জেনেছি ওই জায়গা স্কুলের।

Print Friendly and PDF

———