চট্টগ্রাম, সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ , ১০ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঈদ ফিরতি যাত্রীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই!!

সাখাওয়াত হোসাইন ফরহাদ প্রকাশ: ১১ জুন, ২০১৯ ২:৪৩ : অপরাহ্ণ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়,যানবাহন নৈরাজ্য,যাত্রীদের নাজেহাল হওয়া থেকে শুরু করে আরো কত কি!

এরই মধ্যে অন্যতম হলো বাঁশখালী।বাঁশখালী উপজেলা থেকে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াতের মূল মাধ্যম হলো বাস এবং সিএনজি।এই সুযোগে বাস/সিএনজি দুটোই নিয়মিত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার গলাকাটা ভাড়া আদায় করে বলে অভিযোগ আছে।

এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার বিভিন্ন সড়কে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩/৪ গুণ বেশি ভাড়া,সাথে আছে যানবাহন সংকট,যাত্রী হয়রানি ইত্যাদি কিন্তু দেখার নেই কেউ!

এদিকে ঈদ ফিরতি যাত্রীদের হয়রানি মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গেছে।বাঁশখালীর প্রধান সড়কে ১০০/১৫০/২০০/৩০০ টাকার নিচে কোনো যাত্রীই নিচ্ছেনা গাড়ীগুলো।

এতো বেশি ভাড়া নেওয়ার পরেও নিচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী,দেখলে মনে হয় যেন মালবাহী ট্রাক।যার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যে দুরত্বে স্বাভাবিক ভাড়া ৫০-১০০ টাকা হওয়ার কথা সেখানে ১২০-৩০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করছে।গাড়ী সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে নারী,পুরুষ সবাইকে।

ভাড়া বেশি কেন প্রতিবাদ করলে উলটা যাত্রীদেরকে নাজেহাল হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।মান সম্মানের ভয়ে এসব অনিয়ম মেনে দিচ্ছে অনেক যাত্রী।

যাত্রীদের অভিযোগ মালিক সমিতি এবং চালকরা সিন্ডিকেট করে তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে, টিকেট কাউন্টার বন্ধ করে রেখেছে,কাউকেই টিকেট দিচ্ছেনা,নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গিয়ে গাড়ী ছাড়ছে বেশি ভাড়া আদায়ের জন্য।

মোহাম্মদ হোসাইন নামের এক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, টিকেট কাউন্টার থেকে ঘুষ দিয়ে টিকেট নিতে হচ্ছে,অন্যথা টিকেট দিচ্ছেনা।আরেক যাত্রী জাহিদুল হক তালুকদারের অভিযোগ গুনাগরী থেকে টিকেট কাটলেও টিকেটের নাম্বারের কোনো গাড়ী সে পায়নি।টিকেট কাউন্টারে বিষয়টা জানালে কাউন্টার কর্তৃপক্ষ তাকে নাজেহাল করে ছাড়ে।

অন্যদিকে প্রধান সড়কের লোকাল গাড়ীগুলোও নিচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।জলদী থেকে চাম্বল বাজার যেখানে জনপ্রতি স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা আর এখন তার মূল্য বেড়ে দিগুণ ৪০টাকা।এভাবে করে প্রত্যেকটা স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে এবং যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে।

শুধু প্রধান সড়ক নয়,উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলতেও একই ভাবে চলছে ভাড়া বাণিজ্য।২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা,৫০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা!! গুনাগরী থেকে মোশাররফ আলী হাটের স্বাভাবিক ভাড়া ২০ টাকা হলেও ঈদ উপলক্ষে নিচ্ছে ৩০/৪০ টাকা করে,এছাড়া অভ্যন্তরীণ রিজার্ভ যাতায়াতেও দিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এ বিষয়ে যানবাহন চালকদের সাথে কথা বললে তারা জানিয়েছেন-শুধুমাত্র ঈদ আসলেই তারা ২০/৩০ টাকা ভাড়া বেশি নেই বকশিস হিসাবে,এর বাইরে স্বাভাবিক ভাড়ায় নেয়।

বাঁশখালী সড়কের সিএনজি চালক আবু তাহের(২৩) বলেন-বছরে দুইটা ঈদে যাত্রীরা যদি আমাদের ২০/৩০ টাকা বেশি না দেয় তবে আর কখন দিবে।অন্যদিকে যাত্রীরা জানিয়েছেন-চালকরা এসব কথা বললেও কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন,সুযোগ পেলেই তারা গলাকাটা ভাড়া আদায় করে যাত্রীদের কাছ থেকে।

এসব অনিয়ম,যাত্রী হয়রানী,পরিবহন নৈরাজ্য নিয়মিত হওয়ার পরেও প্রশাসন এবং কর্তা ব্যক্তিদের চুপ থাকা নিয়েও আছে নানান প্রশ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস চালক বলেন-ঈদে,কোরবানে যে অতিরিক্ত ভাড়া নেয় তা থেকে উপরের লেভেলে অর্ধেক দিয়ে দিতে হয়।উপরের লেভেল বলতে প্রশাসন কিংবা কোনো নেতা কিনা তা জানতে চাইলে মুখ খুলতে রাজি হয়নি সেই চালক।

যাত্রী সাধারণের অভিযোগ-এই সমস্যা শুধু ঈদ নিয়ে নয়,প্রতিনিয়ত তারা পরিবহন নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে।বহুবার বিষয়গুলো প্রশাসন, এমপি, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা লেভেলে জানানো হলেও তারা কোনো কিছুই করেনি।এখন শুধুই প্রশ্ন আসলেই কি এসব সমস্যার সুরাহা হবে নাকি এভাবে চলতে থাকবে?

Print Friendly and PDF

———