চট্টগ্রাম, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ , ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঐক্যফ্রন্টের কলেবড় বাড়াতে চান ড. কামাল

সিটিজি টাইমস ডেস্ক প্রকাশ: ৬ জুন, ২০১৯ ২:৫৩ : অপরাহ্ণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কোনো বিভক্তি নেই দাবি করে এই জোটের কলেবর আরও বাড়িয়ে এই বছরই আন্দোলন জোরদারের কথা বলেছেন কামাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে এক ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের একথা বলেন বিএনপিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের শীর্ষ নেতা।

‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের’ আন্দোলনে আরও দলকে জোটে ভেড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়ে কামাল বলেন, “আমাদের লক্ষ্য জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা, আর সকল দল যারা সমমনা, তাদেরকে সঙ্গে নেয়া। সেই কাজটা আমাদের অব্যাহত আছে এবং আরও জোরদার করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধরনের একটা স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন এবং সচেতন রাজনৈতিক দলগুলো যারা আছে, তাদের ঐক্য অপরিহার্য।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ও গণফোরাম ছাড়াও রয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য।

ওই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর ফের সংসদে যোগ দেওয়ায় বিএনপির আগের জোটে যেমন ভাঙন দেখা দিয়েছে, তেমনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী জোট ছাড়ার হুমকি দিয়েছেন, অসন্তোষ জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে কি না- এই প্রশ্নে কামাল বলেন, “মোটেই না। আমরা আগামী ১২ তারিখে বসছি আবার। আমাদের কথা হলো, আমরা বসে পুরো কৌশলটা ঠিক করে মাঠে নেমে যাই, ঐক্য আরও সুসংহত করি। উনি (কাদের সিদ্দিকী) আমাদের ঐক্যের অন্যতম সাথী। তিনি প্রশ্নগুলো করতে পারেন। আমরা খোলামন নিয়ে ঘণ্টা-দুয়েক তার সাথে আলাপ করেছি। আমরা ১২ তারিখ বসে ইতিবাচক সিদ্ধান্তে আসতে পারব।”

গণফোরাম সাধারণ সম্পদকের পদ থেকে মোস্তফা মহসিন মন্টুকে সরিয়ে দেওয়ার পর তিনিও অসন্তুষ্ট বলে খবর বেরিয়েছে। তিনিও সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

বেইলি রোডে গণফোরাম সভাপতির বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের শেষের দিকে মন্টু উপস্থিত হলে কামাল বলেন, “আরে আরে মন্টু সাহেব, ঈদ মোবারক, ঈদ মোবারক।”

শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর গণফোরামের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া তার আসন ছেড়ে দিয়ে নতুন কমিটির সদস্য মন্টুকে বসতে দেন।

গণফোরামের সঙ্গে মন্টুর দূরত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে দলের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, “আপনারা মিডিয়া এটা তৈরি করেছেন।” কামাল হোসেন তখন হাসতে হাসতে বলেন, “আপনারা তৈরি করেন, এবার এটা থেকে আপনারা মুক্ত করতে পারেন।”

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। এই দাবি সরকার না মানলে পরবর্তী কর্মকৌশল কী হবে- সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে কামাল বলেন, তারা কর্মকৌশল তৈরি করছেন। ঐক্য সংসুহত করে এই বছরেই আন্দোলন শুরুর করতে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক যে ব্যবস্থা হওয়ার কথা, তা থেকে দেশের আজ মানুষ বঞ্চিত। সে জিনিসটাকে যত দ্রুত ফিরিয়ে আনা যায়, দেশের নিয়ন্ত্রণ জনগনের হাতে নিয়ে আসা যায়, এটাই আমাদের মূল্য লক্ষ্য।”

কামাল বলেন, “আমি মনে করি, এই বছরের মধ্যে জনগণের মধ্যে ঐক্যকে আরও সুসংহত করে দেশে আরও প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কাজে আমাদের সবাইকে কাজে নেমে (দাবি) আদায় করতে হবে।”

গণফোরামের নেতা আবু সাইয়িদ, মহসিন রশিদ, সিদ্দিকুর রহমান, আহমেদ আমীন আফসারী, লতিফুল বারী হামিম এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly and PDF

———