fbpx

চট্টগ্রাম, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ , ৫ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পারস্পরিক আস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাংলাদেশ ও চীনের

ইউএনবি প্রকাশ: ২২ জুন, ২০১৯ ৩:৫৬ : অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ও চীন তাদের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বকে’ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন চীন সফরে যাবেন, তখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

১-৫ জুলাই আনুষ্ঠানিক সফরে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বেইজিং। ঢাকায় একজন সিনিয়ন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছে। তিনি জানান, দুই পক্ষই গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ করছে।

চীন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর বার্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সামার দাভোস নামে পরিচিত এই বৈঠকটি ১-৩ জুলাই ডালিয়ানে অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর বেইজিংয়ে শেখ হাসিনার এটা প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।

তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, এবং প্রধানমন্ত্রী লি কাকিয়াংয়ের সাথে বৈঠক করবেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। এই সফরে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

২ জুলাই ডালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ও এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান প্রফেসর ক্লাউজ শোয়াবের সাথে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার একটি বিশেষ বৈঠকের কথা রয়েছে।

ডাব্লিউইএফ ডালিয়ানে কোঅপারেশান ইন দ্য প্যাসিফিক রিম অধিবেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবেও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার জন্য বেইজিং এরই মধ্যে পাঁচটি সুনির্দিস্ট প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ‘কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা’ শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ঝাং জুও কসমস ডায়ালগে সম্প্রতি বলেছেন, “প্রথমত, আমাদেরকে কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা গভীর করতে হবে, এবং এরপর আমাদেরকে অর্থনৈতিক সমন্বয় আরও গভীর করতে হবে”।

তিনি অন্যান্য যে সব প্রস্তাব রেখেছেন, সেগুলো হলো বিনিময় বাড়ানো, নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা জোরদার, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা।

তিনি বলেছেন যে, চীন বাংলাদেশের সাথে মিলে উত্তম অংশীদার হতে চায় যারা সমতা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে কাজ করবে।

এবারের সামার দাভোসের প্রতিপাদ্য হলো ‘লিডারশিপ ৪.০: বিশ্বায়নের নতুন যুগের উত্তরাধীকার’। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ কিভাবে মোকাবেলা করা হবে, সেটি আলোচনার জন্য এই সম্মেলনে বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল থেকে প্রতিটি খাতের নেতাদের এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে।

বিশ্বায়ন ৪.০ বৈশ্বিক অর্থনীতির সেই মৌলিক পরিবর্তনগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করে যেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি, সম্প্রদায় এবং দেশকে অস্বাভাবিকভাবে বদলে দিচ্ছে।

এই পরিবর্তনগুলোর চালিত হচ্ছে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং প্রযুক্তিগত বাধার দ্বারা। এগুলো মোকাবেলার জন্য প্রয়োজন ভিন্ন রকমের নেতৃত্ব, এবং বিশ্বায়নের এই নতুন যুগে সেজন্য নতুন ধরণের সহযোগিতা রপ্ত করতে হবে।

Print Friendly and PDF

———